কৃষিকাজ (Agriculture):

বুৎপত্তিগত অর্থঃ Agriculture শব্দটি সৃষ্টি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ ‘Ager’ যার অর্থ খেত বা জমি ও ‘Culture’ যার অর্থ পরিচর্যা থেকে ; বাংলায় ‘কৃষিকাজ’ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত ধাতু ‘কৃষ্’ থেকে, যার অর্থ ‘কর্ষণ করা’ ।

সংজ্ঞাঃ সাধারণভাবে জমি কর্ষণের মাধ্যমে শস্য উৎপাদন করাকেই কৃষিকাজ বলা হলেও বৃহৎ অর্থে শস্য উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য চাষ, পশুপালন প্রভৃতিও কৃষিকাজের অর্ন্তভুক্ত । জিমারম্যানের মতে, জীবজগতের জন্ম ও বৃদ্ধির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে মানুষ স্থায়ীভাবে নিজের চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ দ্রব্য উৎপাদন করার যে চেষ্টা করে, তাকেই কৃষিকাজ (Agriculture) বলে ।

বৈশিষ্ট্যঃ কৃষিকাজ (Agriculture) – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –

  • ক) এটি অন্যতম প্রাথমিক অর্থনৈতিক কার্যাবলী ।
  • খ) এটি প্রাচীনকাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসা একটি গতিশীল প্রক্রিয়া ।
  • গ) কৃষক ও কৃষিমজুর এই প্রক্রিয়ার প্রধান পরিচালক ।
  • ঘ) সার, বীজ, কীটনাশক, জলসেচ, কৃষি যন্ত্রপাতি প্রভৃতি এই ব্যবস্থার ইনপুট ও উৎপাদিত ফসল হলো আউটপুট ।
  • ঘ) খাদ্য মানুষের প্রধান মৌলিক চাহিদা; সেটি মেটানোর লক্ষেই এটি পরিচালিত হয় ।
  • ঙ) দৈশিক পরিবর্তনের সাথে সাথে এর বৈশিষ্ট্যাবলী পরিবর্তিত হয় ।

গুরুত্বঃ কৃষিকাজ (Agriculture) – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –

  • ক) খাদ্যের যোগানঃ ধান-গম প্রভৃতি খাদ্যফসল, চা-কফি প্রভৃতি পানীয় ফসল, শাক-সবজী, দুধ-মাছ-মাংসসহ পৃথিবীর যাবতীয় খাদ্যের যোগান মেটে কৃষিকাজের মধ্য দিয়ে ।
  • খ) কর্মসংস্থানঃ কৃষিকাজ পরিচালনার মধ্য দিয়ে জনসংখ্যার এক বিরাট অংশের কর্মসংস্থান ঘটে । প্রাথমিক কার্যাবলীভুক্ত মানুষের বেশীরভাগই কৃষিকাজের সাথে যুক্ত এবং তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অন্যান্য প্রাথমিক কার্যাবলীভুক্তদের থেকে বেশী ।
  • গ) কাঁচামালের যোগানঃ অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যাবলীর জন্য প্রয়োজনিয় কাঁচামালের একটি বিরাট অংশ আসে কৃষিকার্যজনিত উৎপাদন থেকে । পাটশিল্পের পাট, বস্ত্রবয়ন শিল্পের কার্পাস তুলা, চা শিল্পের চা প্রভৃতি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ।
  • ঘ) পশুখাদ্যের যোগানঃ মানুষের খাদ্যের যোগান দেওয়ার পাশাপাশি আলফা-আলফা, হে, যব, ভুট্টা প্রভৃতি বিভিন্নধরনের খাদ্যশস্যের যোগান কৃষিকাজের মধ্য দিয়ে মেটানো হয় ।
  • ঙ) জিডিপি বৃদ্ধিঃ কৃষিপ্রধান দেশগুলির জাতীয় আয়ের মূল উৎসই হলো কৃষিকাজ । উন্নত ও আধুনিক কৃষিব্যবস্থা কৃষিনির্ভর দেশগুলির শক্তিশালী জিডিপি-র ভিত্তি ।
  • চ) বিদেশি মুদ্রা অর্জনঃ খাদ্যের চাহিদা সারা পৃথিবীর জুড়েই । গম, ধান, চা, কফি প্রভৃতি আন্তর্জাতিক চাহিদাসম্পন্ন ফসল রপ্তানি করে পৃথিবীর বহুদেশ প্রচুর বিদেশি মুদ্রা অর্জন করে ।
  • ছ) শিল্পের বিকাশঃ কৃষিকাজের প্রসারলাভ হলে কৃষিনির্ভর শিল্পগুলিরও বিকাশ ঘটে; যেমন – সার শিল্প, পাম্পনির্মাণ শিল্প, কীটনাশক শিল্প, পরিবহন শিল্প প্রভৃতি ।
« অপেক্ষাকৃত পুরনো জমা