যান্ত্রিক আবহবিকারের উষ্ণতার তারতম্যজনিত প্রক্রিয়াসমূহ ?

যান্ত্রিক আবহবিকারের উষ্ণতার তারতম্যজনিত প্রক্রিয়াসমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ?

0
যান্ত্রিক আবহবিকারের উষ্ণতার তারতম্যজনিত প্রক্রিয়াসমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ?

আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই, আজ আমরা অধ্যায়ন করবো ভূগোলের একটি গুরত্বপূর্ন প্রশ্ন নিয়ে যে প্রশ্নটি পরীক্ষার জন্য খুবই উপযোগী। এই প্রশ্নটি অধ্যায়ন করলে ছাত্রছাত্রীরা খুব সহজেই ভালো নম্বর অর্জন করতে পারবে। যান্ত্রিক আবহবিকারের উষ্ণতার তারতম্য এই প্রশ্নটি নিয়ে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

উষ্ণতার তারতম্যজনিত যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রক্রিয়াসমূহ: ভূপৃষ্ঠে দিন ও রাতের উয়তার তারতম্যের জন্য শিলাসমূহ প্রধানত তিনটি প্রক্রিয়ায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়। উন্নতার পরিবর্তনে যান্ত্রিক আবহবিকারের এই তিনটি প্রক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচয় নীচে দেওয়া হল।

প্রস্তুর চাঁই বিচ্ছিন্নকরণ:

সংজ্ঞা:

শিলা তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় উয় মরু অঞ্চলে দিনের বেলা প্রখর সূর্যের তাপে শিলা স্তূপের ওপরের অংশ অধিক প্রসারিত হয় এবং রাত্রি বেলা তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হয়। শিলার পৃষ্ঠদেশের তুলনায় নিম্নের অংশের সংকোচন-প্রসারণ কম হয়। দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত সংকোচন-প্রসারণের ফলে অত্যধিক পীড়নে শিলাস্তর উল্লম্ব ও অনুভূমিক দারণ বা ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে এই শিলা দারণ বা ফাটল বরাবর স্তম্ভের বা চাঁই-এর আকারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ইটের আকার ধারণ করলে তাকে প্রস্তুর চাঁই বিচ্ছিন্নকরণ বলে।

পদ্ধতি:

মরু অঞ্চলে দৈনিক উয়তার প্রসর অত্যন্ত বেশি। শিলা তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় মরু অঞ্চলে দিনের বেলায় সূর্যরশ্মি দ্বারা শিলাসমূহের ওপরের স্তর অধিক উত্তপ্ত হয়ে আয়তনে বেড়ে যায়। কিন্তু শিলার নীচের অংশ ততটা উত্তাপ না পাওয়ায় কম প্রসারিত হয়। শিলার উপরের স্তর ও নিম্নস্তরের মধ্যে উয়তার এই পার্থক্যের জন্য অনেক সময় শিলাস্তর আড়াআড়ি ও লম্বালম্বি ফেটে যায় এবং ধীরে ধীরে ওই ফাটল বরাবর চাঁই-এর আকারে শিলাটি ভেঙে পড়ে। শিলার এভাবে খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার প্রক্রিয়াটিকে প্রস্তর চাই বিচ্ছিন্নকরণ বা পিণ্ড বিশরণ বা খন্ডীকরণ প্রক্রিয়া বলে।

অবস্থান:

গ্রীষ্মপ্রধান মরু জলবায়ু অঞ্চলে উষ্ণতার তারতম্যজনিত কারণে প্রস্তর চাই বিচ্ছিন্নকরণ প্রক্রিয়া বেশি ঘটে।

শিলা:

ব্যাসল্ট জাতীয় শিলায় এই প্রকার আবহবিকার বেশি ঘটে।

ভূমিরূপ:

  • এই প্রকার আবহবিকারের ফলে শিলায় অজস্র সমান্তরাল ও উল্লম্ব ফাটলের সৃষ্টি হয় বলে সিঁড়ির ন্যায় ধাপ সৃষ্টি হয়। যেমন- ডেকান ট্যাপ ।
  • এই প্রকার আবহবিকারের ফলে পাহাড়ের মাথাগুলি চ্যাপ্টা প্রকৃতির হয়ে থাকে।

শঙ্কমোচন:

সংজ্ঞা:

এর ইংরাজি শব্দ ‘Exfoliation’ (এক্সফোলিয়েশন)। যাকে বাংলায় শল্কমোচন’ বলা হয়। ‘শঙ্কমোচন’ কথার অর্থ হল ওপরের ছাল বা খোসা বা খোলস খসে পড়া। এই প্রকার খনিজের সংমিশ্রণে গঠিত শিলাগুলি অর্থাৎ সমকেন্দ্রিক স্তরবিশিষ্ট শিলায় উয়তার ক্রমাগত বৃদ্ধি ও হ্রাসজনিত কারণে শিলার ওপরের স্তরটি পিঁয়াজের বা বাঁধাকপির ন্যায় মূল দেহ থেকে খসে খসে পড়াকে শল্কমোচন বলে।

শিলা:

গ্রানাইট শিলায় এই প্রকার আবহবিকার বেশি দেখা যায়।

ভূমিরূপ:

শল্কমোচনের ফলে পাহাড়ের মাথাগুলি গোলাকার আকৃতি প্রাপ্ত হয় বলে একে গোলাকার বা উপগোলাকার আবহবিকার বলে। এর ফলে গম্বুজাকার ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ:

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের স্টোন মাউন্টেন।

ক্ষুদ্রকণা বিশরণ:

সংজ্ঞা:

শিলা একাধিক খনিজের সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় সূর্যতাপে খনিজগুলির সংকোচন, প্রসারণ, পীড়ন প্রভৃতি আলাদা মাত্রায় হয়। ফলে শিলার অসম সংকোচন ও প্রসারণের কারণে শিলা ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হলে, তাকে ক্ষুদ্রকণা বিশরণ বলে। শিলা এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয় বলে, এই প্রক্রিয়াকে কণাভবনও বলা হয়।

বৈশিষ্ট্য:

  • এই প্রক্রিয়া একাধিক খনিজ সমন্বিত শিলাতে বা বিসমসত্ত্ব শিলাতে দেখা যায়।
  • এই ধরনের আবহবিকারের শিলায় অসম পীড়নের সৃষ্টি হয়।
  • এই ধরনের আবহবিকারে পিস্তল থেকে গুলি ছোড়ার মতো শিলা ফাটার আওয়াজ শোনা যায়।

অঞ্চল:

মরু অঞ্চলে সন্ধ্যাবেলায় এই প্রকার আবহবিকার কার্যকরী হয়ে থাকে। 

বালি বা ধূলিকণার সৃষ্টি:

এই প্রকার আবহবিকারের ফলে মরু অঞ্চলে বালি ও বেলেমাটির সৃষ্টি হয়।

 উপরোক্ত অংশ থেকে কোনো আক্ষেপ থাকলে অবশ্যই মন্তব্য করুন এবং প্রশ্নের বিষয়টি আপনার পছন্দ হলে আপনার বন্ধুদের কাছেও শেয়ার করতে ভুলবেন না। প্রশ্নটি পরে অধ্যায়ন করার ক্ষেত্রে বা নিজের কাছে সংরক্ষিত করার জন্য সরাসরি (PDF) ফাইল ডাউনলোড করুন ধন্যবাদ।