বায়ুর বহন কার্যের প্রক্রিয়াসমূহ-ভাসমান প্রক্রিয়া,লম্ফদান প্রক্রিয়া ও গড়ান প্রক্রিয়াঃ

মরুভূমি অঞ্চলে প্রবল গতিসম্পন্ন বায়ু তার প্রবাহের সাথে বালিরাশি এক স্থান থেকে আর এক স্থানে বহন করে নিয়ে যায় । একে বায়ুর বহন কার্য বলে।বায়ুর গতিবেগ, বালুকণার আকার ও ভারের উপর বায়ুর বহন কার্য নির্ভর করে । এটি তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় । যথা –

ক) ভাসমান প্রক্রিয়াঃ মরুভূমি অঞ্চলে প্রবল বায়ুপ্রবাহের সাথে অতিসুক্ষ্ম (<০.০০৫ মিমি ব্যাসযুক্ত) বালিকণাসমূহ ভাসতে ভাসতে স্থানান্তরিত হয় । এই প্রক্রিয়াকে ভাসমান প্রক্রিয়া বলে ।          

খ) লম্ফদান প্রক্রিয়াঃ লম্ফদান – এর অর্থ ‘লাফ দেওয়া’ । অর্থাৎ,মরুভুমি অঞ্চলে মাঝারি আকৃতির (০.০৫-২ মিমি ব্যাসযুক্ত) বালিকণাগুলি প্রবল বায়ুপ্রবাহের টানে ভুমি থেকে কিছুটা উপরে উঠে আবার মাটিতে পড়ে ঠোক্কর খায় । এই ঠোক্কর খাওয়ার পর এগুলি আবার কিছুটা লাফিয়ে ওঠে এবং আবার মাটিতে পড়ে ঠোক্কর খায় । এইভাবে ক্রমশঃ বালির স্থানান্তর ঘটে । এই প্রক্রিয়াকে লম্ফদান প্রক্রিয়া বলে ।

গ) গড়ান প্রক্রিয়াঃ মরুভূমি অঞ্চলে বৃহৎ আকারের (>২ মিমি ব্যাসযুক্ত) বালুকণাগুলিকে বায়ু উপরে তুলতে পারেনা । এইসকল বালিকণা বা নুড়ি, কাঁকর প্রভৃতি বায়ুপ্রবাহের প্রবল টানে বা ধাক্কায় ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে অগ্রসর হয় । এই প্রক্রিয়াকে গড়ান প্রক্রিয়া বলে ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.