‘I’ – আকৃতির নদী উপত্যকা (‘I’ – shaped River Valleys) ও ক্যানিয়ন (Canyons):

☻‘I’ – আকৃতির নদী উপত্যকা (‘I’ – shaped River Valleys):
সংজ্ঞাঃ
বৃষ্টিহীন শুষ্ক মরু পার্বত্য অঞ্চলে বা মালভূমি অঞ্চলে নদীতে পর্যাপ্ত জলের অভাবে পার্শ্বক্ষয় প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলেও ক্রমাগত নিম্নক্ষয়ের ফলে খাঁড়া পাড়বিশিষ্ট ইংরাজী ‘I’ – আকৃতির যে সংকীর্ণ নদীখাতের সৃষ্টি হয়, তাকে ‘I’ – আকৃতির নদী উপত্যকা (‘I’ – shaped River Valleys) বলে ।

উদাঃ সিন্ধু নদের হিমালয়ে প্রবাহপথে কিছু কিছু স্থানে ‘I’ – আকৃতির নদী উপত্যকা দেখা যায় ।

বৈশিষ্ট্যঃ  ‘I’ – আকৃতির নদী উপত্যকা – র বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ –
ক) ‘I’ – আকৃতির নদী উপত্যকার পার্শ্বদেশ খুব খাঁড়াই প্রকৃতির হয় ।
খ) পর্যাপ্ত জলের যোগান কম এমন অঞ্চলেই মূলত দেখা যায় ।
গ) কোমল শিলাস্তরের আধিক্য ‘I’ – আকৃতির নদী উপত্যকা গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে ।
ঘ) প্রধানত পার্শ্বক্ষয়রহিত নিম্নক্ষয়ের প্রভাবে সৃষ্টি হয় ।

☻ক্যানিয়ন (Canyons):
বুৎপত্তিগত অর্থঃ ‘Canyon’ একটি স্প্যানিশ শব্দ, যার অর্থ পাইপ বা নল

সংজ্ঞাঃ বৃষ্টিহীন শুষ্ক মরু পার্বত্য অঞ্চলে বা মালভূমি অঞ্চলে নদীতে পর্যাপ্ত জলের অভাবে পার্শ্বক্ষয় প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলেও ক্রমাগত নিম্নক্ষয়ের ফলে খাঁড়াপাড়বিশিষ্ট ইংরাজী ‘I’ – আকৃতির উপত্যকা আরও সুগভীর, খাঁড়াই ও সংকীর্ণ হয়ে পড়লে তাকে ক্যানিয়ন (Canyons) বলে ।

উদাঃ USA – এর কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর দীর্ঘতম ক্যানিয়ন, যেটি প্রায় ৪৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও স্থানে স্থানে ২০০০ মিটারেরও বেশী গভীর ।

বৈশিষ্ট্যঃ  ক্যানিয়ন – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) এটি মূলত শুষ্ক অঞ্চলে দেখা যায় ।
খ) পার্শ্বদেশ খুবই খাঁড়াই ও সংকীর্ণ প্রকৃতির হয় ।
গ) নদীর জলতল উপত্যকার খুবই নীচে অবস্থান করে ।
ঘ) কোমল শিলার আধিক্য ক্যানিয়ন গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে ।
ঙ) ক্যানিয়ন গঠনকারী নদীগুলি খুবই খরস্রোতা প্রকৃতির হয় ।