হিমবাহের ক্ষয়কার্য, ক্ষয়কার্যের প্রক্রিয়া ও সৃষ্ট ভূমিরূপসমূহ (Erosional Works of Glacier, Methods & Created Landforms):

☻উৎপত্তিস্থল থেকে সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে হিমবাহ তার প্রবাহপথ সংলগ্ন অঞ্চল জুড়ে ভূ-ভাগকে ক্ষয় করতে করতে অগ্রসর হতে থাকে । একে হিমবাহের ক্ষয়কার্য (Erosional Works of Glaciers) বলে । হিমবাহ অধ্যুষিত উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিরূপের পরিবর্তন প্রধানত হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলেই সংঘটিত হয়ে থাকে । হিমবাহের ক্ষয়কার্যের মাত্রা নির্ভর করে হিমবাহের আয়তন ও বরফের গভীরতার উপর । একটি পুরু বরফের স্তূপবিশিষ্ট বিশাল হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই অপেক্ষাকৃত পাতলা ও ক্ষুদ্র হিমবাহ অপেক্ষা বেশী হয় । হিমবাহ অধ্যুষিত উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল পরবর্তীকালে অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা কমবেশী প্রভাবিত হলেও সেখানে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ছাপ স্পষ্ট থেকে যায় ।

হিমবাহের ক্ষয়কার্যের পদ্ধতি / প্রক্রিয়াঃ হিমবাহ মূলত তিনটি পদ্ধতিতে ক্ষয়কার্য করে থাকে । যথা –
ক) উৎপাটন প্রক্রিয়া বা প্লাকিং (Pucking): হিমবাহের প্রবাহপথে যদি শিলাখন্ড উঠে থাকে, তাহলে হিমবাহের চাপে সেই শিলাখন্ড ক্রমেই আলগা হয়ে উৎপাটিত হয় । এছাড়াও, হিমবাহের প্রবাহপথে অবস্থিত পর্বতগাত্রের ফাঁটলগুলির ভিতরে জল প্রবেশ করলে তা পরবর্তীতে জমে পুনরায় বরফে পরিনত হয় । এর ফলে ফাঁটলে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয় এবং ফাঁটলগুলি ক্রমশ বেড়ে যেতে থাকে । এইভাবে একসময় হিমবাহের চাপে পর্বতগাত্র থেকে ঐ ফাঁটল বরাবর শিলাখন্ড সহজেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা হিমবাহের উৎপাটন প্রক্রিয়া বা প্লাকিং (Pucking) নামে পরিচিত ।
খ) অবঘর্ষ প্রক্রিয়া (Abrasion): উৎপাটন প্রক্রিয়ায় উৎপাটিত শিলাখন্ডগুলি হিমবাহ বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় হিমবাহের তলদেশে থাকা শিলাখন্ডগুলি হিমবাহের নিম্নদেশকে এবং পাশে থাকা শিলাখন্ডগুলি পার্শ্বদেশকে ক্ষয় করতে করতে এগিয়ে চলে । একে হিমবাহের অবঘর্ষ প্রক্রিয়া (Abrasion) বলে ।
গ) ঘর্ষন প্রক্রিয়া (Attrition): হিমবাহ দ্বারা উৎপাটিত শিলাখন্ডগুলি হিমবাহের সাথে বাহিত হওয়ার সময় পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে আরও ছোট ছোট শিলাখন্ডে ভেঙে যায় । এই প্রক্রিয়াকে হিমবাহের ঘর্ষণ প্রক্রিয়া (Attrition) বলে ।

☻সৃষ্ট ভূমিরূপসমূহঃ হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি হলো –
ক) সার্ক (Cirque) বা করি (Corrie)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
খ) হিমশিরা বা এরিটি (Arete)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
গ) পিরামিড চূড়া (Pyramidal Peak)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
ঘ) U-আকৃতির উপত্যকা (U -Shaped Valley)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
ঙ) রসে মতানে (Roche Moutonne)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
চ) ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
ছ) ক্র্যাগ টেল (Crag & Tail)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
জ) কর্তিত শৈলশিরা বা কর্তিত স্পার (Truncated Spur)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
ঞ) ফিয়র্ড (Fiord)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
ট) হিমসিঁড়ি বা হিমসোপান (Glacial Steps)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
ঠ) কুঁজ (Whale Back)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে] প্রভৃতি ।

***পরবর্তী পোষ্টগুলিতে উপরিউক্ত ভূমিরূপগুলি সম্পর্কে পর্যায়ক্রমে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো ।

8 comments

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s