Category Archives: Uncategorized

ভূমিকম্পের ছায়া বলয় (seismic Shadow Zone):

  • সংজ্ঞাঃ ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ১০৪° থেকে ১৪০° কৌণিক দূরত্বের অঞ্চলে ভূমিকম্পের কোন তরঙ্গই পৌছাতে পারে না, তাই এই অঞ্চলকে ভূমিকম্পের ছায়া বলয় বা ছায়া অঞ্চল (Seismic Shadow Zone) বলে । প্রফেসর উইসার্ট, বেনো গুটেনবার্গ প্রমুখ ভূ-কম্পবিদ ভূমিকম্পের এই ছায়া বলয়ের উপস্থিতি নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন ।
  • তরঙ্গহীনতার কারনঃ আমরা জানি, ভূমিকম্পের গৌণ তরঙ্গ বা S – তরঙ্গ (Secondary Wave) তরল পদার্থের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হতে পারে না এবং পাশাপাশি প্রাথমিক তরঙ্গ বা P – তরঙ্গও (Primary Wave) তরল পদার্থে প্রতিসরিত হয় । ফলে ১০৪° থেকে ১৪০° ভূকেন্দ্রিক কৌণিক দূরত্বের মধ্যে তরল পদার্থের উপস্থিতি ও ঘনত্বের তারতম্যের জন্য S – তরঙ্গ এই অঞ্চলে প্রবেশমাত্র বিনষ্ট হয় এবং P – তরঙ্গ প্রতিসরিত হয়ে এই অঞ্চল এড়িয়ে প্রবাহিত হয়; যে কারণে এই অঞ্চল তরঙ্গহীন ভাবেই থেকে যায় ।
  • বৈশিষ্ট্যঃ ভূমিকম্পের ছায়া বলয় – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
    • এই অঞ্চল ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের প্রায় বিপরীত দিকে অবস্থিত ।
    • এই অঞ্চলের ভূকেন্দ্রিক কৌণিক বিস্তার ১০৪° থেকে ১৪০° ।
    • উপকেন্দ্র থেকে এই অঞ্চলের রৈখিক দূরত্ব প্রায় ১১৫০০ কিমি থেকে ১৫৯৪০ কিমি ।
    • এই অঞ্চলে বিভিন্ন ঘনত্বের তরল পদার্থের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয় ।
    • সিসমোগ্রাফে এই অঞ্চলে কোনওপ্রকার তরঙ্গের উপস্থিতি ধরা পড়ে না ।
    • P – তরঙ্গ এই অঞ্চলে প্রতিসরিত ও S – তরঙ্গ এই অঞ্চলে বিনষ্ট হয় । 
    • সৃষ্ট ছায়া অঞ্চলের পরিমাণ P তরঙ্গ দ্বারা প্রায় ২৬.৫ % এবং S – তরঙ্গ দ্বারা প্রায় ৩৭ % । 

« অপেক্ষাকৃত পুরনো জমা