☻সংজ্ঞাঃ হিমবাহের অত্যাধিক চাপ ও ঘর্ষনের ফলে উপত্যকার উপরের অংশ খুব খাড়াই হয় এবং মধ্যভাগে অনেকটা গর্তের মতো অবনত জায়গার সৃষ্টি হয় । এর ফলে পুরো উপত্যকাটির আকৃতি অনেকটা হাতল ছাড়া ডেক চেয়ারের মতো দেখতে হয় । এইরকম আকৃতিবিশিষ্ট উপত্যকাকে ফরাসি ভাষায় সার্ক (Cirque) এবং ইংরেজিতে কুম (Cumbe) বা করি (Corrie) বলে । উপত্যকা হিমবাহের উৎসক্ষেত্রে ক্ষয়কাজের ফলে সার্কের সৃষ্টি হয় । পার্বত্য উপত্যকাটি যতদিন পর্যন্ত হিমবাহ দ্বারা চাপা পড়ে থাকে

বিস্তারিত

☻ বার্গস্রুন্ড (Bergschurnd): পর্বতগাত্রে সঞ্চিত হিমবাহের পৃষ্ঠদেশ থেকে তলদেশীয় শিলাদেশ পর্যন্ত প্রসারিত ফাঁটলকে বার্গস্রুন্ড (Bergschurnd) বলে । উদাঃ উর্দ্ধ হিমালয় পার্বত্য এইপ্রকার ভূমিরূপ অঞ্চলে দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ বার্গস্রুন্ড – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ- ক) বার্গস্রুন্ড কেবলমাত্র গ্রীষ্মকালেই পরিলক্ষিত হয় । খ) এদের উপস্থিতি ওপর থেকে বোঝা যায় না । এই জন্য কখনও কখনও বার্গস্রুন্ডগুলি পর্বতারোহিদের কাছে চরম বিপদসংকুল হয়ে ওঠে । ☻ক্রেভাসেস (Crevasses): হিমবাহ যখন উঁচু পার্বত্য উপত্যকা বেয়ে

বিস্তারিত

☻উৎপত্তিস্থল থেকে সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে হিমবাহ তার প্রবাহপথ সংলগ্ন অঞ্চল জুড়ে ভূ-ভাগকে ক্ষয় করতে করতে অগ্রসর হতে থাকে । একে হিমবাহের ক্ষয়কার্য (Erosional Works of Glaciers) বলে । হিমবাহ অধ্যুষিত উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিরূপের পরিবর্তন প্রধানত হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলেই সংঘটিত হয়ে থাকে । হিমবাহের ক্ষয়কার্যের মাত্রা নির্ভর করে হিমবাহের আয়তন ও বরফের গভীরতার উপর । একটি পুরু বরফের স্তূপবিশিষ্ট বিশাল হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই অপেক্ষাকৃত পাতলা ও ক্ষুদ্র হিমবাহ

বিস্তারিত

☻পৃথিবীর দুই মেরু অঞ্চলে ও উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে অত্যধিক ঠান্ডা । এইসব অঞ্চলে তুষারক্ষেত্র ও হিমবাহ দেখা যায় । অত্যধিক শীতের জন্য পর্বতের উঁচু চুড়ায় ও মেরু অঞ্চলের বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্প সারা বছর তুষারে জমে থাকে । পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের প্রধান কাজ ভূমি ক্ষয় করা অর্থাৎ, ১. হিমবাহের ক্ষয়কার্য (Erosional Works Of Glacier)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে] এবং ক্ষয়ীভূত শিলাচূর্ণ বহন করা অর্থাৎ, ২. হিমবাহের বহনকার্য (Transportation of Glacier) । পার্বত্য অঞ্চল থেকে

বিস্তারিত

☻বুৎপত্তিগত অর্থঃ ল্যাটিন শব্দ ‘Glacies’ ও ফরাসী শব্দ ‘Glace’ শব্দের অর্থ ‘বরফ’ যা থেকে ‘Glacier’ বা ‘হিমবাহ’ শব্দটি এসেছে । সংজ্ঞাঃ হিমরেখার উপরে থাকে তুষারক্ষেত্র । সেখানে যে তুষারপাত হয় তা প্রথম অবস্থায় আলগা আলগা হয়ে পড়ে থাকে । ফরাসি ভাষায় একে নেভে (Neve) বলে । এই তুষারকণা ক্রমশ পরস্পরের সঙ্গে মিশে বরফের স্তরে (Ice Sheet) এ পরিণত হয় । ক্রমশ তা আরও জমাট বেঁধে ও আয়তনে বড় হয়ে বরফের

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞা: পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পার্বত্য অঞ্চলে হিমরেখার উপরে অর্থাৎ তুষারক্ষেত্রের জমাট বাঁধা বরফ অত্যন্ত ধীরগতিতে পর্বতের ঢাল বেয়ে নীচের দিকে নেমে আসতে থাকে । কখনো কখনো পাহাড়ের ঢালে চলমান এইরকম হিমবাহ থেকে বিশাল বরফের স্তূপ ভেঙে প্রচন্ড বেগে নীচের দিকে পড়তে দেখা যায় । একে হিমানী সম্প্রপাত (Avalanche) বলে । উদাঃ 1961 সালে পেরুতে আন্দিজ পবত থেকে নেমে আসা হিমানী সম্প্রপাতটি এতদকালের সবথেকে বড় ও ভয়াবহ হিমানী সম্প্রপাত ।

বিস্তারিত

☻বুৎপত্তিগত অর্থ: ‘Ice’ শব্দের অর্থ ‘হিম’ ও জার্মান শব্দ ‘Berg’-এর অর্থ ‘পাহাড়’ । সংজ্ঞা: উচ্চ অক্ষাংশে সমুদ্রে জলের উদ্ধদেশে হিমবাহের কিছু অংশ ভেঙে ভাসতে থাকে । সমুদ্রে ভাসমান এরূপ বিশালাকার বরফস্তূপকে হিমশৈল (Ice Berg) বলে । উদা: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে দেখা যায় । এরকম একটি হিমশৈলে ধাক্কা খেয়ে ১৯১১ সালে বিখ্যাত জাহাজ টাইটানিক এই মহাসাগরে ডুবে যায় । বৈশিষ্ট্যঃ হিমশৈলের বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ- ক) এর ১/৯ ভাগ জলের উপর ও

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞা: পর্বতশীর্ষে অপেক্ষাকৃত হালকা হিমআবরণকে হিমমুকুট (Ice Cap) বলে । উদা: গ্রীণল্যান্ডে দেখা যায় । বৈশিষ্ট্য: হিমমুকুটের বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ- ক) এটি হিমবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । খ) এগুলির আয়তন স্বল্প হয় ।

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ হিমযুগ (Ice Age) বলতে এমন একটি বিশেষ ভূতাত্ত্বিক সময়কে বোঝায় যখন পৃথিবী ও সূযের মাঝখানে দূরত্ব বৃদ্ধি,বায়ুতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান হ্রাস এবং বায়ুমন্ডল ধূলিকণায় আচ্ছাদিত হওয়ার ফলে উষ্ণতা হ্রাস পেয়ে মহাদেশের বিস্তীর্ণ অংশ হিমবাহ দ্বারা আবৃত হয় । উদাঃ গুনজ হিমযুগ, মিন্ডেল হিমযুগ প্রভৃতি হিমযুগের উদাহরণ । অনুমান করা হয় যে, প্লাইস্টোসিন উপযুগে অন্তত চারটি হিমযুগের সূচনা হয় এবং এক-একটি হিমযুগের পরেই একটি করে অর্ন্তবর্তী হিমযুগের আগমন ঘটে । এই অর্ন্তবর্তী হিমযুগগুলিতে

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞা: মেরুপ্রদেশ ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের তীব্র শৈত্যে, যে সীমারেখার উপরে অত্যধিক শীতলতার জন্য সারা বছর তুষার জমে থাকে এবং নীচে উত্তাপে তুষার গলে যায় তাকে হিমরেখা (Snow Line) বলে । অবস্থান: মেরুপ্রদেশে হিমরেখা সমুদ্র সমতলে, নিরক্ষীয় অঞ্চলে হিমরেখা ৫৫০০ মিটার উচ্চতায়, পূর্ব হিমালয়ে হিমরেখা ৩৯৬০ মিটার, পশ্চিম হিমালয়ে ৩৮০০ মিটার, মধ্য আল্পস পর্বতে হিমরেখা ২৭০০ মিটার এবং আন্দিজ ও কিলিমাঞ্জারো পর্বতে হিমরেখা ৫৪৩০ মিটার উচ্চতায় অবস্থান করে । এইসব অঞ্চলে

বিস্তারিত