☻উৎপত্তিস্থল থেকে সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে হিমবাহ তার প্রবাহপথে ক্ষয়কার্য চালাতে থাকে এবং ক্ষয়িত পদার্থগুলিকে সাথে বয়ে নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে । এমতাবস্থায় অর্থাৎ, এই ক্ষয় ও বহন প্রক্রিয়া চলাকালীন হিমবাহ তার ক্ষয়িত ও বাহিত পদার্থগুলিকে তার প্রবাহপথে বিভিন্নভাবে সঞ্চিত করতে থাকে । একে হিমবাহের সঞ্চয়কার্য (Depositional Works of Glacier) বলে । নিয়ন্ত্রকসমূহঃ হিমবাহের এই সঞ্চয়কার্য তার উচ্চপ্রবাহ থেকেই শুরু হয়ে যায় এবং তা চলতে থাকে হিমবাহের সমাপ্তিস্থল পর্যন্ত । এই দীর্ঘায়িত

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে হিমবাহ তার উপত্যকাকে অনেকসময় এত গভীরভাবে ক্ষয় করে যে সেটি সমুদ্রের পৃষ্ঠতল থেকেও নীচু হয়ে যায় । পরে বরফমুক্ত হলে এটি সমুদ্রের জলে ডুবে যায় । জলমগ্ন এরকম উপত্যকাকে ফিয়র্ড (Fiord) বলে । উদাঃ নরওয়ের সোজনে ফিয়র্ড (পৃথিবীর গভীরতম) । বৈশিষ্ট্যঃ ফিয়র্ড – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ – ক) এগুলি মুলত সমুদ্রোপকূলে দেখা যায় । খ) সাধারণত এগুলি জলমগ্ন থাকে ।

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ হিমবাহ দ্বারা ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট দুই ধার মসৃণ ও খাঁড়াঢালবিশিষ্ট ঢিবিকে কুঁজ বা হোয়েল ব্যাক (Whale Back) বলে । উদাঃ স্কটল্যান্ডের জুরাসাউন্ড অঞ্চলে কুঁজ দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ কুঁজ – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ – ক) এটি সাধারণত সমসত্ত্ব শিলায় সষ্টি হয় । খ) এর উচ্চতা প্রায় ২ – ১০ মিটার ।

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ তার প্রবাহপথে অবরোধকারী পর্বতের অবক্ষিপ্তাংশগুলির অগ্রভাগ ক্ষয় করে অগ্রসর হয় । একে কর্তিত শৈলশিরা বা কর্তিত স্পার (Truncated Spur) বলে । উদাঃ হিমালয় পর্বতে হিমবাহ অধ্যুষিত অঞ্চলে কর্তিত স্পার দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ কর্তিত স্পার – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ – ক) এগুলি দেখতে ত্রিভূজাকার হয় । খ) এগুলি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলেই বেশী দেখা যায় ।

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় বৈষম্যমূলক ক্ষয়কার্যের ফলে উপত্যকা বরাবর সিড়ির মত বহু ধাপ গঠিত হয় । এরকম ভূমিরূপকে হিমসিঁড়ি বা হিমসোপান (Glacial Steps) বলে । অনেক সময় হিমসিঁড়ির মধ্যে হিমবাহ গলে গিয়ে জল জমে হ্রদ তৈরী হয় । একে প্যাটার্নস্টার হ্রদ বলে । উদাঃ হিমালয় পর্বতে হিমবাহ অধ্যুষিত অঞ্চলে হিমসিঁড়ি বা হিমসোপান দেখা যায় । গঠনঃ হিমসিঁড়ি বা হিমসোপান – এর তিনটি অংশ । যথা

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ হিমবাহের গতিপথে কঠিন শিলাস্তরের পিছনে নরম শিলাস্তর থাকলে, অনেক সময় কঠিন শিলাস্তরটি পশ্চাদবর্তী নরম শিলাস্তরটিকে হিমবাহ কর্তৃক ক্ষয়ের প্রভাব থেকে রক্ষা করে । এর ফলে কঠিন শিলাস্তুপটি উঁচু ঢিবির মত আর পেছনের নরম শিলা সরু লেজের মত বিরাজ করে । এই রকম কঠিন শিলাকে ক্র্যাগ (Crag) এবং পিছনের ঢালযুক্ত নরম শিলাকে টেল (Tail) বলে । উদাঃ স্কটল্যান্ডের এডিনবরা ক্যাসেল সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ক্র্যাগ ও টেল দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ ক্র্যাগ

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ প্রধান নদীর সঙ্গে যেমন ছোট ছোট উপনদী এসে মেশে, সেই রকম প্রধান হিমবাহের সঙ্গে ছোট ছোট হিমবাহও এসে মেশে । প্রধান হিমবাহের উপত্যকা খুব বড় ও গভীর হয় । তাই ছোট হিমবাহের উপত্যকা প্রধান হিমবাহের উপত্যকার উপর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে । তখন একে ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley) বলা হয় । উদাঃ ভারতের গাড়োয়াল হিমালয়ের বদ্রীনাথের কাছে নরপর্বত থেকে নীচের দিকে কুবের নামে এইরকম ঝুলন্ত উপত্যকা হিমবাহ দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ

বিস্তারিত

☻বুৎপত্তিগত অর্থঃ ‘রসে মতানে’ একটি ফরাসি শব্দ, যার অর্থ উঁচু ঢিবি । সংজ্ঞাঃ অনেক সময় উপত্যকার মধ্যে উঁচু ঢিবির মতো কঠিন শিলাখন্ডের ওপর দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হয় । হিমবাহের ক্ষয় কার্যের ফলে হিমবাহের প্রবাহের দিকে শিলাখন্ডটি মসৃণ এবং তার বিপরীত দিকে অসমতল বা এবড়োখেবড়ো হয়ে যায় । পার্বত্য হিমবাহের ক্ষয়কাজের ফলে শক্ত শিলাখন্ডে গঠিত একদিকে মসৃণ এবং অপরদিকে এবড়োখেবড়ো এইরকম শিলাখন্ড বা ঢিবিকে রসে মতানে (Roche Moutonne) বলা হয় । উদাঃ কানাডীয় শিল্ড অঞ্চলে

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ যে উপত্যকার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয় যেখানে হিমবাহের ক্রমাগত পার্শ্বক্ষয় ও নিম্নক্ষয় সমানভাবে হওয়ার ফলে পার্বত্য উপত্যকাটির আকৃতি ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়ে যায়, একে ‘U’ আকৃতির উপত্যকা বা হিমদ্রোণী (Glacial trough) বলে । হিমবাহ কোনো নদী উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলে হিমবাহ ও নদীর একই সঙ্গে ক্ষয়কাজের ফলে বেশিরভাগ হিমদ্রোণী গড়ে ওঠে বলে বিজ্ঞানীরা অভিমত পোষণ করেন । উদাঃ হিমালয়ের রূপকুন্ড নামক হ্রদটি হিমদ্রোনীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে

বিস্তারিত

☻হিমশিরা বা এরিটি (Arete): উপত্যকা হিমবাহের উৎসক্ষেত্রে ক্ষয়কাজের ফলে সার্ক সৃষ্টি হয় । পাশাপাশি দুটি সার্কের মধ্যবর্তী খাড়াই অংশকে অ্যারেৎ বা এরিটি (Arete) বলে । উদাঃ আল্পস পর্বতে বহু এরিটি দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ এরিটি – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ- ক) এরিটির শীর্ষদেশে অনেকটা করাতের মতো খাঁজ কাটা থাকে । খ) পাশাপাশি দুটি সার্ক সৃষ্টি হলে এটি গঠিত হয় । ☻ পিরামিড চূড়া (Pyramidal Peak): উপত্যকা হিমবাহের উৎসক্ষেত্রে ক্ষয়কাজের ফলে

বিস্তারিত