☻নদীর পুনর্যৌবনলাভ (Rejuvenation): সংজ্ঞাঃ একটি ক্ষয়চক্র সম্পুর্ণ হতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা শেষ পর্যায়ে পৌছাবার আগেই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটলে বা সমুদ্রজলতলের পরিবর্তন ঘটলে নদীঢালের সামঞ্জস্য নষ্ট হয় । এর ফলে নদী তার ঢালের সামঞ্জস্য পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য নতুনভাবে তার ক্ষয়কার্য দ্রুত গতিতে শুরু করে অর্থাৎ নদী তার বার্ধক্য অবস্থা থেকে পুনরায় যৌবন অবস্থাপ্রাপ্ত হয় । একে নদীর পুনর্যৌবনলাভ (Rejuvenation) বলে । উদাঃ ভূমধ্যসাগরের জলতল নেমে যাওয়ার

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ নদী উপত্যকার দুই তীর ধাপে ধাপে নেমে এসে নদীর দুই পাশে মঞ্চের মত অবস্থান করলে তাকে নদীমঞ্চ বা নদীসোপান (River Terrace) বলে । উদাঃ গঙ্গা, তিস্তা, ব্রক্ষ্মপুত্র প্রভৃতি নদ-নদীতে এরূপ নদীমঞ্চ দেখা যায় । উৎপত্তিঃ স্থলভাগ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্যের জন্য নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর পার্শ্বচিত্রের সঙ্গে সঙ্গে আড়াআড়িভাবে গঠিত পার্শ্বচিত্রেরও অর্থাৎ নদী উপত্যকারও পরিবর্তন হয় । নদী উপত্যকা সরু থেকে ক্রমশ চওড়া হয়ে প্রবীণত্ব লাভ করে । কিন্তু স্থলভাগ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ নদী ও সমুদ্রের মিলনস্থলে নদীর মোহনা যথেষ্ট গভীর, উন্মুক্ত ও প্রশস্ত আকৃতিবিশিষ্ট হলে তাকে খাঁড়ি (Estuary / Firth) বলে । উদাঃ ওব নদীর মোহনাসংশ্লিষ্ট খাঁড়িটি পৃথিবীর দীর্ঘতম খাঁড়ি । এছাড়াও আমাজন, টেমস, ফোর্থ প্রভৃতি নদীর খাঁড়িও পৃথিবীর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাঁড়ির উদাহরণ । উৎপত্তিঃ মোহনার নিকট নদীর স্রোত অথবা জোয়ারের প্রকোপ অপেক্ষাকৃত বেশী হলে নদীবাহিত পলি, বালি, কাদা প্রভৃতি মোহনা অঞ্চলে সঞ্চিত হতে পারে না । ফলে জোয়ারের জল প্রবলবেগে নদীর

বিস্তারিত

☻নামকরণঃ গ্রীক অক্ষর ‘Δ’ (Delta) বা বাংলা অক্ষর মাত্রাহীন ‘ব’ এর থেকে ব-দ্বীপ বা Delta শব্দটি এসেছে । সংজ্ঞাঃ মোহনায় এসে নদীগর্ভে বালি, পলি, কর্দম প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে নদীবক্ষে প্রায় ত্রিকোণাকার ভূমিভাগ গড়ে উঠলে তাকে ব-দ্বীপ (Delta) বলে । উদাঃ গঙ্গা নদী ও ব্রক্ষ্মপুত্র নদের মোহনায় গঠিত মিলিত ব-দ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ । পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বেশীরভাগ অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠা সুবিশাল এই ব-দ্বীপের আয়তন প্রায় ৭৭,০০০ বর্গ কিলোমিটার ।

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ নদীর মধ্যপ্রবাহে ও বিশেষত নিম্নপ্রবাহে প্রায়শই পার্শ্ববর্তী দুকূলসংলগ্ন অঞ্চল বন্যার ফলে প্লাবিত হয় । কিছুদিন পর এই প্লাবনের জল সরে গেলে নদীবাহিত পলি, বালি, কর্দম প্রভৃতি নদীর দুই তীরে সঞ্চিত হয়ে ধীরে ধীরে বাঁধের মত উঁচু হয়ে যায় । প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় বলে এই ধরনের বাঁধকে স্বাভাবিক বাঁধ বা লেভি (Natural Levee) বলে । উদাঃ গঙ্গা নদীর নিম্নপ্রবাহে তথা ভাগীরথী-হুগলী নদীর প্রবাহপথে, নীল নদের প্রবাহপথে স্বাভাবিক বাঁধ বা লেভি

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ নিম্নপ্রবাহে প্রায়ই প্লাবনের ফলে নদীর দুই কূল ভেসে জলে ডুবে যায় এবং তাতে পলি সঞ্চিত হয়ে ক্রমশ যে পলিগঠিত সমভূমি সৃষ্টি হয়, তাকে প্লাবনভূমি (Flood Plain) বলে । উদাঃ ভাগীরথী-হুগলী (গঙ্গা), নীল, ইয়াং সিকিয়াং প্রভৃতি নদ-নদীর নিম্নপ্রবাহ জুড়ে বহু প্লাবনভূমি রয়েছে । উৎপত্তিঃ নদী তার নিম্নগতিতে সমুদ্রের কাছাকাছি চলে এলে ভূমির ঢাল হ্রাস পায় এবং নদীবাহিত সূক্ষ্ম কর্দম, পলি, বালি প্রভৃতি নদীগর্ভে সঞ্চিত হতে থাকে । ফলে নদীবক্ষ ভরাট

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ নিম্নগতিতে নদীবক্ষে বালি, পলি, কর্দম প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে স্থানবিশেষে নদীবক্ষ ভরাট হয়ে জলতলের উপরে জেগে উঠলে সেই সাময়িক স্থলভাগকে নদীচড়া (Sand Bank) বলে । উদাঃ ভাগীরথী – হুগলী নদীর ব-দ্বীপ প্রবাহে নদীবক্ষে অনেক নদীচড়া দেখা যায় । উৎপত্তিঃ নিম্নগতিতে নদীর স্রোতের বেগ কমে আসায় সঞ্চয় কার্যই প্রাধান্য পায় । এই অবস্থায় নদী অসম্ভব আঁকাবাঁকা পথে এগিয়ে চলে । এই নদীবাঁকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জলধারা দুই তীরে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং নদী

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ সমভূমি প্রবাহ ও ব-দ্বীপ প্রবাহে নদী বড় বড় বাঁক নিয়ে অগ্রসর হয় । বিশেষক্ষেত্রে এই প্রকার কোনো নদীবাঁক মূল নদীপ্রবাহের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল নদীর পাশে অশ্ব বা ঘোড়ার ক্ষুরের মত আকৃতিতে অবস্থান করলে, তাকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ ( Ox-bow Lake) বলে । উদাঃ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভাগীরথী নদীর প্রবাহপথের পাশে এরকম অনেক অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায় । উৎপত্তিঃ অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ মূলতঃ তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়

বিস্তারিত

☻বুৎপত্তিঃ ‘Meander’ শব্দটি এসেছে তুরস্কের বাঁকবহুল নদী মিয়েন্ড্রস (Maiandros) থেকে । সংজ্ঞাঃ পার্বত্য প্রবাহে নদীর জলস্রোতের গতি হ্রাস পায় ও নদী তার প্রবাহপথে অবস্থিত বাঁধাগুলিকে এড়িয়ে চলবার জন্য বড় বড় বাঁক নিয়ে এঁকেবেঁকে অগ্রসর হয় । এই বড় বড় বাঁকগুলিকে নদীবাঁক বা মিয়েন্ডার (Meander) বলে । উদাঃ ভারতের অধিকাংশ নদীগুলিতেই মিয়েন্ডার দেখতে পাওয়া যায় । উত্তরপ্রদেশের বারানসীর কাছে গঙ্গা নদীর গতিপথে, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় ভাগীরথী ও জলংগীর মধ্যে নদীবাঁক বা

বিস্তারিত

☻সংজ্ঞাঃ পলল শংকুর উপর দিয়ে নদী বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হলে পলল শংকু অর্ধগোলাকৃতিতে ভাগ হয়ে যে হাতপাখা আকৃতির ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়, তাকে পলল ব্যজনী বা পলল পাখা (Alluvial Fan) বলে । উদাঃ হিমালয়ের পাদদেশে এরূপ অনেক পলল ব্যজনী দেখা যায় । উত্তরপ্রদেশের হরিদ্বার ও হৃষীকেশের কাছে এরকম পলল ব্যজনী দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ পলল ব্যজনী বা পলল পাখা – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ – ক) পলল ব্যজনী

বিস্তারিত