Category Archives: গ) বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ

মহাদেশের পশ্চিমাংশে অধিকাংশ মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে কেন ?

পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য বৃহৎ উষ্ণ মরুভূমিগুলি হলো দক্ষিণ আমেরিকার আটাকামা মরুভূমি, উত্তর আমেরিকার সোনেরান মরুভূমি, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি, কালহারি মরুভূমি, এশিয়ার আরব মরুভূমি, থর মরুভূমি প্রভৃতি এবং লক্ষ্যণীয়ভাবে উল্লিখিত সকল মরুভূমিই মহাদেশের পশ্চিমাংশে অবস্থিত । এর জন্য দায়ী পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিগুলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হলো  –

ক) উষ্ণ ও জলীয়বাষ্পহীন আয়নবায়ু: এইসকল অঞ্চলের ক্রিয়াশীল আয়ন বায়ু ক্রম উষ্ণপ্রকৃতির হয় । এর কারণ হলো উষ্ণ নিরক্ষীয় অঞ্চলের উপর দিয়ে এই বায়ুর প্রবাহ । তাছাড়াও, স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহের ফলে এই বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ খুবই কম থাকে । প্রসংগত উল্লেখ্য, সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবাহকালে আয়ন বায়ু জলীয়বাষ্প গ্রহণ করে আর্দ্র হয়ে পড়লেও স্থলভাগে প্রবেশপথের শুরুতে অর্থাৎ, মহাদেশের পূর্বদিক দিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটাতে ঘটাতে যতই পশ্চিমদিকে অগ্রসর হতে থাকে, ততই তাতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমতে থাকে । এইভাবে ক্রমশ: এই বায়ু যখন মহাদেশের পশ্চিমভাগে এসে পৌছায় তখন তাতে বৃষ্টিপাত ঘটানোর মতো আর পর্যাপ্ত জলীয়বাষ্প প্রায় থাকে না বললেই চলে । ফলে মহাদেশের পশ্চিমাংশ বৃষ্টিহীন, উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে ।

খ) বায়ুর গোলযোগহীনতা: ১৫° – ৩০° অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত মহাদেশের পশ্চিমভাগ কর্কটক্রান্তীয় ও মকরক্রান্তীয় শান্ত বলয়ের অন্তর্ভূক্ত । ফলে এখানে বায়ুমন্ডলীয় গোলযোগহীনতার কারণে বৃষ্টিপাতও সংঘটিত হয় না ।

গ) বায়ুর নিমজ্জন: নিরক্ষীয় অঞ্চলের বিক্ষিপ্ত বায়ু ক্রান্তীয় অঞ্চলে নিম্নদিকে নেমে আসার ফলে তার উষ্ণতা ও জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা হ্রাস পায় ।

ঘ) বায়ুর অপ্লবনশীলতা: মহাদেশের পশ্চিমাংশে বায়ু অপ্লবনশীল প্রকৃতির হয় বলে এই অংশে বৃষ্টিপাত একপ্রকার হয় না বললেই চলে ।

                – উল্লিখিত পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিগুলির কারণে মহাদেশের পশ্চিমাংশে অতিরিক্ত উষ্ণতা বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে পৃথিবীর অধিকাংশ বৃহৎ, উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমিগুলি সৃষ্টি হয়েছে ।

« অপেক্ষাকৃত পুরনো জমা Recent Entries »