Category: ৫. বায়ুমন্ডল

গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি বা ড্রিজল্ (Drizzle):

সংজ্ঞা: ০.৫ মিলিমিটারেরও কম ব্যাসযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বৃষ্টির আকারে ভূপৃষ্ঠে পতিত হলে, তাকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি বা ড্রিজল্ (Drizzle) বলে । উৎপত্তিঃ অধঃক্ষেপণের জলবিন্দুর আকার যদি বেশ বড় হয়, তাহলে এরা নীচের দিকে এত দ্রুত বেগে নামতে থাকে যে বায়ুপ্রবাহের ঘর্ষনে এরা ভেঙে যায় । বায়ুপ্রবাহ যদি ধীরগতিতে উপরের দিকে…

কিউমুলোনিম্বাস মেঘ বা ঝড়োপুঞ্জ মেঘ (Cumulonimbus Cloud):

সংজ্ঞা: অতি গভীর, ঘন, কালো এবং বিশাল আকারের যে মেঘ থেকে বজ্রপাত ও বিদ্যুৎসহ মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়, তাকে  কিউমুলোনিম্বাস মেঘ বা ঝড়োপুঞ্জ মেঘ (Cumulonimbus Cloud) বলে । পশ্চিমবঙ্গ, অসম, বাংলাদেশে সংঘটিত কালবৈশাখী ঝড় এই প্রকার মেঘ থেকে ঘটে থাকে । বৈশিষ্ট্য: কিউমুলোনিম্বাস মেঘ বা ঝড়োপুঞ্জ মেঘ – এর বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ…

জলচক্র (Hydrological Cycle):

☻সংজ্ঞাঃ ভৌগোলিক অবস্থান ও ভৌত অবস্থার বিভিন্ন পরিবর্তন (কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়) ও বিনিময়ের মধ্য দিয়ে চক্রাকারে বারিমন্ডল, বায়ুমন্ডল ও স্থলভাগের জলের সামগ্রিক পরিমাণের সমতা বজায় থাকে । জলের এই চক্রাকার আবর্তনপথকে জলচক্র (Hydrological Cycle) বলে । ব্যাখ্যাঃ জল তিনটি অবস্থায় সাধারণত থাকতে পারে যথা – কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়…

প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anti-Cyclone):

☻সংজ্ঞাঃ কোনো স্থানে উষ্ণতা হ্রাসের ফলে শীতলতার কারণে প্রবল উচ্চচাপ সৃষ্টি হলে ঐ উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে বাইরের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে কুন্ডলাকারে বর্হিগামী বায়ুপ্রবাহ প্রবাহিত হয় । একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anti-Cyclone) বলে । অবস্থান: মূলত: হিমমন্ডল ও নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে সৃষ্টি হলেও আঞ্চলিক বৈশিষ্টাবলীর অনুকূল পরিবর্তন ঘটলে পৃথিবীতে যে কোনো অঞ্চলে এর…

মহাদেশের পশ্চিমাংশে অধিকাংশ মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে কেন ?

☻ পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য বৃহৎ উষ্ণ মরুভূমিগুলি হলো দক্ষিণ আমেরিকার আটাকামা মরুভূমি, উত্তর আমেরিকার সোনেরান মরুভূমি, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি, কালহারি মরুভূমি, এশিয়ার আরব মরুভূমি, থর মরুভূমি প্রভৃতি এবং লক্ষ্যণীয়ভাবে উল্লিখিত সকল মরুভূমিই মহাদেশের পশ্চিমাংশে অবস্থিত । এর জন্য দায়ী পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিগুলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হলো  – ক) উষ্ণ ও জলীয়বাষ্পহীন…

রসবি তরঙ্গ (Rossby Winds):

☻ সংজ্ঞাঃ ট্রপোস্ফিয়ারে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ মিটার উপরে ৫০০০ – ৬০০০ কিলোমিটার তরংগদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একপ্রকার বায়ুপ্রবাহ সর্পিলাকারে উচ্চগতিতে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় । এটি রসবি তরঙ্গ (Rossby Winds) নামে পরিচিত । নামকরণঃ ১৯৩০ এর দশকের শেষভাগে বিশিষ্ট আবহাওয়া বিজ্ঞানী C.G. Rossby সর্বপ্রথম এইপ্রকার বায়ুপ্রবাহের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং গাণিতিক উপায়ে এর…

অভিকর্ষ বায়ু (Gravity Wind):

☻ সংজ্ঞাঃ পৃথিবীর বরফাচ্ছন্ন উঁচু উপকূল অঞ্চলগুলিতে শীতল ও ভারী বায়ুপ্রবাহ নিজ ভারে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রভাগের দিকে প্রবাহিত হয় । এইপ্রকার বায়ুপ্রবাহকে অভিকর্ষ বায়ু (Gravity Wind) বলে । অবস্থানঃ আন্টার্কটিকা ও গ্রীনল্যান্ডের উপকূল অঞ্চলে নিয়মিতভাবে অভিকর্ষ বায়ু প্রবাহিত হয় । এছাড়াও, শীতকালে ইটালীর অ্যাড্রিয়াটিক সমুদ্রের উঁচু উপকূল যখন বরফে আচ্ছাদিত…

জিওস্ট্রফিক বায়ু (Geostrophic Wind):

☻ বুৎপত্তিগত অর্থঃ গ্রিক শব্দ ‘Geo’ – এর অর্থ ‘পৃথিবী’ ও ‘Strepho’ – এর অর্থ ‘ঘোরা’, যা থেকে Geostrophic শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে । সংজ্ঞাঃ ঊর্দ্ধাকাশে সমচাপরেখার সাথে সমান্তরালভাবে বায়ু প্রবাহিত হয় । এইপ্রকার বায়ুপ্রবাহ জিওস্ট্রফিক বায়ু (Geostrophic Wind) নামে পরিচিত । অবস্থানঃ জিওস্ট্রফিক বায়ু মূলত: উচ্চাকাশে ঊর্দ্ধবায়ুতে অর্থাৎ, ট্রপোস্ফিয়ার – এর…

অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude):

☻ সংজ্ঞাঃ উত্তর গোলার্ধে কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় ও দক্ষিণ গোলার্ধে মকরীয় উচ্চচাপ বলয় বরাবর শীতল ও ভারী বায়ু উপর থেকে নীচে নেমে আসায় ভূপৃষ্ঠ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোনোপ্রকার বায়ুপ্রবাহ দেখা যায় না । ফলে এই দুই বলয়ে শান্ত অবস্থা বিরাজ করে । দুই গোলার্ধের এই নির্দিষ্ট আঞ্চলিক অবস্থানদ্বয়কে অশ্ব অক্ষাংশ…

সাহসী পশ্চিমা বায়ু (Brave West Wind) – গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties), ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ (Howling Fifties) ও তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট (Screaming Sixties):

☻ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩৫° – ৬০° অক্ষাংশে পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে স্থলভাগে রকি, আল্পস, আলতাই, সায়ান, তিয়েনসান প্রভৃতি উঁচু পর্বতের অবস্থানের ফলে পশ্চিমা বায়ু বাধাপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে না । কিন্তু এই পশ্চিমা বায়ুই দক্ষিণ গোলার্ধে ৩৫° – ৬০° অক্ষাংশে প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের…