Category Archives: ২. বায়ুপ্রবাহের কাজ

লোয়েস সমভূমি (Loess Plain):

☻বুৎপত্তিগত অর্থঃ ‘Loess’ শব্দটি জার্মান শব্দ ‘Loss’ থেকে এসেছে, যার অর্থ “সূক্ষ্ম পলি”

সংজ্ঞাঃ অতিসূক্ষ্ম বালিকণা বায়ুপ্রবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে মরুভূমি সীমানার অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে জমা হয়ে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে লোয়েস সমভূমি (Loess Plain) বলে 
বিশিষ্ট জার্মান ভূ-বিজ্ঞানী রিকটোফেন (Richthofen) সর্বপ্রথম লোয়েস চিহ্নিত করেন ।

উদাঃ মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমি থেকে বালিরাশি শীতকালীন উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুবাহিত হয়ে উত্তর চিনের হোয়াংহো নদীর অববাহিকায় দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণে সঞ্চিত হয়ে সেখানে এক বিস্তীর্ণ ও উর্বর লোয়েস সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে ।

অবস্থানঃ পৃথিবীতে মূলতঃ চারটি লোয়েস সমভূমি অঞ্চল দেখা যায় । যথা –
ক) এশিয়ার লোয়েস অঞ্চলঃ এশিয়ার উত্তর-পশ্চিম চীনে ৬৪৫ হাজার বর্গকিলোমিটারব্যাপী এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি অবস্থিত ।
উত্তর-পশ্চিম চীনব্যতীত মধ্য-এশিয়ার আরও বিভিন্ন অববাহিকায় লোয়েস দেখতে পাওয়া যায় ।
খ) ইউরোপের লোয়েস অঞ্চলঃ মধ্য ইউরোপের উচ্চভূমির উত্তরে জার্মানীর বোর্দি (Borde) নামক অঞ্চলে; মধ্য বেলজিয়ামের নিম্ন-মালভূমি ও ফ্রান্সের উত্তর-পূর্ব এবং পূর্বাংশে লোয়েস সঞ্চয় দেখা যায় ।
গ) উত্তর আমেরিকার লোয়েস অঞ্চলঃ উত্তর আমেরিকার মিসিসিপি-মিসৌরী নদী উপত্যকা অঞ্চলে লোয়েস সঞ্চয় দেখা যায় । ইলিনয়, আইওয়া এবং নেব্রাস্কার মধ্য দিয়ে দক্ষিণে মেক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল লোয়েস দ্বারা আবৃত ।
এবং
ঘ) দক্ষিন আমেরিকার লোয়েস অঞ্চলঃ লোয়েস অবক্ষেপ দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনার পম্পাসেও দেখতে পাওয়া যায় ।

বৈশিষ্ট্যঃ লোয়েস সমভূমি – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক)
এর রং হলদে ।
খ)
এটি অতি সুক্ষ্ম নরম, প্রবেশ্য ও চুনময় ।
গ)
এই মাটি খুবই উর্বর ।
ঘ) এটি পলি দ্বারা গঠিত,যার মধ্যে কোণবিশিষ্ট কোয়ার্টজ, ফেলসপার, ক্যালসাইট, ডলোমাইট এবং অন্যান্য খনিজের কণা একত্রে সংঘবদ্ধ অবস্থায় থাকে । 

ঙ) এই মৃত্তিকার প্রস্থচ্ছেদ করলে অসংখ্য উল্লম্ব সরু নল বা টিউবের ন্যায় ছিদ্রপথের অবস্থান দেখা যায় ।
চ) এর সূক্ষ্ম কণাগুলি পরস্পরের সাথে সুসংঘবদ্ধ অবস্থায় থাকে ।
ছ) লোয়েসের মধ্যবর্তী অসংখ্য ছিদ্রপথ থাকায় এর মধ্য দিয়ে জল সহজেই অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ।

« অপেক্ষাকৃত পুরনো জমা Recent Entries »