Category: ♦ প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical Geography)

গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি বা ড্রিজল্ (Drizzle):

সংজ্ঞা: ০.৫ মিলিমিটারেরও কম ব্যাসযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বৃষ্টির আকারে ভূপৃষ্ঠে পতিত হলে, তাকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি বা ড্রিজল্ (Drizzle) বলে । উৎপত্তিঃ অধঃক্ষেপণের জলবিন্দুর আকার যদি বেশ বড় হয়, তাহলে এরা নীচের দিকে এত দ্রুত বেগে নামতে থাকে যে বায়ুপ্রবাহের ঘর্ষনে এরা ভেঙে যায় । বায়ুপ্রবাহ যদি ধীরগতিতে উপরের দিকে…

তপ্তবিন্দু বা হট স্পট (Hot Spot):

সংজ্ঞাঃ ভূ-ত্বকের গভীরে এমন কয়েকটি স্থান আছে যেগুলির উষ্ণতা পার্শ্ববর্তী অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি । অত্যাধিক উষ্ণতার জন্য এই অঞ্চলগুলিকে তপ্তবিন্দু বা হটস্পট (Hot Spot) বলে।  অবস্থানঃ ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে হটস্পট রয়েছে প্রায় ২১ টির মত। এই হটস্পটগুলি অগ্ন্যুদগমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র । হাওয়াই, সামোয়া, সেন্ট হেলেনা, ক্যানারি প্রভৃতি আগ্নেয়…

ভূমিকম্পের ছায়া বলয় বা ছায়া অঞ্চল (Seismic Shadow Zone)

ভূমিকম্পের ছায়া বলয় (seismic Shadow Zone):

সংজ্ঞাঃ ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ১০৪° থেকে ১৪০° কৌণিক দূরত্বের অঞ্চলে ভূমিকম্পের কোন তরঙ্গই পৌছাতে পারে না, তাই এই অঞ্চলকে ভূমিকম্পের ছায়া বলয় বা ছায়া অঞ্চল (Seismic Shadow Zone) বলে । প্রফেসর উইসার্ট, বেনো গুটেনবার্গ প্রমুখ ভূ-কম্পবিদ ভূমিকম্পের এই ছায়া বলয়ের উপস্থিতি নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন । তরঙ্গহীনতার কারনঃ আমরা জানি, ভূমিকম্পের…

মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic Movement):

বুৎপত্তিগত অর্থঃ গ্রীক শব্দ ‘Epeiros’ যার অর্থ মহাদেশ এবং ‘Genesis’ যার অর্থ সৃষ্টি ; এই দুটি গ্রীক শব্দের সমন্বয়ে “Epeirogenic” অর্থাৎ মহীভাবক শব্দটি এসেছে । সংজ্ঞাঃ যে আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে উল্লম্বভাবে ক্রিয়া করে ভূত্বকের উত্থান বা অবনমন ঘটায়, তাকে মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic Movement) বলে । ব্যাখাঃ মহীভাবক আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে উল্লম্বভাবে অর্থাৎ,…

মহীসোপান (Continental Shelf)

মহীসোপান (Continetal shelf):

সংজ্ঞাঃ সমুদ্রজলে নিমজ্জিত মোটামুটি ১০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত মহাদেশীয় প্রান্তভাগকে মহীসোপান (Continental Shelf) বলে । বৈশিষ্ট্যঃ মহীসোপান – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ – ঢালঃ এটি মৃদু ঢাল বিশিষ্ট । সাধারণত এর ঢাল ১° এর কম হলেও স্থান বিশেষে ২°-৩° ও হতে পারে । গভীরতাঃ মহীসোপানের গভীরতা তটরেখা থেকে প্রায় ২০০…

সবাইকে মাতৃভাষা দিবসের রক্তিম অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা ।

ট্রাক ফার্মিং(Truck Farming) কি?

সংজ্ঞাঃ মূল শহর থেকে অনতিদুরে অবস্থিত কৃষি অঞ্চলগুলি থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় উৎপাদিত কৃষি ফসলগুলিকে ট্রাকের মত উন্নত পরিবহন মাধ্যমের সাহায্যে উক্ত শহরাঞ্চলে নিয়ে আসার জন্য যে কৃষিনির্ভর ব্যবস্থা পরিচালিত হয়, তাকে ট্রাক ফার্মিং(Truck Farming) বলা হয় । উদাহরণঃ মূলত ইউরোপের উন্নত দেশগুলিতে এই ব্যবস্থা প্রচলিত থাকলেও সম্প্রতি আমাদের আমাদের দেশেও এটি…

সক্রিয়তা অনুসারে আগ্নেয়গিরির শ্রেণীবিভাগ করো ।

সক্রিয়তার উপর ভিত্তি করে আগ্নেয়গিরিগুলিকে মূলত তিনভাগে ভাগ করা যায় । যথা – ক) সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, খ) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি ও গ) মৃত আগ্নেয়গিরি । নীচে এগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো- ক) সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরিঃ সংজ্ঞাঃ যে সকল আগ্নেয়গিরিগুলি থেকে প্রায়ই বা একটানা ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা লাভারূপে নির্গত…

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলাঃ

সংজ্ঞাঃ ‘মেখলা’ শব্দের অর্থ ‘কোমর বন্ধনী’ । প্রশান্ত মহাসাগরকে বেষ্টন করে পৃথিবীর প্রায় ৭০% আগ্নেয়গিরি কোমর বন্ধনীর আকারে অবস্থান করছে । তাই এই অঞ্চলটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা নামে পরিচিত । বিস্তারঃ এই আগ্নেয় মেখলা বা বলয়টি প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণে হর্ন অন্তরীপ থেকে শুরু করে আন্দিজ…

জ্বালামুখ বা ক্রেটার (Crater):

সংজ্ঞা: ভূঅভ্যন্তরস্থ ম্যাগমা একটি নির্গমন পথের মধ্য দিয়ে ভূপৃষ্ঠে নির্গত হয় । এই নির্গমন পথটির ম্যাগমা উৎক্ষেপকারী ফানেলাকৃতি খোলা অংশটিকে জ্বালামুখ বা ক্রেটার (Crater) বলে । উদাহরণ: আলাস্কার অনিয়াচাক আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ পৃথিবীর বৃহত্তম জ্বালামুখ । শ্রেণীবিভাগ: প্রকৃতি অনুসারে জ্বালামুখ মূলত দুই প্রকার । যথা- ১. প্রধান জ্বালামুখ ও ২. গৌণ…