বহিঃবিধৌত সমভূমি কি?

সংজ্ঞাঃ উচ্চ পর্বতের পাদদেশে হিমবাহ এসে পৌঁছালে তা গলে নদীর সৃষ্টি হয় এবং সেখানে হিমবাহবাহিত পাথরের টুকরো, নুড়ি, কাঁকর, বালি, কাদা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে যে বিস্তীর্ণ সমভূমি গঠন করে, তাকে বহিঃবিধৌত সমভূমি (Out-Wash-Plain) বলে । উদাঃ কানাডার উত্তরাংশে বহিঃবিধৌত সমভূমি দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ বহিঃবিধৌত সমভূমি – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –ক) এটি একটি বিশাল …

Read More….

অবক্ষেপ কি?

সংজ্ঞাঃ পর্বতের নিম্নাংশ ও নিম্নভূমিতে হিমবাহ প্রধানত অবক্ষেপণ করে থাকে । নদী যেমন তার বাহিত বস্তুগুলিকে যথা- নুড়ি, পাথর, কাদা, বালি, কাঁকর প্রভৃতি আকৃতি অনুসারে বিভিন্ন অংশে সঞ্চয় করে, হিমবাহ তা করে না । হিমবাহ উপর থেকে বিভিন্ন আকৃতির শিলাচূর্ণ একই সঙ্গে নিয়ে এসে এক জায়গায় জমা করে, এগুলিকে একত্রে অবক্ষেপ (Drift) বলে । উদাঃ …

Read More….

গ্রাবরেখা বা মোরেন কি?

সংজ্ঞাঃ পার্বত্য অঞ্চল দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় ক্ষয় পাওয়া শিলাখন্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি হিমবাহের সঙ্গে বয়ে চলে । এইসব বিচ্ছিন্ন ও ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাখন্ড বা শিলাচূর্ণের কিছু অংশ হিমবাহের দু’পাশে, সামনে ও তলদেহে স্তূপাকারে সঞ্চিত হয় । এই সব সঞ্চিত শিলাস্তূপকে গ্রাবরেখা বা মোরেন (Moraine) বলে । “Moraine” একটি ফরাসী শব্দ, যার অর্থ ‘মাটি …

Read More….

হিমবাহের সঞ্চয়কার্য ও সৃষ্ট ভূমিরূপ সম্পর্কে লেখ।

উৎপত্তিস্থল থেকে সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে হিমবাহ তার প্রবাহপথে ক্ষয়কার্য চালাতে থাকে এবং ক্ষয়িত পদার্থগুলিকে সাথে বয়ে নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে । এমতাবস্থায় অর্থাৎ, এই ক্ষয় ও বহন প্রক্রিয়া চলাকালীন হিমবাহ তার ক্ষয়িত ও বাহিত পদার্থগুলিকে তার প্রবাহপথে বিভিন্নভাবে সঞ্চিত করতে থাকে ও সৃষ্ট ভূমিরূপ গুলি পরিলক্ষিত হতে থাকে । একে হিমবাহের সঞ্চয়কার্য (Depositional Works of …

Read More….

ফিয়র্ড কি?

সংজ্ঞাঃ সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে হিমবাহ তার উপত্যকাকে অনেকসময় এত গভীরভাবে ক্ষয় করে যে সেটি সমুদ্রের পৃষ্ঠতল থেকেও নীচু হয়ে যায় । পরে বরফমুক্ত হলে এটি সমুদ্রের জলে ডুবে যায় । জলমগ্ন এরকম উপত্যকাকে ফিয়র্ড (Fiord) বলে । উদাঃ নরওয়ের সোজনে ফিয়র্ড (পৃথিবীর গভীরতম) । বৈশিষ্ট্যঃ ফিয়র্ড – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –ক) এগুলি মুলত সমুদ্রোপকূলে …

Read More….

কুঁজ কি?

সংজ্ঞাঃ হিমবাহ দ্বারা ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট দুই ধার মসৃণ ও খাঁড়াঢালবিশিষ্ট ঢিবিকে কুঁজ বা হোয়েল ব্যাক (Whale Back) বলে । উদাঃ স্কটল্যান্ডের জুরাসাউন্ড অঞ্চলে কুঁজ দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ কুঁজ – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –ক) এটি সাধারণত সমসত্ত্ব শিলায় সষ্টি হয় ।খ) এর উচ্চতা প্রায় ২ – ১০ মিটার ।

কর্তিত শৈলশিরা বা কর্তিত স্পার কি?

সংজ্ঞাঃ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ তার প্রবাহপথে অবরোধকারী পর্বতের অবক্ষিপ্তাংশগুলির অগ্রভাগ ক্ষয় করে অগ্রসর হয় । একে কর্তিত শৈলশিরা বা কর্তিত স্পার (Truncated Spur) বলে । উদাঃ হিমালয় পর্বতে হিমবাহ অধ্যুষিত অঞ্চলে কর্তিত স্পার দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ কর্তিত স্পার – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –ক) এগুলি দেখতে ত্রিভূজাকার হয় ।খ) এগুলি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলেই বেশী …

Read More….

হিমসিঁড়ি বা হিমসোপান কি?

সংজ্ঞাঃ পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় বৈষম্যমূলক ক্ষয়কার্যের ফলে উপত্যকা বরাবর সিড়ির মত বহু ধাপ গঠিত হয় । এরকম ভূমিরূপকে হিমসিঁড়ি বা হিমসোপান (Glacial Steps) বলে । অনেক সময় হিমসিঁড়ির মধ্যে হিমবাহ গলে গিয়ে জল জমে হ্রদ তৈরী হয় । একে প্যাটার্নস্টার হ্রদ বলে । উদাঃ হিমালয় পর্বতে হিমবাহ অধ্যুষিত অঞ্চলে হিমসিঁড়ি …

Read More….

ক্র্যাগ ও টেল কি?

সংজ্ঞাঃ হিমবাহের গতিপথে কঠিন শিলাস্তরের পিছনে নরম শিলাস্তর থাকলে, অনেক সময় কঠিন শিলাস্তরটি পশ্চাদবর্তী নরম শিলাস্তরটিকে হিমবাহ কর্তৃক ক্ষয়ের প্রভাব থেকে রক্ষা করে । এর ফলে কঠিন শিলাস্তুপটি উঁচু ঢিবির মত আর পেছনের নরম শিলা সরু লেজের মত বিরাজ করে । এই রকম কঠিন শিলাকে ক্র্যাগ (Crag) ও পিছনের ঢালযুক্ত নরম শিলাকে টেল (Tail) বলে …

Read More….

ঝুলন্ত উপত্যকা কি?

সংজ্ঞাঃ প্রধান নদীর সঙ্গে যেমন ছোট ছোট উপনদী এসে মেশে, সেই রকম প্রধান হিমবাহের সঙ্গে ছোট ছোট হিমবাহও এসে মেশে । প্রধান হিমবাহের উপত্যকা খুব বড় ও গভীর হয় । তাই ছোট হিমবাহের উপত্যকা প্রধান হিমবাহের উপত্যকার উপর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে । তখন একে ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley) বলা হয় । উদাঃ ভারতের গাড়োয়াল হিমালয়ের বদ্রীনাথের …

Read More….