পাদদেশীয় হিমবাহ কি?

সংজ্ঞাঃ হিমবাহ যখন উঁচু পর্বতের থেকে নেমে এসে পর্বতের পাদদেশে বিরাট অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করে, তখন তাকে পাদদেশীয় হিমবাহ (Piedmont Glacier) বলে । উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থিত পার্বত্য অঞ্চলের পাদদেশে উষ্ণতা কম থাকায় সহজেই পাদদেশীয় হিমবাহ সৃষ্টি হয় । উদাহরণঃ আলাস্কার মালাসপিনা হিমবাহটি হল পৃথিবীর বৃহত্তম পাদদেশীয় হিমবাহের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ । এটি প্রায় ৪,০০০ বর্গ কিলোমিটার …

Read More….

মহাদেশীয় হিমবাহ কি?

সংজ্ঞাঃ মহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে যে হিমবাহ অবস্থান করে, তাকে মহাদেশীয় হিমবাহ (Continental Glacier) বলে । এই মহাদেশীয় বরফস্তূপ পূর্বে কোয়াটারনারী বরফ – যুগে ( Quaternary Ice Age ) আরও অধিক বিস্তৃত হয়ে উত্তর আমেরিকা , ইউরােপ ও এশিয়া মহাদেশের উত্তর দিকের এক বিশাল অংশকে আবৃত করেছিল । বর্তমানে গ্রীনল্যাণ্ড ও অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফস্তূপ কোয়াটারনারী …

Read More….

উপত্যকা হিমবাহ বা পার্বত্য হিমবাহ কি?

সংজ্ঞাঃ উচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কিংবা অতি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে প্রচন্ড ঠান্ডার জন্য তুষার জমে সৃষ্টি যেসব হিমবাহ পর্বতের উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং যেসব হিমবাহ তাদের গতি প্রবাহকে পার্বত্য উপত্যকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে, তাদের পার্বত্য হিমবাহ বা উপত্যকা হিমবাহ (Mountain Glacier / Valley Glacier) বলে । উদাঃ হিমালয়ের উত্তরে কারাকোরামের সিয়াচেন হিমবাহ (দৈর্ঘ্য ৭২ কিমি); …

Read More….

নুনাটকস কি?

বুৎপত্তিগত অর্থঃ ‘নুনাটকস’ একটি এস্কিমো ভাষার শব্দ, যার অর্থ ‘তুষারমুক্ত ভূমি’ । সংজ্ঞাঃ উপকূলস্থ মহাদেশীয় হিমবাহের গভীরতা কমে গেলে দেখা যায় তার মধ্যে কোন এক পর্বতের চুড়া মাথা তুলে দাড়িয়ে আছে, কিন্তু তার চূড়ায় কোন বরফ নেই । বিস্তীর্ণ অঞ্চলব্যাপী মহাদেশীয় হিমবাহ মধ্যস্থিত এরকম বরফবিহীন পর্বতের শিখরকে নুনাটকস (Nunataks) বলে । উদাঃ মাউন্ট তাকাহি হলো একটি …

Read More….

নেভে (Neve),ফির্ন (Firn) ও বরফ (Ice):

☻নেভে(Neve): তুষারপাতের প্রাথমিক অবস্থায় তুষারকণাগুলি একটি অপরটির সাথে আলগাভাবে লেগে থাকে । এরকম ফাঁকযুক্ত আলগা তুষারকণাগুলিকে নেভে (Neve) বলে ।বৈশিষ্ট্যঃ নেভে – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –ক) এগুলি অতি সূক্ষ্ম ও হালকা তুষারকণা ।খ) এর ঘনত্ব ০.৬-০.১৬ গ্রাম / কিউবিক সেমি । ☻ ফির্ন (Firn): নেভের পরবর্তী রূপ হলো ফির্ন (Firn) । এগুলি এমন একপ্রকার …

Read More….

নব (Knob) ও কেটল (Kettle) কি?

নব (Knob): হিমবাহের পশ্চাদপারণের ফলে নুড়ি, বালি প্রভৃতি দ্বারা যে ঢিঁবির মত ভুমিরূপ সৃষ্টি হয়, তাকে নব (Knob) বলে ।উদাঃ উত্তর ইউরোপের উত্তরাংশে নব দেখা যায় ।বৈশিষ্ট্যঃ নব – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –ক) এগুলি প্রান্ত গ্রাবরেখার অবক্ষেপ দ্বারা গঠিত হয় ।খ) এগুলি দেখতে ছোট ছোট স্তূপ বা ঢিঁবির মত হয় কেটল (Kettle) ও কেটল …

Read More….

এস্কার ও কেম কি?

এস্কার (Esker): উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের পাদদেশে হিমবাহের বহন করে আনা বিভিন্ন আকৃতির নুড়ি, পাথর, কাদা, বালি, কাঁকর প্রভৃতি জমা হয়ে দীর্ঘ, আঁকাবাঁকা, নাতিউচ্চ ও সংকীর্ণ বাঁধের মতো শৈলশিরা বা উচ্চভূমি গঠন করে । একে এস্কার (Esker) বলে ।উদাঃ ফিনল্যান্ডের পুনকাহারয়ু একটি বিখ্যাত এস্কার ।বৈশিষ্ট্যঃ এস্কার – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –ক) এটি বহিঃবিধৌত সমভূমির মধ্যে …

Read More….

ড্রামলিন কি?

বুৎপত্তিগত অর্থ: ড্রামলিন বা Drumlin শব্দটির অর্থ ‘ঢিবি’ । সংজ্ঞা: হিমবাহ গলে গেলে বহিবিধৌত সমভূমিতে স্তূপীকৃত বোল্ডার ক্লে অনেক সময়ে সারিবদ্ধ টিলা বা ছোটো ছোটো স্তূপের আকারে বিরাজ করে । ভূ-পৃষ্ঠের উপর এদের দেখতে অনেকটা উলটানো নৌকা বা চামচের মতো আকৃতির হয় । এদের ড্রামলিন (Drumlin) বলে । উদাঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চল, উত্তর ইংল্যান্ড, উত্তর …

Read More….

হিমকর্দ বা বোল্ডার ক্লে কি?

সংজ্ঞাঃ হিমবাহ গলে গেলে তার নীচে হিমবাহের সঙ্গে বয়ে আনা বালি ও কাদার সঙ্গে বিভিন্ন আকৃতির নুড়ি-পাথর অবক্ষেপ হিসাবে সঞ্চিত হলে, তাদের একসঙ্গে বোল্ডার ক্লে (Boulder Clay) বা হিমকর্দ বলা হয় । উদাঃ উত্তর ইউরোপের হিমবাহ অধ্যুষিত অঞ্চলে বোল্ডার ক্লে দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ বোল্ডার ক্লে – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –ক) এটি বালি ও কর্দম …

Read More….

আগামুক বা ইরাটিক কি?

সংজ্ঞাঃ হিমবাহ উপর থেকে বিভিন্ন আকৃতির শিলাচূর্ণ একই সঙ্গে নিয়ে এসে এক জায়গায় জমা করে । এগুলিকে একত্রে অবক্ষেপ বলে । এই হিমবাহ অবক্ষেপের বড় বড় আকৃতির গোলাকার নুড়িপাথরগুলিকে আগামুক বা ইরাটিক (Erratics) বলে । উদাঃ কাশ্মীরের পহেলগামের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে আগামুক বা ইরাটিক দেখা যায় । বৈশিষ্ট্যঃ আগামুক বা ইরাটিক – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো …

Read More….