উপগ্রহ চিত্রের সুবিধা ও অসুবিধা কি কি?

সুবিধাঃ উপগ্রহ চিত্রের বিশেষ কতকগুলি সুবিধা হল –
১. দুর্গম অঞ্চলের তথ্যসংগ্রহঃ উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে দুর্গম অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ করা যায় , যার ফলে উক্ত অঞ্চলের আঞ্চলিক তথ্যাবলী সহজেই পাওয়া যায় ।
২. আবহাওয়ার পূর্বাভাসঃ উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে বৃহৎ অঞ্চলব্যাপী আবহাওয়া , ঘূর্ণবাত ও ঘূর্ণবাতের গতিপথের পূর্বাভাস সবিস্তারে ও নিখুঁতভাবে পাওয়া যায় ।
৩. অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়করঃ কায়িক শ্রম প্রয়োগ করে জমি জরিপে বিশাল অর্থ ব্যয় হয় । সাথে সাথে সময়েরও অপচয় ঘটে । কিন্তু, তাতেও সবসময় নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায় না । সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে উপগ্রহ চিত্রের তথ্য অনেক বেশী নিখুঁত এবং সাশ্রয়কর হয় ।
৪. রিমােট সেন্সিং – এর ত্রুটি দূরীকরণঃ দূর্যোগজনিত কারণে অনেক সময় মেঘাচ্ছনতার ফলে উপগ্রহ চিত্র পাওয়া যায় না , কিন্তু বর্তমানে উপগ্রহ চিত্রের মাইক্রোওয়েভ সেন্সরের সাহায্যে চিত্র গ্রহণ করার ফলে রিমােট সেন্সিং – এর এই অসুবিধা দূর হয়েছে । ফলে বর্তমানে দিন ও রাত উভয় সময়ই নিরবিচ্ছিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভবপর হয়েছে । 
৫. পুনঃদৃশ্যযােগ্যতাঃ উপগ্রহ চিত্রের অন্যতম সুবিধা হল পুনঃদৃশ্যযােগ্যতা ( Repetitivity ) । উপগ্রহসমূহ ভূপৃষ্ঠের কোনাে অঞ্চলের চিত্র নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রদক্ষিণের সময়ানুসারে বারবার পাওয়া যায় । ফলে বন্যা , খরা প্রভৃতি সম্পর্কে সহজেই তথ্য পাওয়া যায় ।
৬. আঞ্চলিকতার ব্যাপকতাঃ কিছু কিছু স্যাটেলাইট চিত্র বিশাল এলাকাকে ( প্রায় ৩০,০০০ বর্গকিমি অবধি ) একটি দৃশ্যেই ধরে রাখতে পারে ।
৭. দ্রুততর বিশ্লেষণঃ উপগ্রহ চিত্রের তথ্যাবলী ডিজিটাল ফর্মে পাওয়া যায় । তাই এর দ্বারা কম্পিউটারে বিশ্লেষণ দ্রুত করা সম্ভব হয় ।
৮. যােগাযােগ স্থাপনঃ উপগ্রহ কতৃক গৃহীত চিত্রের সাহায্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে দ্রুত যােগাযােগ স্থাপন সম্ভবপর হয়েছে ।

অসুবিধাঃ বিভিন্ন সুবিধা থাকলেও উপগ্রহ চিত্রের কিছু অসুবিধাও আছে । যথা –
১. উচ্চতাসংক্রান্ত সমস্যাঃ উপগ্রহ চিত্রের সবথেকে বড় অসুবিধা হল এর দ্বারা বস্তুর উচ্চতা নির্ণয় করা যায় না ।
২. সমীক্ষাগত অসুবিধাঃ আঞ্চলিক ভূমির অংশবিশেষের অণুপর্যায়ে ( Microlevel ) সমীক্ষা উপগ্রহ চিত্রের দ্বারা সম্ভব নয় ।
৩. পৃথকীকরণে সমস্যাঃ উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে একই ধরনের দুটি বস্তুর পৃথকীকরণ ও ব্যাখ্যা অনেকক্ষেত্রে অসুবিধাজনক হয়ে পড়ে ।
৪. প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতাঃ মেঘাচ্ছন্নতা ও কম আলোকজনিত কারণে মাইক্রোওয়েভ সেন্সর ছাড়া অনেকসময়ই তথ্য সংগ্রহ সঠিকভাবে সম্ভব হয় না ।
৫. খরচসাপেক্ষঃ উপগ্রহ চিত্রসংক্রান্ত সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক ব্যয় বেশি বলে অধিকাংশ দেশের পক্ষেই তা পরিচালনা সম্ভব হয় নি ।
৬. জটিল ব্যবহার পদ্ধতিঃ উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহ ও উপলব্ধি করতে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হওয়া প্রয়ােজন । সঠিক জ্ঞানের অভাবে এই চিত্রের ব্যাখ্যা ভুলও হতে পারে । তাই ব্যবহারের জটিলতার কারণে সকলে এই চিত্র বুঝতে ব্যর্থ হতে পারে । সেই কারণে অনেক অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এই ব্যবস্থা পরিচালনা অসম্ভব হয়েছে ।