GPS কি?

সংজ্ঞাঃ কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনাে স্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা নির্ণয়ের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয়ের পদ্ধতিকে GPS ( Global Positioning System ) বলে ।

উদাহরণঃ ১৯৭৮ সালের ২২ শে ফেব্রুয়ারী আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রয়ােজনে প্রথম এই পদ্ধতি ব্যবহার করে । তাদের ব্যবহৃত ২৪ টি উপগ্রহ একত্রে ‘ NAVSTAR ‘ নামে পরিচিত । এছাড়াও, চীনের BeiDou নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম , ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যালিলিও নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম , ভারতের NavlC প্রভৃতিও অন্যান্য উল্লেখযোগ্য GPS পরিচালন ব্যবস্থার উদাহরণ ।

পরিচালন প্রক্রিয়াঃ এই ব্যবস্থা মূলত তিনটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত । যথা – ১. Space Segment  ২. Control Segment  ও ৩. User Segment । এই ব্যবস্থায় GPS স্যাটেলাইটগুলি মহাকাশ থেকে সংকেত সম্প্রচার করে এবং প্রতিটি GPS রিসিভার তার ত্রিমাত্রিক অবস্থান  ( অক্ষাংশ , দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা ) এবং বর্তমান সময় গণনা করতে এই সংকেতগুলি ব্যবহার করে ।

ব্যবহার / গুরুত্বঃ GPS – এর ব্যবহার / গুরুত্বগুলি হল নিম্নরূপ –
১. যে কোনাে স্থানের অবস্থান জানা সম্ভব ।
২. প্রতিরক্ষার কাজে এর গুরুত্ব সর্বাধিক ।
৩. জরিপ কার্যে , ম্যাপ প্রস্তুতিতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ।
৪. বিমান পরিচালনা , জাহাজ পরিচালনা এমনকি বর্তমানে স্থলপথ পরিবহণে তথা আধুনিক মোটরগাড়ীতেও নেভিগেশন ব্যবস্থা পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছে ।
৫. সাম্প্রতিক আধুনিক স্মার্টফোনগুলিতে গুগল ম্যাপ ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ।
৬. পর্বতারোহীসহ অন্যান্য পর্যটকদের কাছে GPS ডিভাইস অতীব গুরুত্বপূর্ণ ।
৭. অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় এর ব্যবহার তাৎপর্যপূর্ণ ।
৮. শত্রুর উপর নজরদারী , ইনটেলিজেন্স সিস্টেম পরিচালনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ।