উপগ্রহ চিত্রের ব্যবহার ও গুরুত্ব লেখ।

উপগ্রহ চিত্রের ব্যবহার ও গুরুত্ব গুলি নিম্নরূপ –
১. সম্পদ নিরীক্ষণঃ ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক সম্পদ নিরীক্ষণ ও সম্পদের বণ্টনের প্রকৃতি নিরূপণে ভূপৃষ্ঠস্থ তথা ভূগর্ভস্থ জলসম্পদ মূল্যায়নে , জলদূষণ চিহ্নিতকরণে ব্যবহার করা হয় । এ ছাড়া , কোনাে অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ ও সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে , স্বাভাবিক উদ্ভিদের আচ্ছাদন চিহ্নিতকরণেও উপগ্রহ চিত্র বিশেষ সাহায্য করে ।

২. আবহাওয়ার পূর্বাভাসঃ উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে মেঘাচ্ছন্নতার পরিমাণ সম্পর্কে জানা যায় । ঝড়ের গঠন ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে জানা যায় । এছাড়াও আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য উপগ্রহ চিত্র থেকে পাওয়া যায় , যা প্রায় নির্ভুলভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয় । ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ করা এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া যায় । বন্যা , খরা , ভূমিকম্প , ভূমিধস প্রভাবিত অঞ্চলের উপগ্রহ চিত্র ওইসব ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে উদ্ধার কাজ ও পুনর্গঠনের কাজে লাগে । যেমন– Met OP , Meteosat প্রভৃতি ।

৩. কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহারঃ উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ফসল চিহ্নিত করা , তাদের শ্রেণিবিভাগ করা এবং মানচিত্র প্রস্তত করা সম্ভব হয় । এছাড়াও, উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে রােগগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত ফসলকে চিহ্নিত করা যায় ফলে দ্রুত প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায় । যেমন- LANDSAT ।

৪. ভূমি ব্যবহার মানচিত্র তৈরীঃ উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে ভূমির আবরণ সম্পর্কে জানা যায় এবং শ্রেণিবিভাগ করা যায় । এছাড়াও ভূমি ব্যবহারের মানচিত্র তৈরি করা যায় এবং ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন জানা যায় । উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে শিল্পাঞ্চল , জনবসতি প্রভৃতি শনাক্তকরণ করা হয় । যেমন IRS P5 , CARTOSAT প্রভৃতি ।

৫. দুর্যোগ মােকাবিলাঃ উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে দুর্যোগের ব্যাপকতা , চরিত্র , দুর্যোগ কবলিত এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় ।

৬. প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যঃ বিভিন্ন সামরিক ক্ষেত্রে ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে উপগ্রহ চিত্র ব্যবহার করা হয় । বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহজেই যােগাযােগ করা যায় । যেমন । ভারতীয় উপগ্রহ RISAT – 2 ভারতীয় সীমানা পর্যবেক্ষণ , বহিরাগত অনুপ্রবেশ প্রভৃতি নিরীক্ষণ করে ।

৭. গবেষণাঃ বিভিন্ন প্রকার গবেষণামূলক কাজ যেমন – মানচিত্র তৈরি , সরকারি তথ্য সংগ্রহ , কোনাে স্থানের সময়ের ভিত্তিতে ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন বিশ্লেষণে উপগ্রহ চিত্র বিশেষ সহায়তা করে ।

৮. মৎস্যক্ষেত্রের অবস্থান নির্ণয়ঃ বর্তমানে কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সাগর কিংবা মহাসাগরে মৎস্যক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের মাছেদের অবস্থান নির্ধারণ করা IRS – P , হয় । বিশেষ করে বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্রগুলিতে IRS – P সিরিজের উপগ্রহ ব্যবহার করা হয় । এছাড়া SEASAT উপগ্রহও এক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ।

৯. পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থাঃ পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থার উন্নতি , নকশা প্রস্তুত করতে এই চিত্র ব্যবহার করা হয় । আধুনিক যােগাযােগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবেই উপগ্রহ নির্ভর । বিশেষ করে টেলিফোন , দূরদর্শন , ইন্টারনেট সহ নানান ক্ষেত্রগুলি সম্প্রসারণের জন্য উপগ্রহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল । তাছাড়া যােগাযােগ ব্যবস্থায় যে GPS ( Global Positioning System ) পরিষেবা প্রদান করা হয় তা সম্পূর্ণ উপগ্রহ ভিত্তিক ।

১০. পরিবেশ সংরক্ষণঃ পরিবেশ প্রত্যক্ষ করা ও তার পর্যবেক্ষণগত কাজে উপগ্রহ চিত্র ব্যবহার করে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় ।