উপগ্রহ চিত্রের বৈশিষ্ট্য লেখ।

উপগ্রহ চিত্রের বৈশিষ্ট্য গুলি হল নিম্নরূপ –
১. দূর সংবেদন ব্যবস্থাঃ কৃত্রিম উপগ্রহে সংস্থাপিত সংবেদকের সাহায্যে দূর থেকে বস্তুর সংস্পর্শে না এসে সংগৃহীত তথ্য থেকে উপগ্রহ চিত্র পাওয়া যায় ।

২. ভিজিটাল তথ্যসংগ্রহঃ প্রত্যেক বস্তুই নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট শক্তি বিকিরণ করে যা কৃত্রিম উপগ্রহের সেন্সর ডিজিটাল আকারে গ্রহণ করে ।

৩. তথ্য সংরক্ষণঃ দূর সংবেদন ব্যবস্থায় পাওয়া তথ্য ডিজিটাল ও গ্রাফিক আকারে সংগৃহীত হয় এবং তথ্যাবলি কম্পিউটারের সাহায্যে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা যায় ।

৪. ছদ্মরঙের ব্যবহারঃ উপগ্রহ চিত্রে ছদ্মরং ( FCC ) ব্যবহার করা হয় । ফলে , ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন বস্তুকে সহজেই পৃথকভাবে চিহ্নিত করা যায় এবং চিত্রের গােপনীয়তা বজায় থাকে ।

৫. চিত্র সংগ্রহের সময়ঃ দিনেরবেলায় সূর্যালােকের ওপর নির্ভর করে বস্তুর তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকে গ্রহণ করে ছবি তােলা যায় এবং রাতের বেলায় র‍্যাডারের সাহায্যে ছবি তােলা যায় । অর্থাৎ , উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সরের সাহায্যে তড়িৎ চৌম্বকীয় শক্তির বিন্যাসের মাধ্যমে সবসময় দিন ও রাত্রির উপগ্রহ চিত্র তোলা সম্ভব হয় ।

৬. ত্রুটিহীনঃ উপগ্রহ চিত্র সাধারণত ৭০০ – ৩৬,০০০ কিমি উচ্চতা থেকে তােলা হয় । কৃত্রিম উপগ্রহগুলির উচ্চতা সর্বদা সমান থাকে বলে উপগ্রহ চিত্রের স্কেলে ত্রুটি লক্ষ করা যায় না ।

৭. আবহাওয়ার পূর্বাভাসঃ উপগ্রহ থেকে ধারাবাহিকভাবে ছবি পাওয়া যায় বলে ভূপৃষ্ঠের ওপরে মেঘের অবস্থান বা বায়ুমণ্ডলীয় গােলােযােগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় । এতে আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব ।

৮. দ্রুত তথ্য সংগ্রহঃ দূর সংবেদন ব্যবস্থার সাহায্যে খুব দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করা যায় । জমি জরিপ বা ক্ষেত্র সমীক্ষার মতাে অনেক লােকের দরকার হয় না । ফলে এতে অনেক সময় সাশ্রয় ঘটে ।

৯. সেন্সরের ব্যবহারঃ এই চিত্র প্রস্তুতিতে দু – ধরনের সেন্সর ব্যবহার করা হয় ।

১০. পিক্সেলঃ উপগ্রহ চিত্রের ক্ষুদ্রতম একককে পিক্সেল বলে । পিক্সেলের আকারের ওপর উপগ্রহ চিত্রের গুণগত মান বহুলাংশে নির্ভর করে ।

১১. দুর্গম অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহঃ দুর্গম স্থানে যেখানে পায়ে হেঁটে পৌঁছােনাে সম্ভব হয় না , কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীপৃষ্ঠের সেইসব দুর্গম অঞ্চলের ছবি তােলা যায় ।

১২. মানচিত্র অঙ্কনঃ উপগ্রহের মাধ্যমে বস্তুর প্রতিফলন প্রথমে সাংখ্যিক তথ্য ( digital data ) হিসেবে সংগ্রহ করা হয় । পরে কম্পিউটারের মাধ্যমে চিত্রগতরূপ দেওয়া হয় । এর সাহায্যে মানচিত্র আঁকা যায় ।