ব্রহ্মপুত্র নদ বন্যাপ্রবণ কেন?

ভারতের প্রধান প্রধান নদ – নদীগুলির মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এই নদের মােট দৈর্ঘ্য ২৮৯০ কিঃ মিঃ , যার মধ্যে ভারতে এর প্রবাহপথ ৮৮৫ কিঃ মিঃ । ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতের মানস সরোবর হ্রদের ১০০ কিঃ মিঃ দক্ষিণ – পূর্বে ৫,১৫০ মিঃ উচ্চতায় অবস্থিত চেমায়ুং দং নামক হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে সাংপো নামে তিব্বতের দক্ষিণ দিয়ে পূর্ব দিকে ১,৬৯৫ কিঃ মিঃ পথ প্রবাহিত হয়েছে । প্রায় প্রতিবছরই এই নদে বন্যার সৃষ্টি হয় । ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যার জলে প্লাবিত হয় । নিচে ব্রহ্মপুত্র নদ বন্যাপ্রবণ কেন তা সম্পর্কে আলোচনা করা হল –

১. অগভীর নদীখাতঃ ব্রহ্মপুত্র নদ অসমের যে অংশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সেখানে নদীখাতের ঢাল অত্যন্ত কম । তাই নদীবাহিত বিপুল পরিমাণ পলি বহন করতে না পেরে নদীখাতে সঞ্চয় করে । বহু বছর ধরে এভাবে পলি সঞ্চয়ের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গভীরতা বর্তমানে যথেষ্ট হাস পেয়েছে । এর ফলে নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সহজেই বন্যার সৃষ্টি হয় ।

২. অধিক জলের যোগানঃ গ্রীষ্ম – বর্ষাকালে সাংপাে নদ যখন তিব্বতের উর্ধপ্রবাহ অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণে বরফগলা জল বহন করে আনে , সেই সময় অসমেও প্রবল বর্ষণ হয় । অগভীর ব্রক্ষ্মপুত্রের খাতে যখন ওই বরফগলা জল ও বৃষ্টির জল এসে পড়ে , তখন তা বহন করার ক্ষমতা ব্রহ্মপুত্রের আর থাকে না । ফলে দুকূল ছাপিয়ে বন্যা হয় ।

৩. অবস্থানঃ হিমালয় ও মেঘালয় মালভূমির মধ্যবর্তী সংকীর্ণ উপত্যকার মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রবাহিত হয়েছে । বন্যা সৃষ্টির এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ।

৪. বালুচর ও দ্বীপের উপস্থিতিঃ ব্রহ্মপুত্র নদের অগভীর প্রশস্ত উপত্যকায় পলি সঞ্চয়ের ফলে অসংখ্য বালুচর ও দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে । বর্ষাকালে এগুলি জলপ্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে । ফলে বন্যার সৃষ্টি হয় ।

৫. কম ভূমিঢালঃ ব্রহ্মপুত্র নদ অসমের যে অংশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে , সেখানে ভূমির ঢাল খুবই কম । এজন্য ব্রহ্মপুত্র নদের গতি অত্যন্ত ধীর এবং পলির বহনক্ষমতাও সামান্য । তাই ব্রহ্মপুত্র এবং তার উপনদীগুলি তাদের উর্দ্ধপ্রবাহ অঞ্চল থেকে যে পরিমাণ পলি বহন করে আনে তার বেশিরভাগই এখানকার নদীখাতে জমা হয় । এইভাবে বহুবছর ধরে পলি সঞ্চিত হওয়ার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গভীরতা বর্তমানে যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে ।