বৃষ্টির জল সংরক্ষণের পদ্ধতি লেখ।

বৃষ্টিপাতের জলের একটা বিরাট বড় অংশ ভূপৃষ্ঠ প্রবাহের আকারে নদী ও সমুদ্রে গিয়ে মেশে । এই জলের কিয়দংশ আমরা ধরে রেখে আমাদের বিভিন্ন জলসংক্রান্ত প্রয়োজন মেটাতে পারি ।  বৃষ্টির জল সংগ্রহ করে প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয় । এই পদ্ধতিকে রেন ওয়াটার হারভেস্টিং ( Rain Water Harvesting ) বলে । বৃষ্টির জল সংরক্ষণের পদ্ধতি মূলত দুই প্রকার । যথা – ১. অভ্যন্তরীণ জল সংরক্ষণ এবং ২. বাহ্যিক জল সংরক্ষণ । নিচে এদুটি পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল –

ক) অভ্যন্তরীণ জল সংরক্ষণঃ কোনাে অঞ্চলের বৃষ্টির জলকে সরাসরি জমিতে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে অভ্যন্তরীণ জলসংরক্ষণ বলে ।
পদ্ধতিঃ অভ্যন্তরীণ জল সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি নিম্নরূপ –
১. জমির ঢালের আড়াআড়িভাবে ফসল বুনলে বৃষ্টির জল দ্রুত অপসারিত হতে না পেরে মাটিতে প্রবেশ করতে পারে । 
২. বর্ষার পূর্বে জমি কর্ষণ করে রাখলে মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় । 
৩. জমিতে গভীর শিকড়যুক্ত পাতাওয়ালা ডালশস্য চাষ করলে বৃষ্টির ফোঁটা দ্বারা মাটি ক্ষয় কম হয় এবং জমিতে জল প্রবেশ করে । 
৪. জমির ঢাল বিচার করে ছােটো ছােটো বাঁধ বা আল দিলে জলের গতি কম হয় , ফলে ভৌমজলের সঞ্চয় বৃদ্ধি পায় ।

খ) বাহ্যিক জলসংরক্ষণঃ বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের জলকে বিভিন্ন উপায়ে ধরে রাখা বা সংগ্রহ করাকে বাহ্যিক জল সংরক্ষণ বলে ।
পদ্ধতিঃ বাহ্যিক জল সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি নিম্নরূপ –
১. বাড়ির ছাদে বৃষ্টির জল ধরে রাখাঃ বৃষ্টির জল বাড়ির ছাদে পড়লে তা সংগ্রহ করে পাইপের সাহায্যে মাটির নিচে জলাধারে জমা করা হয় । এভাবে অনেকগুলি জলাধার নির্মাণ করলে তাতে বর্ষাকালের বৃষ্টির জল সঞ্চয় করে রেখে সারাবছর ব্যবহার করা যায় । বিভিন্ন গৃহস্থালী প্রয়োজনে , বাড়ির ফুল ও সবজি বাগানে সেচকাজে , পরিশ্রুত করে পানীয় জল হিসাবে এই জলের ব্যবহার সম্ভব । এছাড়াও, ব্যবহারের অতিরিক্ত জল যদি মাটির নিচেও চলে যায় তাতেও ভূগর্ভস্থ ভৌমজলের ভান্ডার সমৃদ্ধ হয় ।
২. ভূপৃষ্ঠস্থ জলপ্রবাহকে আটকে রাখাঃ বৃষ্টিপাতের পর প্রবহমান জলপ্রবাহকে আটকে রেখে তা ব্যবহার করা যায় । বড় বড় জলাধার নির্মাণ করে এই জল ধরে রাখতে পারলে তা থেকে সারাবছর ধরেই জলের যোগান পাওয়া যায় । এছাড়াও এই পদ্ধতিতে ভৌমজলস্তরেরও সমৃদ্ধি ঘটে ।
৩. জলাশয় ও পরিখা খননঃ বড় বড় জলাশয় ও পরিখা খনন করেও তাতে বৃষ্টিপাতের জল ধরে রাখা হয় । এর ফলেও সারাবছর জলের চাহিদার একাংশ যেমন মেটানো সম্ভব হয় , তেমনই ভৌমজলের ভান্ডারও বৃদ্ধি পায় ।
৪. জলভরণ নলকূপঃ অপেক্ষাকৃত অবনত অঞ্চলে একটি বড় গর্ত করে গর্তের মাঝখানে মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত পাইপ বসানো হয় । পাইপের মুখ উন্মুক্ত রেখে গর্তটিকে বুজিয়ে দেওয়া হয় । এর ফলে বৃষ্টির জল গর্তে জমা হওয়ার পর সহজেই নলকূপের পাইপের মধ্য দিয়ে ভৌমজলস্তরে চলে যায় ।