অতিরিক্ত জলসেচের কুফলগুলি কি কি?

জলসেচের ফলে কৃষির বিকাশ ঘটলেও অত্যধিক সেচকার্যের ফলে অনেক সময় কিছু কিছু কুফলও দেখতে পাওয়া যায় । নিচে অতিরিক্ত জলসেচের কুফলগুলি কি কি তা নিয়ে আলোচনা করা হল –
১. লবণতা বৃদ্ধিঃ গাঙ্গেয় সমভূমির অংশবিশেষে অত্যধিক সেচকার্যের ফলে মৃত্তিকার নিম্নস্তর থেকে লবণ সেচের জলে দ্রবীভূত হয়ে কৈশিক প্রক্রিয়ায় ( Capillary action ) মৃত্তিকার উপরিভাগে উঠে এসে সঞ্চিত হয় , যা ক্রমশ মৃত্তিকাকে লবনাক্ত করে তোলে । অনেক সময় এইভাবে ক্ষারের পরিমাণও বেড়ে যায় । এর ফলে কৃষিকার্যের ক্ষতি হয় । সময় সময় ভূগর্ভের জলে লবণের পরিমাণ অধিক থাকে এবং তা কূপ বা নলকূপের মাধ্যমে সেচকার্যে ব্যবহার করলেও কৃষিকার্যের ক্ষতি হয় ।

২. উৎপাদন হ্রাসঃ যে সব ফসলে জল কম লাগে সেখানে অতিরিক্ত জল জমলে অক্সিজেনের অভাবে ফসলের অভ্যন্তরীণ জৈব প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় । ফলে ফসলের উৎপাদন যেমন হ্রাস পায় তেমনি গুণগতমানও কমতে থাকে ।

৩. উর্বরতা হ্রাসঃ জলসেচের সাহায্যে বহু জমিতে সারাবছর একই ফসল সারাবছর চাষ করা হয় । এর ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পেতে থাকে । এ ছাড়াও সেচের জলের স্রোতের আঘাতে উপরের স্তরের মাটির পাতলা আবরণ ক্ষয় হয় । এর ফলে মৃত্তিকার জৈব পদার্থ ও খনিজ উপাদান অপসারিত হয়ে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় ।

৪. মৃত্তিকা দূষণঃ অতিরিক্ত জলসেচের জন্য মাটি দীর্ঘকাল ভিজে থাকলে মাটিতে হাইড্রোজেন সালফাইড , বিউট্রিক অ্যাসিড প্রভৃতি বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানের পরিমাণ বাড়তে থাকে , যা ক্রমশ মৃত্তিকা দূষণ বৃদ্ধি করে মৃত্তিকার গুণগত মানের অবনতি ঘটায় ।

৫. রােগ-জীবাণু বৃদ্ধিঃ একটানা জলাবদ্ধতার কারণে মাটিতে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু , ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে । ফলে উদ্ভিদের দেহে যেমন বিভিন্ন রােগের সৃষ্টি হয় , তেমনই মানবদেহেও বিভিন্ন জলবাহিত রােগের প্রকোপ বাড়তে থাকে ।

৬. ভূগর্ভস্থ জলতল হ্রাসঃ কূপ ও নলকূপের মাধ্যমে সেচের কাজে অতিরিক্ত ভৌমজল তােলার ফলে মাটির ভৌমজলতল অনেক নীচে নেমে যায় ।

৭. নাইট্রোজেন সংশ্লেষে বিঘ্নঃ কৃষিজমিতে অনেক দিন জল জমে থাকলে কেঁচো , রাইজোবিয়াম , অণুজীবেরা নাইট্রোজেন সংশ্লেষ করতে পারে না । ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে । 

৮. মৃত্তিকার অম্লতা বৃদ্ধিঃ মৃত্তিকার উপরিভাগে জল বেশি থাকার ফলে জলের হাইড্রোজেন আয়ন ও হাইড্রোক্সিল আয়ন দ্বারা রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে ও মৃত্তিকা অম্লধর্মী হয়ে পড়ে ।

৯. আর্সেনিকের পরিমাণ বৃদ্ধিঃ ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে আর্সেনিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় ও মানবদেহে ব্লাকফুট রোগের মতো ভয়াবহ রোগ দেখা দেয় ।