ফারাক্কা পরিকল্পনা সম্পর্কে লেখ।

পরিচিতিঃ গঙ্গার মূল প্রবাহ বাংলাদেশের পদ্মা নদীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভাগীরথী – হুগলী নদীতে জল অনেক কম আসে । এছাড়া গঙ্গার উর্দ্ধপ্রবাহে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে অসংখ্য সেচখাল খনন করায় নিম্নপ্রবাহে জলের পরিমাণ কমে গেছে । গ্রীষ্মকালে ফারাক্কার কাছে জল এত কমে যায় যে ভাগীরথীর সাথে গঙ্গার যােগাযােগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে । ফলে হুগলী নদীতে জল কম আসার দরুন নদীতে পলি সঞ্চিত হয়ে কলকাতা বন্দরের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে । কলকাতা বন্দরকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ফারাক্কা পরিকল্পনা বা গঙ্গা বাঁধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে ।

উদ্দেশ্যঃ ফারাক্কা পরিকল্পনা – র উদ্দেশ্যগুলি নিম্নরূপ –
১. নদীতে জলের ভারসাম্য রক্ষাঃ এই পরিকল্পনায় মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ানের নিকট তিলডাঙ্গা নামক স্থানে গঙ্গার উপর একটি বাঁধ নির্মিত হয়েছে । এটি ফারাক্কা বাঁধ নামে পরিচিত । জঙ্গীপুরে ভাগীরথীর উপর অপর একটি বাঁধ নির্মিত হয়েছে । ফারাক্কা বাঁধের পশ্চাৎদিক থেকে প্রায় ৩১ কিলােমিটার দীর্ঘ একটি ফিডার খাল কেটে জঙ্গীপুর বাঁধের দক্ষিণে ভাগীরথী নদীর সাথে যুক্ত করা হয়েছে , যার ফলে গঙ্গানদী থেকে জলস্রোত ভাগীরথী – হুগলী নদীর মধ্য দিয়ে অধিক পরিমাণে প্রবাহিত হচ্ছে ।
২. কলকাতা বন্দরের উন্নতিঃ পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাগীরথী – হুগলীতে পুনরায় জল বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলস্রোতে নদীগর্ভে সঞ্চিত পলি মাটি ও বালুকণা ধুয়ে সাগরে চলে যাচ্ছে । ফলে বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজ জোয়ারের সময় নিরাপদে কলকাতা বন্দরে ব্যয়সাপেক্ষ ড্রেজারের সাহায্য ছাড়াই প্রবেশ করতে পারছে । নদীতে জলবৃদ্ধি ঘটার ফলে পশ্চাদভূমির সাথে কলকাতা বন্দরের জলপথে পণ্য পরিবহণেরও উন্নতি ঘটেছে ।
৩. পানীয় জলের যোগানঃ হুগলী নদীতে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কলকাতায় পানীয় জলের সরবরাহ সুনিশ্চিত হয়েছে ।
৪. পরিবহনের উন্নতিঃ ফারাক্কা বাঁধের উপর নির্মিত সড়কসেতু ও রেলসেতু উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সরাসরি যোগাযােগ স্থাপন করেছে । ফলে উত্তরবঙ্গ ও অসমের চা , ফল ও কাঠ দ্রুত কলিকাতা বন্দর ও শিল্পাঞ্চলে প্রেরিত হচ্ছে ।
৫. কৃষিকাজে উন্নতিঃ জলঙ্গী , চুর্ণী প্রভৃতি শাখানদীগুলিতে জলবৃদ্ধির ফলে মুর্শিদাবাদ , নদীয়া ও উভয় ২৪ পরগণা জেলার ধান , পাট ও অন্যান্য ফসলের চাষ লাভবান হয়েছে ।