ভারতের উপকূলীয় সমভূমির গুরুত্ব আলােচনা কর।

ভারতের জনজীবনে সুদীর্ঘ উপকূলীয় সমভূমির গুরুত্ব অপরিসীম । নিচে সেগুলি বিস্তারিত আলোচনা করা হল –
১  কৃষিকাজের প্রসারঃ : উপকুলের উর্বর সমভূমিতে বিশেষ করে পূর্ব উপকূলের নদীগঠিত বদ্বীপ অঞ্চলে প্রচুর ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপন্ন হয় । এছাড়াও, সমুদ্র উপকূলে নারকেল , সুপারি , তাল , বিভিন্ন মশলা প্রভৃতি উৎপন্ন হয় ।

২. খনিজ সম্পদ আহরণঃ পশ্চিম উপকূলে খনিজ তেল উত্তোলন করা হয় । পূর্ব উপকূলের মহীসােপান অঞ্চলেও খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে । মালাবার উপকূলীয় সমভূমি থেকে ইলমেনাইট , মােনাজাইট প্রভৃতি খনিজ দ্রব্য আহরণ করা হয় ।

৩. বনজ সম্পদ সংগ্রহঃ উপকূল সংলগ্ন অরণ্য বিশেষত ভারতের ম্যানগ্রোভ অরণ্য বনজ সম্পদে ( কাঠ , মধু , মোম , রজন প্রভৃতি ) সমৃদ্ধ অঞ্চল । যেমন- সুন্দরবন অরণ্যাঞ্চল ।

৪. মৎস্য সম্পদ আহরণঃ ভারতের উপকূল অঞ্চলে বহু সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ক্ষেত্রের বিকাশ ঘটেছে ।  অগভীর সমুদ্রে এবং উপকূলবর্তী লেগুন হ্রদ ও অন্যান্য হ্রদ থেকে প্রচুর মৎস্য সংগ্রহ করে বহু লােক জীবিকা নির্বাহ করে । এছাড়া সমুদ্র থেকে ঝিনুক , শঙ্খ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীও শিকার করা হয় । ইদানিং কেরালার উপকূল থেকে প্রচুর চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্য সংগ্রহ করে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে ।

৫. শিল্পের উন্নতিঃ উপকূলের সমভূমিতে জাহাজ নির্মাণ শিল্প , পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প , কাগজ শিল্প , মােটরগাড়ি নির্মাণ শিল্প , রাসায়নিক শিল্প প্রভৃতি বিকাশলাভ করেছে ।

৬. বাণিজ্যের প্রসারঃ এই অংশে অবস্থিত মুম্বাই , চেন্নাই , মার্মাগাও , কোচিন বা কোচি প্রভৃতি বন্দরের মাধ্যমে বাণিজ্যের সুবিধা থাকায় শিল্পবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাবসা – বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে ।

৭. ঘন জনবসতি সৃষ্টিঃ এই সমভূমিতে বন্দরকে কেন্দ্র করে একাধিক ঘন জনবসতিপূর্ণ নগর বিকাশলাভ করেছে । যেমন মুম্বাই , চেন্নাই , বিশাখাপত্তনম প্রভৃতি ।

৮. লবণ উৎপাদনঃ পশ্চিম উপকূলের উত্তরাংশে সমুদ্রের লবণাক্ত জল থেকে প্রচুর পরিমাণে লবণ উৎপাদন করা হয় ।