ডেকান ট্র্যাপ কি?

সংজ্ঞাঃ উত্তর দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চলের এক বিস্তীর্ণ লাভাগঠিত অংশ টেবিলের মত মাথাবিশিষ্ট হয়ে পশ্চিম ও উত্তর – পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ – পূর্ব দিকে সিঁড়ির মত ধাপে ধাপে উপর থেকে নীচে নেমে গেছে । একে ডেকান ট্র্যাপ ( Deccan Trap ) বলা হয় । ইংরেজি ‘ Deccan ‘ শব্দের অর্থ দক্ষিণপ্রান্ত এবং সুইডিশ ‘ Trap ‘ শব্দের অর্থ “ সিঁড়ির ধাপ ।

অবস্থানঃ সমগ্র মহারাষ্ট্র ছাড়াও গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশের অংশবিশেষ জুড়ে এই ভূপ্রকৃতি লক্ষ করা যায় ।
 
সৃষ্টির কারণঃ ক্রিটেসিয়াশ যুগে উপদ্বীপীয় মালভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত ম্যাগমা বিস্ফোরণ ছাড়াই ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে নির্গত হয়ে প্রবাহরূপে এই অঞ্চলটিকে ঢেকে ফেলে এবং কালক্রমে লাভা জমাট বেঁধে মালভূমির সৃষ্টি হয় । ডেকান ট্র্যাপ বহুকাল ধরে লাভা জমে সৃষ্টি হওয়ার ফলে এবং পরবর্তীকালে অসম ক্ষয়কার্যের কারণে এই মালভূমি সিঁড়ির মতাে ধাপযুক্ত হয়ে পড়ে ডেকানট্রাপ অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে ।

বৈশিষ্ট্যঃ ডেকানট্রাপ – এর বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ –
১. বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে মালভূমিটির বিষম ক্ষয়ের ফলে ওপরের অংশটি সমতল এবং পার্শ্বদেশ সিঁড়ির মতাে ধাপযুক্ত ।
২. ধাপগুলি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঢালু ।
৩. নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে ডেকান ট্র্যাপ অঞ্চলটি ব্যবচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ।
৪.. এই অঞ্চলে ঘন কালাে রঙের রেগুর মৃত্তিকা দেখা যায় । তাই এই অঞ্চলের অপর নাম দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চল ।
৫.এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কলসুবাই , যার উচ্চতা ১৬৪৬ মিটার ।
৬. এখানকার পাহাড়ের মাথাগুলি চ্যাপটা ।
৭. ডেকান ট্র্যাপের লাভার গভীরতা পশ্চিম থেকে পূর্বে ও দক্ষিণে ক্রমশ কমতে থাকে ।
৮. এই বিশাল অঞ্চলটি পৃথিবীর সুপ্রাচীন ভূখণ্ড গন্ডােয়ানাল্যান্ডের অন্তর্গত একটি মালভূমি ।
৯. আজ থেকে প্রায় ৬-৭ কোটি বছর আগে ভূ – ত্বকের প্রশস্ত ফাটল পথে ভূ – গর্ভস্থ লাভা নিঃসৃত হয়ে এই অঞ্চলটিকে চাদরের মত ঢেকে দেয় ।
১০. লাভা নিঃসরণের ঘটনা বারবার থেমে থেমে ঘটায় এখানকার লাভা স্তরে স্তরে সাজানাে এবং স্থান বিশেষে এর গভীরতা ১৫০ মিটার থেকে ২,০০০ মিটার ।