ভারতের দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কে লেখ।

ভারতের দ্বীপপুঞ্জকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয় । যথা – ক) পূর্ব উপকূলের বঙ্গোপসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ও খ) পশ্চিম উপকূলের আরবসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ । নিচে এদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল –
ক) বঙ্গোপসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জঃ ভারতের পূর্ব উপকূলে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জগুলাের মধ্যে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জই প্রধান । এছাড়া বঙ্গোপসাগরে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পূর্বদিকে অবস্থিত নারকোন্ডাম ও ব্যারেন দ্বীপদুটোও রাজনৈতিকভাবে ভারতের অন্তর্গত । এই দুটো দ্বীপই সবিরাম আগ্নেয়গিরির নিদর্শন । এ ভূ – প্রাকৃতিকভাবে বঙ্গোপসাগরের সব দ্বীপই আগ্নেয় দ্বীপ ।

অবস্থানঃ বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ – পূর্ব অংশে কলকাতা থেকে প্রায় ১,২৫৫ কিলােমিটার এবং তামিলনাড়ু উপকূল থেকে ১,১৯১ কিলােমিটার দূরত্বে ২০৪ টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত । আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ১২০ কিলােমিটার দূরে ১৯ টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত । এই দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণে প্রায় ৬২ ° উত্তর অক্ষাংশ থেকে উত্তরে ১৪ ° উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত । নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দ্বীপগুলাের মধ্যে উত্তর সীমায় অবস্থিত কার – নিকোবর দ্বীপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ।

আয়তনঃ আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মােট আয়তন প্রায় ৮,২৯৩ বর্গ কিলােমিটার ।

ভৌগােলিক গঠনঃ বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপগুলাে সমুদ্রে নিমজ্জিত পাহাড়ের শিখর দেশবলে অনুমান করা হয় । এখানে পাঁচটি প্রধান দ্বীপ ( যথা : উত্তর আন্দামান , মধ্য আন্দামান , দক্ষিণ আন্দামান , ছােট আন্দামান এবং দক্ষিণে গ্রেট নিকোবর দ্বীপ ) এবং দুশাের বেশী ছােট ছােট দ্বীপ আছে । এখানকার দ্বীপগুলাে পর্বতময় । দক্ষিণ আন্দামানের বেলেপাথর গঠিত আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের মাউন্ট হ্যারিয়ট ( উচ্চতা ৪৫০ মিটার ) একটি উল্লেখযােগ্য পর্বত । এই অঞ্চলে নারকোন্ডাম ও ব্যারেণ দ্বীপে দুটি সবিরাম আগ্নেয়গিরি আছে ।

বৈশিষ্ট্যঃ এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ –
১. এই দ্বীপপুঞ্জ আসলে আগ্নেয় দ্বীপের সমষ্টি ।
২. নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশ প্রবাল দ্বারা গঠিত ।
৩. স্যাডল পিক ( ৭৩৭ মিটার ) এখানকার সর্ব্বোচ্চ শৃঙ্গ ।
৪. এই দ্বীপপুঞ্জের ব্যারেন ’ একটি সবিরাম আগ্নেয়গিরি এবং নারকোন্ডাম ’ একটি মৃত আগ্নেয়গিরি ।
৫. আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ১০° চ্যানেল দ্বারা বিচ্ছিন্ন ।
৬. দক্ষিণ আন্দামান ও ছােটো আন্দামানের মধ্যে রয়েছে ডানকান প্যাসেজ ।
৭. গ্রেট নিকোবরের দক্ষিণতম বিন্দু ইন্দিরা পয়েন্ট ’ ভারতের দক্ষিণতম স্থলবিন্দু ।
৮. দ্বীপগুলি খরস্রোতা নদী , বিচ্ছিন্ন পাহাড় ও ঘন চিরহরিৎ অরণ্য অধ্যুষিত ।

খ) আরবসাগরীয় দ্বীপসমূহঃ আরবসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে আমিনদিভি , লাক্ষা ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জই প্রধান । এরা প্রধানত প্রবাল দ্বীপ । মৃত প্রবাল কীটের দেহাবশষে যে চুনজাতীয় পদার্থ থাকে তা সমুদ্রগর্ভে সঞ্চিত হয়ে এই দ্বীপগুলি গড়ে উঠেছে ।

অবস্থানঃ ৮ ° উত্তর অক্ষাংশ থেকে ১২ ° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে কেরালার উপকূল থেকে প্রায় ৩২৪ কিলােমিটার দূরে ২৫ টি ছােট ছােট দ্বীপ নিয়ে লাক্ষা , আমিনদিভি ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জ গঠিত । এই দ্বীপপুঞ্জের সরকারী নাম রাখা হয়েছে লাক্ষাদ্বীপ ।

আয়তনঃ লাক্ষা , আমিনদিভি ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জের মােট আয়তন ৩২ বর্গ কিলােমিটার মাত্র । মিনিকয় দ্বীপটি হল এই দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ , এর আয়তন ৪.৫০ বর্গ কিলােমিটার ।

বৈশিষ্ট্যঃ এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ –
১. এই দ্বীপপুঞ্জের সব দ্বীপই প্রবাল কীটের দেহাবশেষ জমে সৃষ্ট প্রবাল দ্বীপ ।
২. দ্বীপগুলির কোনাে স্থানই সমুদ্রতলের 5 মিটারের বেশি উঁচু নয় ।
৩. দ্বীপগুলির মধ্যে মিনিকয় , আমিনদিভি , লাক্ষাদ্বীপ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য ।
৪. মিনিকয় দ্বীপটি এখানকার সবচেয়ে বড়াে দ্বীপ ।
৫. এখানে সুন্দর প্রবাল হ্রদ দেখা যায় ।
৬. মিনিকয় ও লাক্ষাদ্বীপের মধ্যে রয়েছে ৯° চ্যানেল এবং মালদ্বীপ ও মিনিকয়ের মধ্যে রয়েছে ৪° চ্যানেল ।