ভারতের উপকূলীয় সমভূমি সম্পর্কে লেখ।

পরিচিতিঃ সমুদ্র তীরবর্তী সমভূমি অঞ্চলকে এক কথায় উপকূলীয় সমভূমি বলা হয় । ভারতের উপদ্বীপ অঞ্চলের উভয়তট বেষ্টন করে আছে ভারতের উপকূলীয় সমভূমি ।

অবস্থানঃ পশ্চিম থেকে পূর্বে বিস্তৃত ত্রিভুজাকৃতি দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমদিকে আরবসাগর এবং পূর্বদিকে বঙ্গোপসাগর অবস্থান করছে । গুজরাটের দক্ষিণ অংশ থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র , গােয়া , দমন , দিউ , কর্ণাটক ও কেরালা রাজ্য আরবসাগরের তীরে অবস্থিত , অর্থাৎ এরা ভারতের পশ্চিম উপকূলবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল । আবার সমগ্র তামিলনাড়ু , অন্ধ্রপ্রদেশ , ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অংশ ভারতের পূর্বদিকে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী হওয়ায় এইসব রাজ্যকে পূর্ব উপকূলবর্তী রাজ্য বলা হয় । প্রায় ৩,১০০ কিলােমিটার লম্বা ভারতীয় উপকূলভাগ দীর্ঘ এবং সংকীর্ণ সমভূমি দ্বারা গঠিত ।

শ্রেণীবিভাগঃ ভূ – প্রকৃতিগত পার্থক্য অনুসারে ভারতের উপকূলের সমভূমিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায় , যথা – ক ) পূর্ব উপকূলের সমভূমি এবং ( খ ) পশ্চিম উপকূলের সমভূমি । নিচে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল –
ক) পূর্ব উপকূলের সমভূমিঃ
অবস্থান ও বিস্তারঃ বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগে ওড়িশা , অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু রাজ্যের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই পূর্ব উপকূলের সমভূমি উত্তরে ওড়িশা থেকে দক্ষিণেতামিলনাড়ু রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ কিলােমিটার দীর্ঘ অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করছে । পশ্চিমে পূর্বঘাট পর্বত থেকে পূর্বে বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সমভূমির গড় বিস্তার ১০০ কিলােমিটার এবং সেই হিসাবে এই সমভূমি অঞ্চলটি পশ্চিম উপকূলের সমভূমির তুলনায় অনেক বেশী প্রশস্ত । বিশেষত মহানদী , গােদাবরী , কৃষ্ণা ও কাবেরীর ব – দ্বীপ অঞ্চলে এই উপকূলভূমি পূর্ব – পশ্চিমে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে ।
শ্রেণীবিভাগঃ উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় ১,৫০০ কিলােমিটার দীর্ঘ সমগ্র পূর্ব উপকূলকে প্রধান দু’ভাগে ভাগ করা যায় , যথা – 
১. উত্তর সরকার উপকূলঃ ওড়িশার সুবর্ণরেখা নদীর মােহনা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা নদীর ব – দ্বীপের পূর্বভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূল ভাগকে উত্তর সরকার উপকূল বলা হয় ।
শ্রেণীবিভাগ : উত্তর সরকার উপকূলটি দুই ভাগে বিভক্ত । যথা –

(a) ওড়িশা বা উৎকল উপকূলঃ উত্তর সরকার উপকূলের উত্তরভাগে অবস্থিত উৎকল বা ওড়িশা উপকূল অঞ্চলটি প্রধানত মহানদী , বৈতরণী এবং ব্রাহ্মণী নদী তিনটির ব – দ্বীপ নিয়ে গঠিত হয়েছে । ওড়িশা উপকূলকে মহানদী ব – দ্বীপ অঞ্চলও বলা হয় ।
ভূ – প্রকৃতিঃ প্রধানত পলিগঠিত নিম্নভূমি , জলাভূমি এবং ছােট ছােট বালিয়াড়ি নিয়ে উৎকল উপকূল অঞ্চলটি গঠিত । মহানদী ব – দ্বীপের দক্ষিণে ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ চিল্কা অবস্থিত । চিল্কা উপহ্রদটি প্রকৃতপক্ষে বঙ্গোপসাগরের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ এবং প্রায় ২০০ মিটার উঁচু একটি বালুচর চিল্কাকে বঙ্গোপসাগর থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে , ফলে চিল্কার জল লবণাক্ত ।

( b ) অন্ধ্র উপকূল : উৎকল উপকূলের পশ্চিমে অবস্থিত অন্ধ্র উপকূল অঞ্চলটি চিল্কা উপহ্রদ থেকে কৃষ্ণা নদীর মােহনা পর্যন্ত বিস্তৃত ।
ভূ – প্রকৃতিঃ এই অঞ্চলটি প্রাচীন শিলা গঠিত উচ্চভূমি এবং কৃষ্ণমৃত্তিকা গঠিত সমভূমি অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছে । অন্ধ্র উপকূলের কৃষ্ণা ও গােদাবরী নদীর ব – দ্বীপ অঞ্চল মােহনা থেকে পশ্চিমদিকে স্থলভাগের মধ্যে দিয়ে বহুদূর পর্যন্ত ( ২৮০ কিলােমিটার ) প্রসারিত হয়েছে ।  গােদাবরী ও কৃষার ব – দ্বীপের মধ্যে কোলার হ্রদ অবস্থিত । 

২. করমণ্ডল উপকূলঃ কৃষ্ণা নদীর ব – দ্বীপের পশ্চিমভাগ থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলভাগকে করমণ্ডল উপকূল বলে । এছাড়া , পুলিকট উপহ্রদ থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলকে তামিলনাড়ু উপকূলও বলা হয় ।
ভূ – প্রকৃতি : তামিলনাড়ু উপকূলের কাবেরী নদী গঠিত বিশাল ব – দ্বীপ অঞ্চলটি মােহনা থেকে পশ্চিমদিকে দাক্ষিণাত্যের স্থলভাগের মধ্যে দিয়ে পূর্ব – পশ্চিমে প্রায় ১০০ কিলােমিটার প্রসারিত হয়েছে । তামিলনাড়ু উপকূলের থাঞ্জাভুর জেলায় বছরে দু’বার ( বর্ষা ও শীতের শুরুতে ) বৃষ্টিপাত হয় । প্রচুর বৃষ্টিপাত ও উর্বর মৃত্তিকার জন্য এই অঞ্চলে প্রচুর ফসল জন্মায় , এই জন্য এই অঞ্চলকে দক্ষিণ ভারতের শস্যভাণ্ডার ’ বলে । ০ তামিলনাড়ু উপকূলে মাদ্রাজ ( চেন্নাই ) শহরের কাছে পুলিকট উপহ্রদ এবং গােদাবরী ও কৃষার ব – দ্বীপের মধ্যে কোলার হ্রদ অবস্থান করছে । এ করমণ্ডল উপকূলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত মান্নার উপসাগর ও পক প্রণালী তামিলনাড়ু থেকে শ্রীলঙ্কাকে বিচ্ছিন্ন করেছে ।

খ) পশ্চিম উপকূলের সমভূমিঃ
অবস্থান ও বিস্তারঃ ভারতের পশ্চিম দিকে আরবসাগরের উপকূলবর্তী এই সমভূমি উত্তরে নর্মদা নদীর তীরে অবস্থিত ব্রোচ বন্দর থেকে শুরু করে দক্ষিণে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত প্রায় ১,৬০০ কিলােমিটার দীর্ঘ অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করছে । পশ্চিমে আরবসাগর থেকে পূর্বে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সমভূমির প্রস্থ ১০ থেকে ৮০ কিলােমিটার । দক্ষিণ থেকে উত্তরে কেরালা , কর্ণাটক , গােয়া , মহারাষ্ট্র ও গুজরাট — আরবসাগরের তীরে অবস্থিত ভারতের পশ্চিম উপকূলবর্তী এই ৫ টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দাদরা ও নগর হাভেলি এই সমভূমি অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত ।

শ্রেণীবিভাগঃ ভূ – প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে পশ্চিম উপকূলের সমভূমিকে উত্তর – দক্ষিণে ৪ টি প্রাকৃতিক ভাগে ভাগ করা যায় , এরা হল – ১. গুজরাট উপকূল , ২. কঙ্কণ উপকূল সমভূমি , ৩. কর্ণাটক উপকূল সমভূমি এবং ৪. মালাবার উপকূল সমভূমি । নিচে এগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল –

১. গুজরাট উপকূলঃ গুজরাট উপকূলকে ভূ-প্রকৃতি অনুসারে চারভাগে ভাগ করা হয় । যথা –
a) রণঃ গুজরাট রাজ্যের উত্তরে এবং কচ্ছ উপদ্বীপের উত্তর ও পূর্বাংশে ৭৩,৬০০ বর্গ কিলােমিটার বিস্তৃত অগভীর জলাভূমিকে রণ ( Rann ) বলা হয় ( রণ ’ শব্দের অর্থ কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত নিম্নভূমি ) । উত্তরের অংশ বৃহৎ রণ ও পূর্বের অংশ ক্ষুদ্র রণ নামে পরিচিত । বর্ষাকালে এই অঞ্চল সমুদ্র এবং লুনি , বাণস প্রভৃতি নদ – নদীর দ্বারা প্লাবিত হয় । গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চল সম্পূর্ণ শুষ্ক , উদ্ভিদহীন ও সাদা লবণে ঢাকা বালুকাময় প্রান্তরে ( সমভূমি অঞ্চলে ) রূপান্তরিত হয় । 

b) কচ্ছ উপদ্বীপঃ রণের দক্ষিণে কচ্ছ উপদ্বীপ অবস্থিত । “ কচ্ছ ” শব্দের অর্থ জলময় দেশ । কচ্ছ উপদ্বীপ অঞ্চলের উত্তর ও দক্ষিণের সমুদ্র – সংলগ্ন অংশে পলিগঠিত সমভূমি এবং মধ্যভাগে ৩১৫-৩৮৫ মিটার উঁচু বেলেপাথরের পাহাড় দেখা যায় । ভারতের পশ্চিম উপকূলে গুজরাট রাজ্যের ওখার কাছে আরবসাগরের একটি অংশ গুজরাট রাজ্যের অভ্যন্তরে কান্দালা বন্দরের কিছু বেশী দূর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে , একে কচ্ছ উপসাগর বলে । 

c) কাথিয়াবাড় উপদ্বীপঃ খাম্বাত উপসাগর , আরবসাগর এবং কচ্ছ উপসাগর দিয়ে তিন দিকে সমুদ্রবেষ্টিত নীচু মালভূমি ও সমভূমি অঞ্চল কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ নামে পরিচিত । এই অঞ্চলের উত্তর – পূর্ব দিকের নীচু জলাভূমিকে নলহ্রদ বলে । কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ অঞ্চলটি প্রকৃতিতে নবীন শিলা ও লাভাগঠিত একটি মালভূমি । দীর্ঘকাল ভূমিক্ষয়ের ফলে এই অঞ্চলের উপরিভাগ বর্তমানে সমতল হয়েছে । এই অঞ্চলের পাহাড়গুলাের মধ্যে গির , ওসম , বদা , গিরণর ( সর্বোচ্চ পাহাড় : উচ্চতা ১,১১৭ মিটার ) উল্লেখযােগ্য ।

d) গুজরাট সমভূমিঃ গুজরাটের পূর্বাংশের সমভূমি অঞ্চল প্রকৃতিতে সিন্ধু গাঙ্গেয় সমভূমির সঙ্গে তুলনীয় এবং দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চলের মধ্যে একটি ব্যতিক্রম । সবরমতী , মাহী , নর্মদা , তাপ্তি প্রভৃতি সমান্তরাল ও পশ্চিম – বাহিনী নদীবাহিত বিপুল পলিরাশি খাম্বাত বা কাম্বে উপসাগরে ক্রমাগত অবক্ষেপিত হওয়ার ফলে এই সমভূমির সীমানা ক্রমশ পশ্চিমদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে । ভারতের পশ্চিম উপকূলে আরবসাগরের একটি অংশ খাম্বাত উপসাগর নামে বরােদা ও ভবনগর – এর মধ্যবর্তী খাম্বাত পর্যন্ত উত্তর – পূর্ব দিকে প্রসারিত হয়েছে । 

২. কঙ্কন উপকূল সমভূমিঃ পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিমদিকে আরবসাগরের উপকূল জুড়ে বিস্তৃত এবং উত্তরে সুরাট থেকে দক্ষিণে গােয়া পর্যন্ত প্রসারিত প্রায় ৫৩০ কিলােমিটার দীর্ঘ সমভূমিকে কঙ্কণ উপকূল সমভূমি বলা হয় । এই সমভূমির উপকূলভাগ খুবই ভগ্ন ও সংকীর্ণ । এত ভগ্ন উপকূলভাগ ভারতের আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না । স্থানে স্থানে কাদা ভর্তি জলাভূমি , বালুকাময় তটভূমি , সামুদ্রিক চড়া এবং লাভা গঠিত পাহাড় কোঙ্কণ উপকূলের সমভূমিকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করেছে । বৈতরণী , অম্বা ও উলহাস নদী প্রবাহিত হয়ে কঙ্কণ উপকূলের সমুদ্রে খড়ি সৃষ্টি করেছে । ভারতের শ্রেষ্ঠ বন্দর বােম্বাই কঙ্কণ উপকূলে অবস্থিত । পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে মাঝে মাঝে শৈলশিরা বের হয়ে কঙ্কণ উপকূলের নিম্নভূমি অতিক্রম করে সমুদ্রতীর পর্যন্ত চলে আসার জন্য কঙ্কণ উপকূলের সমভূমি নিরবচ্ছিন্ন নয় ।

৩. কর্ণাটক উপকূল সমভূমিঃ কঙ্কণ উপকূলের দক্ষিণে কর্ণাটক রাজ্যে আরবসাগরের উপকূলে অবস্থিত কর্ণাটক উপকূল – ও সঙ্কীর্ণ তবে ম্যাঙ্গালােরের কাছে এই উপকূলভাগ প্রায় ৭০ কিলােমিটার প্রশস্ত । স্থানে স্থানে ছােট ছােট বালিয়াড়ি , কাদাগঠিত নিম্ন সমভূমি , ছােট ছােট উপহদ , সঙ্কীর্ণ নদী উপত্যকা এবং পশ্চিমঘাট পর্বতের পাদদেশবর্তী ল্যাটারাইট আবৃত নিম্ন মালভূমি হল কর্ণাটক উপকূলের উল্লেখযােগ্য ভূ – প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য । নেত্রবতী , সারাবতী এবং কালী এই অঞ্চলের উল্লেখযােগ্য নদী ।

৪. মালাবার উপকূল সমভূমিঃ কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে কেরল রাজ্যের উপকূল হয়ে তামিলনাড়ু রাজ্যের কন্যাকুমারী জেলা পর্যন্ত প্রসারিত উপকূলের সমভূমি মালাবার উপকূল সমভূমি নামে পরিচিত । মালাবার উপকূল , কঙ্কণ উপকূল ও কর্ণাটক উপকূলের তুলনায় অনেক বেশী চওড়া হওয়ায় মালাবার উপকূলে অসংখ্য বালিয়াড়ি , জলাভূমি , হ্রদ , উপহ্রদ বা লেগুন প্রভৃতি দেখতে পাওয়া যায় । এইসব উপহ্রদগুলােকে কেরালায় কয়াল বলে । এর মধ্যে প্রায় ৮০ কিলােমিটার দীর্ঘ উপহ্রদ ভেমনাদ কয়াল ’ বিখ্যাত । কেরালা উপকূলের জলাভূমি ব্যাক ওয়াটার্স ’ নামে বিশেষ পরিচিত । ভূ-প্রাকৃতিক দিক থেকে মালাবার উপকূলের সমভূমিকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায় , যথা – 
( a ) সমুদ্র সংলগ্ন বালুকাময় বেলাভূমি ও ছােট ছােট বালিয়াড়ি , স্থানীয়ভাবে যার নাম থেরিস ।
( b ) উপকূলের কাছাকাছি আরবসাগরের অগভীর অংশ পলি দিয়ে ভরাট হয়ে পলিগঠিত উপকূলীয় সমভূমি গঠন করেছে ।
( c ) পশ্চিমঘাট পর্বত সন্নিহিত রূপান্তরিত নাইস শিলার দ্বারা গঠিত অঞ্চল উঁচু – নীচু ও তরঙ্গায়িত । এই অঞ্চলে গভীর চিরহরিৎ বনভূমির সৃষ্টি হয়েছে ।
( d ) উপকূলীয় সমভূমি ও পশ্চিমঘাট পর্বত সন্নিহিত তরঙ্গায়িত অঞ্চলের মধ্যবর্তী অংশ নীচু মালভূমি – যা বর্তমানে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সমপ্রায় ভূমিতে পরিণত হয়েছে । বালিময় বেলাভূমি , বালিয়াড়ি এবং উপহ্রদ বা কয়াল হল মালাবার উপকূলের উল্লেখযােগ্য ভূ – প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ।