কচ্ছের রান কি?

সংজ্ঞাঃ গুজরাতের কচ্ছ উপদ্বীপকে পূর্ব ও উত্তরদিক থেকে যে বিস্তীর্ণ লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত জলাভূমি বেষ্টন করে আছে , তাকে বলা হয় কচ্ছের রান ( ‘ রান ’ শব্দের অর্থ  কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত নিম্নভূমি ) ।

অবস্থানঃ কাথিয়াবাড় উপদ্বীপের উত্তরে কচ্ছ উপদ্বীপ অবস্থিত । এই কচ্ছ উপদ্বীপের উত্তর ও পূর্বাংশে রান অঞ্চল অবস্থিত । এর মধ্যে উত্তরের বড়াে অংশটিকে বলা হয় বড়াে রান এবং দক্ষিণের ছােটো অংশটিকে বলা হয় ছােটো রান । বড়াে রানের পশ্চিমপ্রান্ত আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত এবং ছােটো রান পশ্চিমদিকে কচ্ছ উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত ।

ভূ-প্রকৃতিঃ কচ্ছের রান হল এক বিস্তীর্ণ অগভীর লবণাক্ত জলাভূমি । এর উত্তরভাগের নাম বৃহৎ রান এবং দক্ষিণভাগের নাম ক্ষুদ্র রান । রান – এর মধ্যে মাঝে মাঝে দু একটি টিলাও দেখা যায় , যেমন — ওসম , বরদা প্রভৃতি । এই অঞ্চলটি প্রায় ৭০৫০৫ বর্গকিমি অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত । এই অঞ্চলটির উত্তরদিক থেকে লুনি নদী প্রবাহিত হয়েছে । একদিকে উত্তপ্ত মরুভূমি , অপর দিকে শীতল সমুদ্রের মধ্যবর্তী স্থানে এই অঞ্চলটি অবস্থান করছে । এই ব্যতিক্রমী অবস্থানের জন্যই ভূমিরূপগত দিক থেকে এই অঞ্চলটি খুবই উল্লেখযােগ্য । কোনাে এক সময় কচ্ছের রান অঞ্চলটি আরব সাগরের একটি প্রসারিত অগভীর অংশ ছিল । বর্তমানে এখানে বর্ষাকালে লবণাক্ত জলাভূমি সৃষ্টি হলেও গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলটি সম্পূর্ণ শুষ্ক , উদ্ভিদহীন ও সাদা লবণে ঢাকা বালুকাময় প্রান্তরে ( সমভূমি অঞ্চলে ) রূপান্তরিত হয় ।

বৈশিষ্ট্যঃ কচ্ছের রান -এর বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ –
১. জলাভূমিটি অগভীর ও লবণাক্ত ।
২. অঞ্চলটি গ্রীষ্মে শুষ্ক , উদ্ভিদহীন , সাদা লবণময় প্রান্তর সৃষ্টি করে ।
৩. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সামান্য উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় প্রায় প্রতিবছর এই অঞ্চল নদী ও সমুদ্রের জলে প্লাবিত হয় ।
৪. শুষ্ক অবস্থায় এই জলাভূমির মাঝে মাঝে ঘাস বা আগাছাপূর্ণ ছোট ছােট টিলা দেখা যায় ।
৫. লুনি , বানস প্রভৃতি নদীগুলি কচ্ছের রণে পতিত হওয়ায় এখানে প্রচুর নদীবাহিত পলিবালি সঞ্চিত হয় ।