মানুষের ক্রিয়াকলাপের উপর উত্তর ভারতের সমভূমির প্রভাব লেখ।

ভারতের উত্তরে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল এবং দক্ষিণে দক্ষিণপথ মালভূমির অন্তর্গত মধ্য – ভারতের উচ্চভূমির মধ্যবর্তী অঞ্চল ‘ উত্তর – ভারতের বিশাল সমভূমি ’ নামে পরিচিত । মানুষের ক্রিয়াকলাপের উপর উত্তর ভারতের সমভূমির প্রভাব গুলি নিম্নরূপ –
১. কৃষির প্রসারঃ এই সমভূমি পলিমাটি দ্বারা গঠিত বলে যথেষ্ট উর্বর এবং কৃষিকাৰ্যই অধিবাসীদের প্রধান উপজীবিকা । এই সমভূমির বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের তারতম্যের ফলে নানা প্রকার কৃষিজদ্রব্য উৎপন্ন হয় । পূর্ব অংশে বৃষ্টিপাত অধিক হওয়ায় ধান ও পাট , মধ্যভাগে ধান ও ইক্ষু এবং পশ্চিম অংশে শুষ্কতার জন্য গম , জোয়ার , রাগী , তুলা প্রভৃতি জন্মে থাকে ।  এছাড়া রবিশস্য হিসাবে ডাল ও গম প্রায় সর্বত্রই জন্মে । গাঙ্গেয় সমভূমিতে বিভিন্ন নদী হইতে জলসেচ ব্যবস্থা কৃষিকার্যকে আরও প্রসারিত করিয়াছে । সমভূমি অঞ্চলে কৃষির এই প্রসার ভারতকে কৃষিপ্রধান দেশে পরিণত করেছে ।
২. উন্নত যােগাযােগ ব্যবস্থাঃ সমতলক্ষেত্রে রেলপথ ও সড়কপথের মাধ্যমে সুষ্ঠু যাতায়াত ব্যবস্থা জালের মতাে বিস্তারলাভ করেছে । এ ছাড়া সুনাব্য নদীগুলি জলপথরূপে ব্যবহৃত হয় ।
৩.নগরায়ণের প্রসারঃ এই সমভূমির নদী তীরবর্তী অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন নগরের পত্তন ঘটে । যেমন দিল্লি , এলাহাবাদ , কানপুর , বারাণসী , লখনউ , কলকাতা প্রভৃতি ।  ভারতের শ্রেষ্ঠ শহর ও নগরগুলি এই অঞ্চলেই অবস্থিত । এখানে ব্যবসা – বাণিজ্য , ও তীর্থের কেন্দ্ররূপে এবং প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বহু শহর গড়ে উঠেছে ।
৮. শিল্পায়নঃ এই সমভূমি অঞ্চলে কার্পাস – বয়ন শিল্প , লৌহ – ইস্পাত শিল্প , পাট শিল্প , কাগজ শিল্প , পেট্রোরসায়ন শিল্প প্রভৃতি নানা ধরনের শিল্পের বিকাশ ঘটেছে ।
৯. ঘন জনবসতিঃ নদীপথ , রেলপথ ও রাজপথের মাধ্যমে সুষ্ঠু যাতায়াত ব্যবস্থা, কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রের বিকাশ , কর্মসংস্থানের সুবিধা এবং খাদ্যের প্রাচুর্য ও স্বাস্থ্যকর জলবায়ু সমগ্ৰ অঞ্চলকে পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করেছে ।