মরুস্থলী কি?

সংজ্ঞাঃ অত্যাধিক উষ্ণতা ও অতি সামান্য বৃষ্টিপাতের কারণে রাজস্থানের পশ্চিমাংশে এক রুক্ষ, জলশূন্য, উদ্ভিদহীন এক নিষ্প্রাণ ধু-ধু বালুকাময় প্রান্তরের সৃষ্টি হয়েছে । এটি মরুস্থলী নামে পরিচিত । মরুস্থলী শব্দটির আভিধানিক অর্থ হল ‘মৃতের দেশ’ ।

অবস্থানঃ এই অঞ্চলটি ভারতের রাজস্থান মরুভূমি অঞ্চলের পাঞ্জাবের দক্ষিণে ও আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিম অংশ জুড়ে অবস্থিত ।

উৎপত্তিঃ এই শুষ্ক অঞ্চলের অধিকাংশই পার্মো – কার্বনিফেরাস যুগ  থেকে প্লিসটোসেন যুগ পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশে অবস্থান করেছিল । তার পরে প্লিসটোসেন যুগে ভূমিভাগ সমুদ্রের তলদেশ থেকে উপরে উখিত হওয়ার পর এই অঞ্চলের উপর একটি স্বাভাবিক ক্ষয়চক্র ( Normal Cycle of Erosion ) ক্রিয়া করে থাকে । সরস্বতী এবং দ্রীশদবতী প্রভৃতি নদীসমূহের শুষ্ক উপত্যকার অবস্থান পূর্বেকার আর্দ্র জলবায়ুর অস্তিত্বের কথা এবং অঞ্চলটির উর্বরতার কথা প্রমাণ করে থাকে । পরবর্তীকালে ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন, আরাবল্লী পর্বত দ্বারা মৌসুমী বায়ুর জলীয় বাষ্পপূর্ণ আরব সাগরীয় শাখা বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়ায় উক্ত অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অভাব, উষ্ণতার ক্রমবৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে ধীরে ধীরে অঞ্চলটি বর্তমানের এই শুষ্ক নিষ্প্রাণ মরুস্থলীতে পরিণত হয়েছে ।

বৈশিষ্ট্যঃ এর বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ –
১. এটি জলশূন্য, জলবিহীন, উদ্ভিদহীন এক নিপ্রাণ ধু – ধু বালুকাময় প্রান্তর ।
২. এই অঞ্চলে তির্যক ও অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি দেখা যায় ।
৩. ধ্রিয়ান এই অঞ্চলে দৃশ্যমান এক উল্লেখযোগ্য বায়ুগঠিত ভূমিরূপ ।
৪. এখানে নাইট্রেট লবণ , চুনাপাথর প্রভৃতি খনিজ পাওয়া যায় ।
৫. এই অঞ্চলে বেলেপাথর ও চুনাপাথরে গঠিত ছােটোখাটো টিলা দেখতে পাওয়া যায় ।
৬. এখানে প্লায়া বা ধান্দ ও সম্বর দেখা যায় ।
৭. এখানে মরুদ্যান দেখতে পাওয়া যায় ।