তরাই কি?

সংজ্ঞাঃ শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশে পূর্ব হিমালয়ের পার্বত্যভূমি থেকে বয়ে আসা মহানন্দা, তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সা, রায়ডাক, বালাসন প্রভৃতি নদীবাহিত পলি, বালি ও মূলত নুড়িপাথর সঞ্চিত হয়ে সংকীর্ণ নিম্নভূমিতে এক ঘন অরণ্যাবৃত সাতসেঁতে অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে । এটি তরাই নামে পরিচিত । ‘ তরাই ‘ শব্দের অর্থ হল সাতসেঁতে ভূমি ।

অবস্থানঃ শিবালিক পর্বতাঞ্চলের নিম্নদেশ বরাবর এটি অবস্থিত হলেও এর মূল আঞ্চলিক অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহাকুমায়, জলপাইগুড়ি জেলার পূর্ব ও উত্তরাংশে এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায় ।

উৎপত্তিঃ হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে বয়ে আসা নদীগুলি তাদের ক্ষয়িত ও বাহিত পদার্থগুলি পর্বতের পাদদেশে এই নিম্নভূমিতে সঞ্চয় করে । বালি, পলি, কর্দম, নুড়ি ও বিভিন্ন আকৃতির শিলাখন্ড বহুদিন ধরে এই অঞ্চলে জমা হয়ে চলেছে । উল্লেখ্য, এই অঞ্চলে অন্যান্য অবক্ষিপ্ত পদার্থের মধ্যে বালি – নুড়ির অবস্থিতিই বেশী, যা কালক্রমে তরাই ভূমি সৃষ্টি করেছে ।

বৈশিষ্ট্যঃ তরাই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ –
১. এখানকার ভূমি যথেষ্ট নুড়ি , কাঁকর , বালি মিশ্রিত ।
২. এখানে বহু জলাভূমি দেখা যায় ।
৩. জলের অভাব হয় না বলে এখানকার মাটি যথেষ্ট আর্দ্র বা ভিজে ।
৪. এই অঞ্চলের গড় উচ্চতা প্রায় ১০০ মিটার ।
৫. এই অঞ্চল উত্তর – দক্ষিণে প্রায় ২০ কিমি – ৩০ কিমি অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত ।
৬. বালিমিশ্রিত মাটির কম জলধারণের ক্ষমতা ও জৈবপদার্থ কম থাকার কারণে এখানকার মাটির উর্বরতাশক্তি বেশ কম ।
৭. এই অঞ্চল তিস্তার ডান তীরে অবস্থিত ।
৮. এই অঞ্চল মোটামুটিভাবে উত্তর থেকে দক্ষিণে ঢালু ।
৯. অসংখ্য নদীখাত অঞ্চলটিকে বিভিন্ন সমান্তরাল অংশে বিভক্ত করেছে ।
১০. নদীখাতের নীচু অংশ বাদ দিলে অঞ্চলটি প্রায় সমতল । তবে এখানে সেখানে উচ্চভূমি ও ছোট ছোট পাহাড় চোখে পড়ে, যাদের উচ্চতা প্রায় ৪০০ মিটার – ৬০০ মিটার ।