ভারতকে বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ বলা হয় কেন?

ভারতকে ‘ বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ ’ বলা হয় । এর কারণগুলি হল নিম্নরূপ –
১. ভৌগােলিক বৈচিত্র‍্যঃ ভারতের উত্তর দিক বরাবর অবস্থান করছে ভঙ্গিল পর্বতমালা হিমালয় ; দক্ষিণ , পূর্ব ও পশ্চিম দিকে যথাক্রমে ভারত মহাসাগর , বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর এবং মধ্যভাগে রয়েছে । | বিশাল সমভূমি ও মালভূমির সমাহার , পশ্চিম দিকে রয়েছে মরুভূমি । উপকূলভাগে উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যও বর্তমান । এতরকম ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ভারতের ভূমিরূপকে আলাদা বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে ।
২. জলবায়ুগত বৈচিত্র‍্যঃ ভারতের পূর্বে মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত যেমন হয় তেমনই পশ্চিম দিকে বৃষ্টিহীন মরু জলবায়ু দেখা যায় । উত্তর দিকে পার্বত্য অঞলে শীতল জলবায়ুর সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ দিকে উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমভাবাপন্ন জলবায়ু পরিলক্ষিত হয় । মধ্যভাগে তেমনই চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে । এই জলবায়ুর বৈচিত্র্য ভারতকে অন্য দেশ থেকে আলাদা করেছে ।
৩. স্বাভাবিক উদ্ভিদগত বৈচিত্র্যঃ পার্বত্য অঞ্চলে সরলবর্গীয় উদ্ভিদ , মরু অঞ্চলে কাটাজাতীয় উদ্ভিদ , উপকূলে ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ , সমভূমিতে চিরহরিৎ ও পর্ণমােচী জাতীয় উদ্ভিদের প্রাধান্য দেখা যায় । এই বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের সমন্বয় ভারতে বৈচিত্র্য এনেছে ।
৪. মৃত্তিকাগত বৈচিত্র‍্যঃ ভারতের মধ্যভাগে পলিমাটি , দাক্ষিণাত্যে কালাে মাটি , ছােটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে ল্যাটেরাইট ও লালমাটি , উপকূলে লবণাক্ত মাটির প্রাধান্য দেখা যায় , যা ভারতের কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং ভারতকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করে তুলেছে ।
৫. সংস্কৃতিগত বৈচিত্র্যঃ ভারতে নানা ভাষা , ধর্ম , বর্ণ , জাতির সংমিশ্রণ ঘটেছে , যা বিভিন্ন প্রকার সংস্কৃতিকে একত্রিত করে সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে সমৃদ্ধ করেছে ।
পরিশেষে বলা যায় , ভারতের অবস্থান ও আয়তনগত বিশালতার জন্য সারা দেশ জুড়ে মানুষের ভাষা , ধর্ম , সংস্কৃতি ও পােশাকপরিচ্ছদে পার্থক্য লক্ষ করা গেলেও সব জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলে মিলে এক ঐক্যের বন্ধন গড়ে তুলেছে । এই বহু ভাষা , সংস্কৃতি ও জাতিসত্ত্বাকে মর্যাদা দিয়ে সকলে মিলে এক ও অখণ্ড ভারতবর্ষকে বাঁচিয়ে রেখেছে । বহুর মধ্যে ঐক্যের এমন সহাবস্থান পৃথিবীর আর কোথাও নেই – সেই কারণে ভারতকে “ বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা ” আখ্যা দেওয়া হয় ।