তুলাে চাষের অনুকূল ভৌগােলিক পরিবেশ লেখ ।

নানাপ্রকার তন্তু ফসলের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযােগ্য কার্পাস বা তুলাে । বাণিজ্যিক ফসল হিসাবে এটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ । উষ্ণমণ্ডলের দেশগুলিতেই তুলাে প্রধানত উৎপাদিত হয় । তুলাে চাষের উপযােগী ভৌগােলিক পরিবেশকে দু’ভাগে ভাগ করা যায় যথা- ( ক ) প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ( খ ) অর্থনৈতিক পরিবেশ । নিচে তুলো চাষের অনুকূল পরিবেশগুলি আলোচনা করা হল –

ক. প্রাকৃতিক পরিবেশঃ তুলো চাষের অনুকূল পরিবেশগুলি হল নিম্নরূপ –
১. জলবায়ুঃ তুলাে ক্রান্তীয় ও উপ – ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল অর্থাৎ ৪০° উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২০° দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চল তুলাে উৎপাদনের সহায়ক । তুলাে চাষে জলবায়ুর গুরুত্ব এবং প্রভাব অত্যন্ত বেশি । (a) উষ্ণতাঃ তুলাে চাষের জন্য গড়ে ২০° থেকে ২৫° সেলসিয়াস উষ্ণতা অনুকূল । তবে ১৬° সেলসিয়াসের কম উষ্ণতায় তুলাে চাষ হয় না । (b) বৃষ্টিপাতঃ তুলাে চাষের জন্য গড়ে ৬৫ সে.মি. থেকে ১০০ সে.মি. বৃষ্টিপাত অনুকূল । মাঝে মাঝেই বৃষ্টিপাত চাষের সহায়ক , তবে গুটিফল বের হওয়ার পর বৃষ্টিপাত ফসলের খুব ক্ষতি করে । অবশ্য বর্তমানে উষ্ণমণ্ডলের ৫০ সে.মি. – র কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে জলসেচের মাধ্যমে তুলাে চাষ সম্ভবপর । (c) তুষারপাতঃ তুষারপাত ফসলের ক্ষতি করে । কমপক্ষে ২০০ টি তুহিনমুক্ত দিন তুলাে চাষের জন্য প্রয়ােজন । (d) সামুদ্রিক বায়ুঃ তুলাে চাষের জন্য সামুদ্রিক লােনা বাতাস খুবই উপকারী , বিশেষ করে গাছ বেড়ে ওঠা এবং গুটিফল ধরার সময় । 
২. মৃত্তিকাঃ তুলাে চাষের জন্য চুন মিশ্রিত উর্বর দো – আঁশ মাটি খুবই ভাল । এছাড়া লাভাজাত কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা সারনােজেম জাতীয় মাটিও উপযােগী । মাটিতে জলধারণের ক্ষমতা থাকলে ভাল হয় ।
৩. ভূমিরূপঃ সমতল বা সামান্য ঢালু জমিতে তুলাে চাষ ভাল হয় । এছাড়া জমিতে জল – নিকাশের ব্যবস্থা থাকা জরুরি , না হলে গােড়ায় জল জমে ফসলের ক্ষতি করে ।

খ. অর্থনৈতিক পরিবেশঃ তুলো চাষের অনুকূল পরিবেশগুলি হল নিম্নরূপ –
১. সার এবং কীটনাশকঃ তুলাে গাছ মাটির উর্বরাশক্তি দ্রুত নষ্ট করে দেয় । এজন্য নিয়ম করে রাসায়নিক ও জৈব সার প্রয়ােগ করতে হয় । মাটির খনিজ পদার্থ তুলাের বীজে জমা হয় , তাই তুলাের বীজ গুঁড়াে করে মাটির সঙ্গে মেশালে সারের কাজ হয় । এছাড়া , উর্বরাশক্তি বজায় রাখতে শস্যাবর্তন কৃষিপদ্ধতি অবলম্বন করা যায় । তুলাে গাছে খুব সহজেই নানারকমের পােকা ধরে , তাই ফসল রক্ষা করার জন্য কীটনাশকের প্রয়ােগ একান্ত প্রয়ােজনীয় । 
২. মূলধনঃ তুলাে চাষের জন্য সার , কীটনাশক , জলসেচ ইত্যাদি উপচারসহ অসংখ্য শ্রমিকের মজুরি এবং প্রচুর মূলধনের প্রয়ােজন ।
৩. শ্রমিকঃ তুলাে গাছ থেকে গুটি তােলা এবং গুটি থেকে তুলাের আঁশ ছাড়াতে প্রচুর পরিমাণে সুলভ ও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়ােজন ।
৪. পরিবহনঃ তুলাে একই সঙ্গে শিল্পের কাঁচামাল এবং বাণিজ্যিক ফসল , তাই শিল্পকেন্দ্র , বিক্রয়কেন্দ্র এবং বন্দরের মধ্যে উন্নত পরিবহন থাকা একান্ত প্রয়ােজনীয় ।
৫. চাহিদাঃ শিল্পের কাঁচামাল এবং বাণিজ্যিক ফসল হিসাবে তুলাের একটি নিজস্ব চাহিদা আছে যা তুলাে চাষের পক্ষে অপরিহার্য ।