গ্রামীণ বসতি গড়ে ওঠার কারণগুলি কি কি?

সংজ্ঞাঃ অর্থনীতির প্রাথমিক ক্ষেত্রের ওপর ( অর্থাৎ কৃষি , মৎস্য আহরণ , খনিজ উত্তোলন , পশুপালন , বনজ সম্পদ আহরণ প্রভৃতি ) নির্ভর করে স্থায়ীভাবে এক বা একাধিক বাসস্থল গড়ে উঠলে তাকে গ্রামীণ বসতি বলে । গ্রামীণ বসতি গড়ে ওঠার কারণ গুলি হল নিম্নরূপ –
ক) প্রাকৃতিক কারণসমূহঃ বসতি গড়ে ওঠার পেছনে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম । প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ভূ – প্রকৃতি , মাটি , জলবায়ু ও জল সরবরাহ উল্লেখযােগ্য । পরিবেশের এই পারিপার্শ্বিক কারণগুলাে মানুষের জীবনযাত্রাকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রিত করে ।

১. ভূ – প্রকৃতিঃ বসতি স্থাপনে প্রাকৃতিক কারণগুলাের মধ্যে ভূ – প্রকৃতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি । এটি প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে বসতি বিস্তারে হয় সাহায্য করে , নয়তাে বাধার সৃষ্টি করে । জমির ঢাল , উচ্চতা ও বন্ধুর ভূ – ভাগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ বসতির ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে । উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমে , খুব বেশি উচ্চতায় আবার শীতকালে বরফ পড়ে । এও লক্ষ্য করা গেছে যে পাহাড় ঘেরা মধ্য হিমালয়ের সুউচ্চ পর্বত ডিঙিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় খুব কম বৃষ্টিপাত ঘটে । পাহাড়ের যে ঢাল সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে , সেই দিক বেশি উত্তাপ পায় । এইভাবে উচ্চতা প্রত্যক্ষভাবে বসতি বিস্তারে সাহায্য করে । এটা লক্ষ্য করা গেছে যে ১,৮০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পৃথিবীতে বসতি বিস্তার খুব কম হয়েছে । নিরক্ষরেখা থেকে যত উত্তরে যাওয়া যায় , তত ভালাে জাতের শস্য চাষ কমতে থাকে । কারণ শস্যোৎপাদন সময়সীমা কমতে থাকে । আবার ৩,০০০ মিটার বা বেশি উচ্চতায় কুষিযােগ্য জমির বদলে বনভুমি দেখা যায় । প্রাচীনকালে চাষবাসই ছিল মানুষের একমাত্র জীবিকা । বর্তমানেও অনেকে এই বৃত্তিকে অবলম্বন করে আছে । কৃষির জন্য প্রয়ােজন হয় সমতল জমি । Vidal de la Blacie- এর ভাষায় যেখানে একসাথে প্রচুর কৃষি জমি পাওয়া যায় , সেখানে সংঘবদ্ধ বসতি গড়ে ওঠে , কারণ এ ধরনের বসতি একই প্রকার কৃষি পদ্ধতি গড়ে উঠতে সাহায্য করে । নদী গঠিত উর্বর সমভূমিতে প্রচুর ফসল উৎপন্ন হয় বলে ঘনসংঘবদ্ধ বসতি গড়ে ওঠে , অন্যদিকে বিচ্ছিন্ন ভূ – প্রকৃতির দরুন কৃষিজমি টুকরাে টুকরাে ফালিতে পরিণত হয় । এই কারণে উত্তর ভারতে সংঘবদ্ধ বসতি আর নেপাল ও ভুটানে অনেক ক্ষুদ্রগ্রাম ও অস্থায়ী বসতি দেখা যায় । বন্ধুর পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার ধারে ( যেমন সিকিম ) বা পর্বতের নিম্নভাগে নদী গঠিত ত্রিকোণাকার ভূমিভাগে ( alluvial cone ) বসতি গড়ে ওঠে , যদিও তা খুব ছােট আকারের হয়ে থাকে । হিমালয় ও আল্পসের উচ্চাঞ্চলে মাঝে মাঝে হিমবাহ দিয়ে গঠিত ধাপ বা মঞ্চগুলাে কিছুটা সমতল । ফলে এগুলাে কৃষিকার্যের পক্ষে অনুকুল । এখানেও কিছু কিছু বসতি গড়ে উঠেছে । বন্যাপীড়িত নদী – উপত্যকা বা নীচু উপকূলবর্তী সমভূমি এলাকা বা জলাভূমিতে মানুষ নদীর উঁচুপাড়ে বা অপেক্ষাকৃত উঁচুভূমিতে বসতি গড়ে তােলে । সমুদ্র উপকূলে দুই বালিয়াড়ির মধ্যবর্তী উর্বর ভূমিভাগে বসতি গড়ে ওঠে । পশ্চিমবঙ্গ ও নিকটবর্তী উড়িষ্যার উপকুলাঞ্চলে গ্রামীণ বসতি বালিয়াড়ির সমান্তরালে অনেক রেখাকৃতি বসতি গড়ে উঠেছে । মরুভূমি অঞ্চলে স্থায়ী বালিয়াড়ির ওপর অনেক সময় বসতি গড়ে ওঠে ।

২. মাটির বৈশিষ্ট্যঃ বসতি বিস্তারে মাটির বিশেষ দান আছে । পৃথিবীর হিমবাহ বা বরফ ঢাকা অঞ্চলগুলােতে মাটি না থাকায় সেগুলাে জনশূন্য বললেই চলে । একই কারণে কাশ্মীর , নেপাল ও ভূটানের অনেক অঞ্চল বসবাস যােগ্য নয় । ভারতের বন্ধ্যা ল্যাটেরাইট মাটি বা কিছু আর্কিয়ান যুগের নাইস ( gniess ) শিলায় গঠিত বন্ধ্যা ভূমিভাগ ও জনবসতি গড়ে ওঠার পক্ষে অনুকূল নয় । আবার উত্তর ভারতের বিশাল সমভূমিতে একই প্রকার মৃত্তিকার গঠন , তাদের উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা জনবসতি গড়ে ওঠার পক্ষে খুব উপযােগী বলে এটি পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম জনবহুল অঞ্চল । এছাড়া সেচ ও পানীয় জল সহজে পাওয়া যায় ও নানা প্রকার শস্য উৎপাদন হয় বলে এ অঞ্চল বহু প্রাচীনকাল থেকেই লােকজনকে বসতি গড়তে আকর্ষণ করেছে । এখানকার নবীন পলিগঠিত এলাকায় ( যা খাদার নামে পরিচিত ) লােকবসতি বেশি , আর নদী থেকে একটু দূরে ( যা ভাঙ্গার নামে পরিচিত ) যেখানে জমিতে প্রতি বছর পলি পড়ে না , আর ভূমিক্ষয় হয়ে চলেছে , সেখানে লােকবসতি তুলনামূলকভাবে কম ।

৩. জলবায়ুঃ জলবায়ু উত্তাপ ও বৃষ্টিপাতের তারতম্যের মধ্য দিয়ে বসতি বিস্তারে প্রভাব বিস্তার করে । বসতি বিস্তারের দিক দিয়ে নাতিশীতােষ্ণ জলবায়ু সর্বোৎকৃষ্ট । এই জলবায়ু অঞ্চলে বেশি বসতি বিস্তার লাভ করেছে । অন্যদিকে আবার আর্দ্র ও ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে গাছপালা খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে । তাই আমাজন ও কঙ্গো অববাহিকায় বসতি বিস্তার ঘটে নি । আবার খুব কম তুহিনমুক্ত দিন , প্রচণ্ড শীত আর সূর্যতাপ বিহীন লম্বা দিনের জন্য শীতল জলবায়ু অঞ্চল ( যেমন কুমেরু অঞ্চল ) জনমানবহীন । অতি শুষ্ক মরু প্রকৃতির জলবায়ু অঞ্চলে জীবনধারণ করা কষ্টকর বলে সাহারা বা আটাকামার মত মরুভূমিতে লােকজন থাকে না বললেই চলে । এভাবেই জলবায়ু মনুষ্য বসতির সীমা নির্দেশ । করে । এপ্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে জলবায়ুর উপাদান যেমন তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতের হেরফের হলে তার প্রভাব বসতি বিস্তারের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যাবে । যেমন উত্তর প্রদেশের উত্তরাখণ্ড অঞ্চলের অনেক স্থানে আগে শীতকালে প্রতি বছর বরফ পড়ত , এখন সেখানে বরফ পড়ে না । পড়লেও সামান্যই পড়ে । আগে যেখানে চাষবাস সম্ভব ছিল না , আজ সেখানে বছরে দু’বার করে চাষবাস হচ্ছে । ফলে সেখানে জনসংখ্যা বাড়ছে এবং বেড়েছে । একসময়ে উত্তরাখণ্ডের উপত্যকা অঞ্চলেই বেশি লােক বাস করত । কিন্তু জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে পাহাড়ের ঢালেও বসতি বেড়েছে । জলবায়ু পরােক্ষভাবে মানুষের খাদ্য , পােষাক , বাসস্থান ও কিছু শিল্পজাত দ্রব্যের কাঁচামাল সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত করে । সুতরাং যেখানকার জলবায়ু বেশি ফসল ফলানাের পক্ষে উপযােগী , সেখানেই অধিক বসতি লক্ষ্য করা যায় ।

৪. সূর্যের ভূমিকাঃ সূর্যের অবস্থান , সূর্যরশ্মির পতনকোণ ও সূর্যালােকের সময়ের ওপর নির্ভর করে বসতি গড়ে ওঠে । পার্বত্যাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি হলেও সমভূমি অঞ্চলেও বাড়ি তৈরিতে সূর্যালােকের প্রভাব লক্ষ্য করা ।
দক্ষিণবঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে গরমকালে বিকেলের দিকে মনােরম বাতাস বয় । তাই বেশির ভাগ লােক এই দিকে মুখ করে বাড়ি করতে চেষ্টা করেন । আর উত্তর দিক থেকে শীতে ঠাণ্ডা বাতাস বয় বলে সেই দিকে মুখ করে বাড়ি করলে ঠাণ্ডা লােগ করতে হয় । পূর্ব দিকে উদীয়মান সুর্যের তাপ গৃহস্থেরা ভালােভাবে উপভােগ করেন । কিন্তু পশ্চিমদিকে মুখ করে বাড়ি করলে দুপুরের পর থেকে বাড়ি সূর্যের তাপে তেতে ওঠে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য ইউরােপের অধিকাংশ বাড়ি উদীয়মান সূর্যের দিকে মুখ করে তৈরি করা হয় , যাতে বাড়িগুলাে বেশি সূর্যালােক পেতে পারে । অনুরূপভাবে হিমালয় অঞ্চলের অনেক জায়গায় বাড়িগুলাে সূর্যালোক পাওয়ার ফলে এখানে বসতি গড়ে উঠেছে । যেমন নৈনিতাল শহরে । কুমায়ুন ও গাড়ােয়াল হিমালয়ের ( হিমাচল প্রদেশের ) সমস্ত বাড়ি উদীয়মান সুর্যের দিকে মুখ করে তৈরি করা হয় ।

৫. জলাশয়ের অবস্থানঃ পৃথিবীর সব জায়গাতেই বসতি , তা সে ছোটই হােক আর বড়ই , জলের উৎসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে । আর কোনাে বসতিতে যদি জল না পাওয়া যায় , তবে অন্য কোথাও থেকে এনে এই নিত্য প্রয়ােজনীয় বস্তুটির অভাব মেটাতে হয় । শুধু পানীয় হিসেবেই নয় , ফসল উৎপাদন ও পশুপালনের জন্যও জল খুব দরকারী । জলের অভাবের দরুন পৃথিবীর অনেকাংশে বসতি বিস্তার ঘটেনি । তাই একদিকে যেমন সাহারা ও আরবের ধু ধু মরু প্রান্তরে মরুদ্যানগুলােকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতন বসতি গড়ে উঠেছে , অন্যদিকে আবার জামানীর রাইন নদী , উত্তর আমেরিকার সেন্ট লরেন্স , চীনের হােয়াংহাে ও ভারতের গঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে খুব ঘনবসতি গড়ে উঠেছে । ব্রহ্মদেশের ( মায়ানমার ) ইরাবতী , পাকিস্থানের সিন্ধু , অস্ট্রেলিয়ার মারে – ডার্লিং , দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের উপত্যকাগুলােতেও খুব জনবসতি লক্ষ্য করা যায় । আমাদের বাংলাতেও একসময় বহু ছােট বড় জনপদ নদীর ধারে গড়ে উঠেছিল । এখানে নদী , খাল থেকে সেচের জল পাওয়া ছাড়াও বর্ষার সময় জল ধরে রাখার জন্য অসংখ্য বাঁধ তৈরি করা হত । আর একটা কথা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় । এক সময়ে জলপথই ছিল বাংলায় পরিবহণের প্রধান উপায় । এছাড়া জলাশয় থেকে মিলত বাঙালীর প্রিয় খাদ্য মাছ । 
জল সম্পদ পরােক্ষভাবে বসতি বিস্তারে সাহায্য করে । পার্বত্য উপত্যকায় ঝর্ণা ও প্রস্রবণগুলােকে কেন্দ্র করে বসতি গড়ে ওঠে । হিমালয়ের দক্ষিণ ঢালে যেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় , সেখানে বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে উঠেছে । হদকে কেন্দ্র করেও অনেক বসতি সৃষ্টি হয় । যাতায়াতের সুবিধের জন্য উত্তর আমেরিকার পাঁচটি বড় হদকে কেন্দ্র করে ঘনবসতি বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরের ডাল হ্রদে জনবসতি এ প্রসঙ্গে উল্লেখের দাবী রাখে । আবার রাজস্থানের মরু অঞ্চলে বা দাক্ষিণাত্যের শুষ্ক অঞ্চলে খাল , কুপ বা । জলাশয়গুলােকে কেন্দ্র করেও বসতি গড়ে উঠেছে । 

খ) অর্থনৈতিক কারণঃ বসতি গড়ে ওঠার অর্থনৈতিক কারণের মধ্যে খনিজপদার্থের আবিষ্কার বা বন থেকে কাঠ সংগ্রহের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে । তাই মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে খনিজ তেল , দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মরুভূমিতে নাইট্রেট , অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে সােনাকে কেন্দ্র করে বসতি গড়ে উঠেছে । আবার গভীর বনাঞ্চলে কাঠ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বসতি গড়ে ওঠে । দার্জিলিং জেলায় এই ধরনের অনেক খাসমহল বসতির সন্ধান মেলে । বনভূমি থেকে কাঠ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি জেলার পারােতে রাভাদের অনেক বন বসতি ( Forest village ) দেখা যায় । মাছ শিকার বা মরু অঞ্চলে খালের ধারে জলসেচের সুবিধেকে কেন্দ্র করে বসতির সৃষ্টি হয় । মেদিনীপুর জেলার শঙ্করপুরে মৎস্য বন্দরকে কেন্দ্র করে বসতি আরও বিস্তার লাভ করেছে । এছাড়া শিল্প স্থাপনের মাধ্যমেও বড় বসতি গড়ে ওঠে , যেমন পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমে ধু ধু প্রান্তরে গড়ে ওঠা দুর্গাপুর ইস্পাত নগরী বা ফরাক্কায় গড়ে ওঠা তাপবিদ্যুৎ উপনগরী ।

গ) সাংস্কৃতিক , সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণঃ বসতি স্থাপনে প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলাের গুরুত্ব যথেষ্ট হলেও কিছু কিছু সামাজিক বাধানিষেধ বসতি স্থাপনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় । ফলে এক জায়গার বদলে আর এক জায়গায় বসতি গড়ে ওঠে । উপজাতিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সংস্কার বেশি দেখা যায় । 
সাংস্কৃতিক কারণের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি বসতি বিস্তারের ক্ষেত্রে উল্লেখযােগ্য ভূমিকা নেয় । উদাহরণ হিসেবে বলা চলে স্বাধীনতার আগে জাতীয় সড়কের ( পূর্বতন বাদশাহী সড়ক , মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা ) আশেপাশে ছিল জঙ্গল । নবাবী আমলে এই পথ দিয়ে সৈন্য চলাচল করত বেশি । এছাড়া এই পথ দিয়ে কলকাতার কসাইখানার জন্য পশু নিয়ে যাওয়া হত । সাধারণ মানুষ চলাচল করত কম । কারণ হিংস্র পশু ও ডাকাতের ভয় ছিল । স্বাধীনতার পর রাস্তাঘাটের উন্নতি ঘটায় বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তুরা এই সড়কের দু’ধারে বাসা বেঁধেছে । 
আগেকার মানুষ বুনাে জন্তু ও হানাদারদের ভয়ে ভীত ছিল । স্বভাবতই মানুষ বিচ্ছিন্নভাবে বাড়ি তৈরির চেয়ে সবাই মিলে এক জায়গায় বাড়ি তৈরির তাগিদ অনুভব করত । হানাদারদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনেক সময় তারা গ্রামের চারপাশে গড় বানাতে বা স্থানীয় শাসনকর্তার প্রাসাদের চারদিকে ডেরা বানাত । দক্ষিণ ভারতে আজও অনেক প্রাচীর ঘেরা গ্রাম দেখা যায় । পাশাপাশি উল্লেখ করা যেতে পারে ভারত – তিব্বত সীমান্তে জোহারের ( উত্তর প্রদেশের উত্তরাখণ্ড বিভাগ ) উত্তর দিকের গ্রামগুলাে ১৯৬২ সালে চীনা আক্রমণের সময় ১০ থেকে ১৫ টি গ্রাম জনশূন্য হয়েছিল । তখন সেখানকার বাসিন্দারা নীচু উপত্যকায় নেমে এসে ডেরা বাঁধে । অনুরূপ ঘটনা এর আগে ১৯৪৮ সালে ভারত – পাক যুদ্ধের সময় লক্ষ্য করা যায় । ঐ সময় পাক – অধিকৃত কাশ্মীরের অনেক গ্রাম জনমানবহীন হয়ে পড়েছিল । ঐ গ্রামবাসীরা জম্মু ও কাশ্মীরে নতুন গ্রাম গড়ে তােলে ।