আখ চাষের অনুকূল ভৌগােলিক পরিবেশ লেখ।

পৃথিবীতে মােট চিনি উৎপাদনের দুই – তৃতীয়াংশ ইক্ষু বা আখ থেকে তৈরি হয়ে থাকে । ইক্ষু প্রধানত ক্রান্তীয় ও উপ – ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল বলে এর বেশিরভাগ চাষ সাধারণত ৩২° উত্তর এবং ৩০° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে হয় । আখ চাষের অনুকূল ভৌগােলিক পরিবেশগুলিকে দুভাগে ভাগ করা যায় যথা – ( ক ) প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ( খ ) অর্থনৈতিক পরিবেশ । নিচে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল –

ক. প্রাকৃতিক পরিবেশঃ আখ উৎপাদনের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশগুলি হল নিম্নরূপ –
১. জলবায়ুঃ ইক্ষু চাষে জলবায়ুর গুরুত্ব খুব বেশি এবং জলবায়ুর সব উপাদানের মধ্যে উষ্ণতা সবচেয়ে জরুরি । কারণ , কম উষ্ণতায় ইক্ষু চাষ করা যায় না । (a) উষ্ণতাঃ সাধারণভাবে ২৫° – ২৭° সে . গড় উষ্ণতা ইক্ষু চাষের অনুকূল । ২০° সে . – এর কম উষ্ণতা ইক্ষু চাষের পক্ষে ক্ষতিকারক । তাই নাতিশীতােষ্ণ মণ্ডল ও হিমমণ্ডলে ইক্ষু চাষ হয় না । (b) বৃষ্টিপাতঃ ইক্ষু চাষের জন্য ১৫০ সে.মি. গড় বৃষ্টিপাত আদর্শ , তবে গ্রীষ্মকালে ১০০ সে.মি. – র কম বৃষ্টিপাত হলে জলসেচের প্রয়ােজন হয় । বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হলে আখের রস পাতলা হয় , ফলে চিনির পরিমাণ কম হয় । তবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হলেও আখের বসের পরিমাণ কমে যায় । বর্ষাকাল দীর্ঘস্থায়ী এবং সমুদ্রের লােনা বাতাস ইক্ষু চাষের জন্য উপকারী । কুয়াশা বা তুহিন ফসলের ক্ষতি করে ।
২. মৃত্তিকাঃ ইক্ষু চাষের জন্য চুন ও লবণ মেশানাে দো – আঁশ মৃত্তিকা এবং কৃষ্ণ মৃত্তিকা খুবই উপযুক্ত । এছাড়া জমিতে নাইট্রোজেনযুক্ত সারের ব্যবহার করতে হয় কারণ একই জমিতে বারবার ফসল উৎপাদন হয় বলে জমির উর্বরতা খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় ।
৩. ভূমিরূপঃ ইক্ষু চাষের জন্য জমি সামান্য উঁচু ও ঢালু এবং একই সঙ্গে সমতল হওয়া প্রয়ােজন । জমি জল – নিকাশি হওয়া খুবই জরুরি । কারণ , গাছের গােড়ায় জল দাড়ালে ইক্ষুর ক্ষতি হয় । 

খ. অর্থনৈতিক পরিবেশঃ আখ উৎপাদনের অনুকূল অর্থনৈতিক পরিবেশগুলি হল নিম্নরূপ –
১. মূলধনঃ নাটট্রোজেনযুক্ত সার , কীটনাশক , বীজ , জলসেচ ইত্যাদি উপচারসহ শ্রমিকদের মজুরি ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার জন্য ইক্ষু চাষে যথেষ্ট মূলধনের প্রয়ােজন হয় ।
২. শ্রমিকঃ ইক্ষু রােপণ ও ফসল কাটার জন্য দক্ষ ও সুলভ শ্রমিকের দরকার । এইসব কাজে যন্ত্রের ব্যবহার হয় না তাই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইক্ষু চাষের প্রচলন বেশি ।
৩. পরিবহনঃ ইক্ষু ক্ষেতের সঙ্গে নিকটবর্তী চিনিকলগুলির দ্রুত যােগাযােগ ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য । কারণ , ইক্ষু কাটার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রস বের না করলে রসের পরিমাণ কমে যায় ।
৪. চাহিদাঃ কাটা ইক্ষু যেহেতু সংরক্ষণ করে রাখা যায় না তাই উৎপাদিত ইক্ষুর জন্য নির্ভরযােগ্য ও পর্যাপ্ত চাহিদা খুবই প্রয়োজন ।