শস্যাবর্তন কি? এর গুরুত্ব লেখ।

যে কৃষিব্যবস্থায় একই জমিতে বিভিন্ন বছরে বা বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফসল উৎপন্ন করা হয় , তাকে শস্যাবর্তন বলা হয় । এই পদ্ধতিতে একটি বা দুটি প্রধান ফসল উৎপন্ন করা হয় এবং এর মাঝে মাঝে অন্যান্য ফসল উৎপন্ন করা হয় । যেমন – ধান – এর পরে ডাল বা শুটি জাতীয় ফসল ফলালে ধান চাষের ফলে জমির যে নাইট্রোজেন ঘাটতি হয় , তা পূরণ হয়ে যায় । তাই এইরূপ কৃষিপদ্ধতির মাধ্যমে জমির উর্বরাশক্তির মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং সার প্রয়ােগের ব্যয়ও হ্রাস পায় । ফলে এই পদ্ধতিতে জমি থেকে বেশি ফসল উৎপাদিত হয় । শস্যাবর্তন মিশ্ৰকৃষির একটি প্রধান অঙ্গ । শস্যাবর্তনের মাধ্যমেই মিশ্ৰকৃষিতে সারাবছর ফসল উৎপাদিত হয় এবং নানারকম ফসল ও উৎপাদন থেকে আয় হয় বলে একটি ফসলের দাম কমে গেলেও কৃষক বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না । এই শস্যাবর্তনের আরেক নাম চক্ৰকৃষি ।

গুরুত্বঃ শস্যাবর্তন – এর গুরুত্বগুলি নিম্নরূপ –
১. জমির উর্বরতা বজায় রাখা , যেমন— ধানচাষের পর ডালজাতীয় ফসল চাষ করলে মাটিতে নাইট্রোজেনের মাত্রা বজায় থাকে । 
২. শস্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আসে । 
৩. জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল পর্যায়ক্রমিকভাবে চাষ করা হয় বলে গাছের রােগ ও পােকার আক্রমণের পরিমাণ কম হয় । 
৪. সারাবছর ধরে একের বেশি ফসল চাষ হয় ফলে কৃষক লাভের মুখ দেখেন ।
৫. শস্যাবর্তন পদ্ধতিতে কৃষিকার্য করলে কিছু কিছু শস্যের মৃত্তিকায় নাইট্রোজেন সংযােজনের ক্ষমতা দ্বারা মৃত্তিকায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া যায় । 
৫. বিভিন্ন ফসলের রােপণ ও শস্যাবর্তনের সময় ভিন্ন হওয়ার কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে ভূমিকৰ্ষণ হয়ে থাকে । 
৬. ফসলগুলির জৈব পদার্থ সংযােজনের ক্ষমতার ভিন্নতাও মৃত্তিকার জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় । 
৭. বিভিন্ন ফসলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আর্দ্রতার প্রয়ােজন হওয়ায় সব ফসলের ক্ষেত্রে জলসেচের প্রয়ােজন হয় , তাই মৃত্তিকার উপরিভাগে খনিজ পদার্থও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায় ।
৮. কোনাে কোনাে ফসল উৎপাদনের অর্থনৈতিক ব্যয় কম হওয়ার কারণে কৃষকদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পায় , যার দ্বারা কৃষকেরা নিজস্ব যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে সমর্থ হয় এবং পরবর্তী কৃষিকে আরাে উন্নত করতে সুযােগ পাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব হয় ।