সমুদ্রকে রত্নাকর বলা হয় কেন ?

‘ রত্নাকর ’ শব্দের অর্থ হল ‘ রত্নের আকর ’ অর্থাৎ বিভিন্ন প্রকার রত্নের ভাণ্ডার । সমুদ্রের তলদেশে – মহীসােপান , মহীঢাল , গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ সম্পদ সঞ্চিত রয়েছে । 
সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলাস্তর সঞ্চিত হওয়ার সময় ফোরামিনিফেরা নামক একপ্রকার অতি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীও শিলাস্তরে চাপা পড়ে এবং উপরের শিলাস্তরের চাপে এবং ভূ – গর্ভের তাপে ক্রমশ তরল পদার্থে পরিণত হয়ে খনিজ তেলে পরিণত হয় । এই খনিজ তেল অঙ্গার ও হাইড্রোজেন মিশ্রণে গঠিত । সুতরাং বর্তমানকালের অতি মূল্যবান জ্বালানি পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেলের উৎপত্তিস্থল হল সমুদ্রগর্ভ । এছাড়াও স্বাভাবিক গ্যাস , কয়লা , ফসফেট , ক্লোরিন , লবণ , টিন , হীরে , সােনা , মােনাজাইট , জারকন , প্লাটিনাম , ম্যাঙ্গানিজ , মুক্তো , ঝিনুক , প্রবাল প্রভৃতি যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায় । 
এছাড়াও গভীর সমুদ্রের হাইড্রোজেনাস , ডায়ােজেনিক এবং হাইড্রোথার্মল পলিতে প্রচুর পরিমাণে মলিবডেনাম , ইরিডিয়াম , রুপাে , তামা , দস্তা প্রভৃতি দুর্লভ ও মূল্যবান খনিজ পাওয়া যায় । সেই কারণে সমুদ্রকে রত্নাকর বলা হয়ে থাকে ।