শিল্পের রুগ্ণতা কি?

শিল্পের রুগ্ণতা কথাটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় । রুগ্ণ শিল্প সংস্থার সংজ্ঞা অনেকেই অনেকভাবে দিয়েছেন । স্টেট ব্যাঙ্কের একটি কমিটি রুগ্ণ শিল্প সংস্থাকে এরকম একটি সংস্থা হিসাবে বর্ণনা করেছে , যা ধারাবাহিকভাবে টিকে থাকার জন্য অভ্যন্তরীণ উদ্বৃত্ত তৈরি করতে ব্যর্থ হয় এবং বাইরের উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহের উপর নির্ভর করে । এছাড়া , একটি আইনে রুগ্ণ শিল্প সংস্থাকে সংজ্ঞা দিয়েছে এমন একটি সংস্থা হিসাবে যার পুঞ্জীভূত ক্ষতি ব্যবসার নীট মূল্যের সমান অথবা তার বেশি এবং যে সংস্থায় ধারাবাহিকভাবে নগদ ক্ষতি হচ্ছে । যেভাবেই রুগ্ণ শিল্প সংস্থাকে বর্ণনা করা হােক না কেন , এরকম শিল্প সংস্থার বৈশিষ্ট্য হল এরা আর্থিক অভাবে জর্জরিত , যার জন্যে এরা দৈনন্দিন খরচ মেটাতে পারে না এবং এদের কাছে কারবার চালানাে দুষ্কর হয়ে পড়ে ।

কারণঃ অনেক কারণে শিল্পের রুগ্‌ণতা দেখা দেয় , যেমন –
১. শিল্পজাত দ্রব্যের উৎপাদন ব্যায় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেলে শিল্পজাত দ্রব্যের চাহিদা হ্রাস পাবে ফলে এরূপ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে ।
২. অঞ্চলটিতে শিল্পোৎপাদনের অনুকূল পরিস্থিতির অভাব যেমন কাঁচামালের হ্রাসপ্রাপ্তি বা নিঃশেষকরণ অথবা পরিবহন ব্যবস্থার অবনমন প্রভৃতি বিষয়ও শিল্পের রুগ্নতার জন্য দায়ী ।
৩. রাজনৈতিক অস্থির অবস্থার কারণেও শিল্পের প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে ।
৪. শ্রমিক অসন্তোষ , লকআউট প্রভৃতি অবস্থাও কোনাে শিল্পকে রুগ্ন অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে ।
৫. সরকারি পরিকল্পনায় শিল্পের জন্য সুযােগ – সুবিধার হ্রাস প্রাপ্তি অথবা শিল্পের প্রতি গুরুত্ব হ্রাস পেলেও বিশেষত ক্ষুদ্র শিল্পগুলির রুগ্ন অবস্থা দেখা যাবে ।
৬. শিল্পের সঙ্গে অসম প্রতিযােগিতা দেখা গেলেও তুলনামূলকভাবে দূর্বল শিল্পটির ক্রমান্বয়ে মৃতপ্রায় অবস্থা দেখা যাবে ।
৭. শিল্পকেন্দ্রের সন্নিহিত অঞ্চল এবং সেই দেশের মানুষের ক্রম ক্ষমতার হ্রাসপ্রাপ্তি বা অভাব উক্ত শিল্পের রুগ্নতাকে ত্বরান্বিত করবে ।
৮. যে কোনাে ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন খরা , বন্যা , ভূমিকম্প প্রভৃতির মতাে প্রাকৃতিক অবস্থাও শিল্পের রুগ্নতার জন্য দায়ী বিষয় বলা যেতে পারে ।