তরঙ্গকর্তিত মঞ্চ কি?

সংজ্ঞাঃ সমুদ্রতরঙ্গের আঘাতে উপকূলস্থ উঁচু খাড়া পাড় বা ভৃগুর পশ্চাদ্‌পসরণের ফলে মঞ্চের মতাে যে প্রায় সমতল পৃষ্ঠের সৃষ্টি হয় , তাকেই তরঙ্গকর্তিত মঞ্চ বলে ।

সৃষ্টির প্রক্রিয়াঃ তরঙ্গের আঘাতে উপকূল ভাগে প্রথমে একটি খাঁজের সৃষ্টি হয় । ওই খাঁজ ক্রমশ বৃদ্ধি পেলে এর উপরের অংশ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে এবং তরঙ্গের ক্রমাগত আঘাতে ওই খাঁজ পরবর্তী পর্যায়ে ভেঙে পড়ে এবং অপসারিত হয় । এভাবে ক্রমাগত ভৃগুর পশ্চাদপসরণের ফলে এরসম্মুখভাগে তরঙ্গকর্তিত মঞ্চ গড়ে ওঠে এবং ক্ষয়প্রাপ্ত দ্রব্যগুলি তরঙ্গের দ্বারা অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় মঞ্চপৃষ্ঠকে মসৃণ করে তােলে ।

বৈশিষ্ট্যঃ তরঙ্গকর্তিত মঞ্চ – এর বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ –
১. মঞ্চ বালি , প্রস্তরখণ্ড ইত্যাদি দ্বারা আবৃত অথবা উন্মুক্ত থাকতে পারে ।
২. ভৃগুর পাদদেশের দিকে তরঙ্গকর্তিত মঞ্চের ঢাল অবতল হয় । উত্তর কোন উপকূলে রাভাস নদীর দক্ষিণে ৮ কিমি লম্বা ও প্রায় ৩-৪ মিটার উঁচু মঞ্চ গড়ে উঠেছে । 

শ্রেণীবিভাগঃ সমুদ্র জলতলের অবস্থান অনুযায়ী তরঙ্গকর্তিত মঞ্চকে তিনভাগে ভাগ করা যায় । যথা –
( i ) উচ্চ জোয়ার মঞ্চঃউচ্চ জোয়ারের সর্বোচ্চ সীমার ঊর্ধ্বে উচ্চ জোয়ারম গড়ে ওঠে । এই মঞ্চ প্রায় অনুভূমিক ভাবে অবস্থান করে । বার্ডের ( Bird , ১৯৬৪ ) মতে , এই ঊর্ধ্বাংশ সময়ে সময়ে জলসিঞ্চনের ফলে রাসায়নিক আবহবিকারের অন্তর্গত হয় । ফলে , শিলা বিয়ােজিত ও অপসারিত হয়ে এই মঞ্চ গঠন করে ।
( ii) জোয়ার মধ্যবর্তী মঞ্চঃ জোয়ার মধ্যবর্তীম উচ্চ জোয়ার ও নিম্ন জোয়ার সীমার মধ্যে অবস্থিত । এটি বিশুদ্ধ সমসত্ত্বশিলাপৃষ্ঠে গঠিত হয় । এইরূপ মঞ্চের ঢাল — অবতল প্রকৃতির ও সমুদ্রমুখী হয় । কোঙ্কন উপকূলের হাতিহরেশ্বর ও রত্নগিরি — এর উদাহরণ ।
( iii ) নিম্ন জোয়ার মঞ্চঃ যখন সমুদ্রের জল গড় নিম্ন জোয়ার সীমার নীচে নেমে যায় , তখন স্বল্প সময়ের জন্য যে অনুভূমিক তরঙ্গকর্তিত মঞ্চ প্রকাশিত হয় , তাকে নিম্ন জোয়ার মঞ্চ বলে ।