ভৌমজলের গুরুত্ব উল্লেখ কর ।

মানবজীবনে ভৌমজলের গুরুত্ব যথেষ্ট । এগুলি হল নিম্নরূপ – 
১. কৃষিকাজে জলসেচঃ চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে প্রবেশ্য শিলার নিচে যদি অপ্রবেশ্য শিলা থাকে তাহলে সেখানে ভৌমজল পাওয়া যায় । এই জল কৃষিকাজে ও বাগিচা ফসল চাষে সাহায্য করে । 

২. শিল্পাঞ্চল স্থাপনঃ আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলের চুনাপাথর গঠিত জায়গায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভৌমজল সঞ্চিত থাকে । তার ফলে চাষবাস ও শিল্প কাজে এই জলের ভূমিকা উল্লেখযােগ্য । উদাহরণ হিসাবে বলা যায় , উত্তর ফ্রান্সের জনসমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল এই ভৌমজলের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে ।

৩. প্রস্রবণ সৃষ্টিঃ প্রবেশ্য চুনাপাথরের নিচে অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের সংযােগস্থল কোনাে কারণে উন্মুক্ত হলে সেখানে প্রস্রবণের সৃষ্টি হয় । এই প্রস্রবণ পানীয় জল সরবরাহ করে জনবসতি গড়ে তুলতে সাহায্য করে ।

৪. ভূ – তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনঃ উষ্ণ প্রস্রবণ ও গিসার ভৌমজলের দু’টি প্রকৃষ্ট উদাহরণ । এই ভৌমজলের উত্তাপের সাহায্যে ভূ – তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে ওঠে । যেমন ইতালি ও হাঙ্গেরিতে এইরকম বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ।

৫. পশুপালনে সাহায্যঃ চুনাপাথর বা কাস্ট অঞ্চলে ভৌমজল অবস্থিতির জন্য ভূপৃষ্ঠ শুকনাে থাকে । তার ফলে কৃষিকার্য অপেক্ষা এই সকল অঞ্চলে পশুখাদ্য তৃণ জন্মায় বলে অধিবাসীরা পশুপালন করে জীবিকা নির্বাহ করে ।

৬. মনোরম ভূ – প্রকৃতি সৃষ্টিঃ সবশেষে বলা যায় ভৌমজলের কার্যের দ্বারা কোনাে কোনাে চুনাপাথরে গঠিত অঞ্চলে মনােরম ভূ – প্রকৃতির সৃষ্টি হয় । এই ভূ – প্রকৃতি পর্যটকদের আকর্ষণ করে এবং পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে সাহায্য করে । যেমন – দেরাদুনের সহস্রধারা , তপকেশ্বরের গুহা , পােল্যান্ডের টটরা ন্যাশনাল পার্ক পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান ।