জলবিভাজিকা উন্নয়ন কি?

নদী অববাহিকা অঞ্চলের উন্নতির লক্ষ্যে জলবিভাজিকাসংক্রান্ত প্রাকৃতিক ও মানবিক সম্পদের সামগ্রিক উন্নয়নই হল জলবিভাজিকা উন্নয়ন । এই উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে কোনাে নদী অববাহিকা অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র , পরিবেশের উপাদান এবং সম্পদের স্থায়ী উন্নয়ন করা যায় ।

গুরুত্ব: জলবিভাজিকা উন্নয়ন – এর গুরুত্বগুলি নিম্নরূপ –
(১) জলবিভাজিকার মাধ্যমে নদী অববাহিকা অঞ্চলগুলিকে চিহ্নিত করা যায় । এটি একটি প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার একক ।
(২) একটি দেশের জলসম্পদ তার নদী অববাহিকার বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে ।
(৩) ভূপৃষ্ঠের এবং ভূগর্ভে কত পরিমাণ জলসতি আছে তা নিয়ন্ত্রণ করে নদী অববাহিকার ক্ষেত্রফল ওই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, শিলার প্রকৃতি প্রভৃতি বিষয়ের উপর ।

জলবিভাজিকা উন্নয়ন পদ্ধতিঃ  জলবিভাজিকা উন্নয়ন – এর গুরুত্বগুলি নিম্নরূপ –
(১) ঢাল উন্নয়ণঃ নদী অববাহিকা উঁচু খাড়া অংশে ভূমিক্ষয় এবং ঢাল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বৃক্ষরােপন , তৃণভূমির আচ্ছাদন তৈরি , ক্ষয়নিয়ন্ত্রক দেয়াল নির্মাণ , প্রয়ােজনে পাহাড়ি নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা যেতে পারে । এর সাথে ঝুম চাষের মতাে কুপ্রথা বন্ধ করা দরকার ।
(২) সমোন্নতি রেখা বরাবর বনভূমি তৈরিঃ ধাপ চাষযুক্ত অঞ্চলে সমােন্নতিরেখা বরাবর বনভূমি তৈরি করলে মাটি  ক্ষয় কম হয় এবং ভৌমজলের পরিমাণ বাড়ে । 
(৩) নদীখাতের ছোট বাঁধ তৈরিঃ অববাহিকার ছােটো নদীগুলির প্রবাহপথে বাঁধ বেঁধে দিলে স্থানীয়ভাবে জলসংরকক্ষণ ও মাটিক্ষয় রােধ করা যায় ।
(৪) বন্যা নিয়ন্ত্রণঃ বন্যাপ্রবণ নদী অববাহিকায় প্রচুর জলাভূমি , পুকুর , খাল কাটতে হবে এবং নদীখাতের পলি কেটে তুলে ফেলতে হবে । এতে নদীর জলধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায় । 
(৫) বহুমুখী নদী উন্নয়ন পরিকল্পনাঃ নদী অববাহিকার সঠিক উন্নতির জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, নিয়ন্ত্রিত জলসেচ, মাছচাষ, নৌপরিবহন প্রভৃতি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন ।