ল্যাটেরাইট মাটি (Laterite Soil)

বুৎপত্তিগত অর্থঃ ল্যাটিন শব্দ “Later” থেকে ল্যাটেরাইট শব্দটি সৃষ্টি হয়েছে, যার অর্থ ‘ইট’ (Brick) । 

সংজ্ঞাঃ ইটের মত শক্ত ও লাল রঙের হয় বলে এই মাটিকে ল্যাটেরাইট মাটি (Laterite Soil) বলে । 

অবস্থানঃ এই মৃত্তিকা আর্দ্র-ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বৃহত্তম মৃত্তিকা বলয় গঠন করেছে । এশিয়ার মধ্য ভারত, মায়ানমার, ইন্দোচিন, দঃ-পূঃ চিন; মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল; দঃ আমেরিকার ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে; আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের দঃ-পূঃ অংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাংশে এই মৃত্তিকা দেখা যায় । ***ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি, পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতের কিছু অংশে এবং মেঘালয় মালভূমির বেশিরভাগ অংশে এই মাটির সৃষ্টি হয়েছে । 

সৃষ্টির প্রক্রিয়াঃ অত্যাধিক উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে জলের সাথে সিলিকা জাতীয় পদার্থ মাটির গভীরে চলে যায় । উপরের স্তরে রয়ে যায় কেবল লৌহ অক্সাইড ও এল্যুমিনিয়াম, যা পরবর্তী শুষ্ক ঋতুতে জমাটবদ্ধ হয় । পর্যায়ক্রমে এইভাবে বছরের পর বছর এই দ্বৈত প্রক্রিয়া চলার ফলে কালক্রমে শক্ত রুক্ষ লাল রঙের ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার সৃষ্টি হয় ।

বৈশিষ্ট্যঃ ল্যাটেরাইট মাটি -র বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ-

  • ক) অধিক উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে যেখানে পর্যায়ক্রমে শুষ্ক ও আর্দ্র ঋতু দেখা যায়, সেখানে এই মাটির সৃষ্টি হয় । 
  • খ) লৌহ অক্সাইড ও এল্যুমিনিয়াম অক্সাইডের অধিক উপস্থিতির জন্য এই মাটির রং ইটের মত গাঢ় লাল হয় । 
  • গ) এই মাটি রুক্ষ ও অনুর্বর । 
  • ঘ) এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা কম হয় । 
  • ঙ) আদিশিলা ব্যাসল্ট থেকে এই মৃত্তিকা সৃষ্টি হয় ।
  • চ) মাটির কাঠামো মৌচাকের মত আকৃতির হয় ।
  • ছ) এই মাটি আম্লিক প্রকৃতির । 
  • জ) জৈব পদার্থের পরিমান এই মাটিতে খুবই কম । 

কৃষিকার্য ও ফসল উৎপাদনঃ এই মাটি অত্যন্ত রুক্ষ ও অনুর্বর । পাশাপাশি এই মাটির জলধারণ ক্ষমতাও খুবই কম, যে কারণে এই মাটি কৃষিকাজের পক্ষে বেশ অসুবিধাজনক এবং ফসল উৎপাদনের পরিমানও তুলনামূলকভাবে কম । তবুও পর্যায়ক্রমে জলসেচ ও সার প্রয়োগ করে এই মাটিতে চিনাবাদাম, জোয়ার, বাজরা, রাগি, ডাল, তৈলবীজ, কাজুবাদাম প্রভৃতি কৃষি ফসল উৎপাদন করা হয় ।

Leave a Reply