কফি – একটি বানিজ্যিক বাগিচা ফসল

চা এর মতই কফিও একপ্রকার মৃদু উত্তেজক পানীয় । এটি অন্যতম একটি বানিজ্যিক বাগিচা কৃষিফসল । 

প্রকারভেদঃ কফি মুলত চার প্রকার । যথা- ক) আরবিক কফি খ) রোবাষ্টা কফি গ) লাইবেরিকা কফি গ) জামাইকা কফি বা ব্লু মাউন্ট কফি । তুলনামূলক ভাবে আরবিক কফি স্বাদে ও গন্ধে উতকৃষ্ট ।

অনুকুল ভৌগোলিক পরিবেশঃ কফিচাষ ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ৪০° উঃ থেকে ২৫° দঃ অক্ষাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ । ১৫° – ২৫° সেঃ উষ্ণতা, ১০০ – ১৫০ সেমি বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢালু ভূপ্রকৃতি, অম্লধর্মী পটাশ ও হিউমাস সমৃদ্ধ লাল মাটি, বিশ্বব্যাপি চাহিদা প্রভৃতি কফিচাষের উন্নতির অন্যতম শর্ত । 

ব্রাজিল ও কফিচাষঃ কফি উৎপাদনে ব্রাজিল প্রথম । এখানে প্রচুর পরিমানে কফি চাষ করা হয় । তাই  ব্রাজিলকে কফির পাত্র বলা হয় । ব্রাজিলের দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চলে বড় বড় কফি বাগিচাগুলি অবস্থিত । এই কফি বাগিচাগুলি ফাজেন্দা (Fazendas) নামে পরিচিত । কফি চাষের অনুকূল পরিবেশজনিত অত্যাধিক সুবিধার জন্য ব্রাজিলে মাঝে মাঝেমধ্যে মাত্রাতিরিক্ত কফি উৎপাদিত হয় । আন্তজার্তিক কফি বানিজ্যে দামের পতন হয় । ফলে কফি চাষিরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয় । এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তারা সম্মিলিতভাবে অতিরিক্ত উৎপাদিত কফি পুড়িয়ে ফেলে আন্তর্জাতিক বাজারে কফির মূল্যমানের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করে । কফির বাজারে এভাবে দাম ধরে রাখার পদ্ধতি ভ্যালেরাইজেশন (Valorisation) নামে পরিচিত ।

Leave a Reply