ভরা কোটাল বা তেজ কোটাল

বুৎপত্তিগত অর্থঃ তামিল শব্দ ‘কটাল’ এর অর্থ ‘সমুদ্র’ ।

সংজ্ঞাঃ অমাবস্যা ও পূর্ণিমার দিনে চাঁদ ও সূর্য এবং পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে । একে সিজিগি (Syzygy) অবস্থান বলে । এই অবস্থানে ত্রিমুখী প্রভাবে জোয়ারের জল অনেক বেশি ফুলে ওঠে । একে ভরা কোটাল বা তেজ কটাল বলে ।




উৎপত্তিঃ চাঁদ পৃথিবীকে একবার পরিক্রমণ করতে যে সময় নেয়, তাকে চান্দ্রমাস বলে । চান্দ্রমাসের এক একটি দিনকে বলে তিথি । তিথি অনুযায়ী নিজ কক্ষপথে চাঁদ স্থান পরিবর্তন করে এবং অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে এমন এক অবস্থানে আসে, যখন চাঁদ সূর্য এবং পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে সম্মিলিত প্রভাবে ভরা কোটাল বা তেজ কোটাল সৃষ্টি করে ।

প্রকারভেদঃ তিথি অনুযায়ী ভরা কোটাল দুই প্রকার । যথা- অমাবস্যার ভরা কোটাল ও পূর্ণিমার ভরা কোটাল ।




বৈশিষ্ট্যঃ ভরা কোটাল বা তেজ কোটাল – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –

  • ১. সময়ঃ অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে ভরা কোটাল হয় ।
  • ২. অবস্থানঃ পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় অবস্থান করে ।
  • ৩. মহাকর্ষ শক্তিঃ চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির মিলিত প্রভাবে এটি সৃষ্টি হয় ।
  • ৪. মাত্রাঃ অমাবস্যার ভরা কোটাল পূর্ণিমার ভরা কোটাল অপেক্ষা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়, অর্থাৎ মরা জোয়ারের তুলনায় ভরা কোটালের ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে ।
  • ৫. সর্বোচ্চ জোয়ারঃ অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবী একই সরলরেখায় থাকে ।  তবে অমাবস্যা তিথিতে চাঁদ, পৃথিবী এবং সূর্যের মাঝে অবস্থান করে । ফলে উভয় দিনে জোয়ার এর মাত্রা অন্য অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় বেশি হয়, তাই ভরা কোটালকে সর্বোচ্চ জোয়ার বলে ।




Leave a Reply