শৈবাল সাগর (Sargasso Sea)

ব্যুৎপত্তিগত অর্থঃ পর্তুগিজ শব্দ সারগাসাম (Sargassum) থেকে সারগাসো (Sargasso) শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো ‘সামুদ্রিক আগাছা’ ।

সংজ্ঞাঃ সমুদ্র মধ্যবর্তী কয়েক হাজার কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে জলাবর্ত সৃষ্টি হলে তার মধ্যাংশ স্রোতবিহীন ও শান্ত হয় । ফলে এই অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার আগাছা, শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায় । সমুদ্র মধ্যবর্তী এই প্রকার শান্ত, স্রোতবিহীন ও আগাছাপূর্ণ অঞ্চলকে শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) বলে ।

উদাহরণঃ পৃথিবীর সমুদ্রভাগে মূলত দুটি উল্লেখযোগ্য শৈবাল সাগর দেখা যায় । যথা-

  • ক) প্রশান্ত মহাসাগরীয় শৈবাল সাগরঃ উঃ প্রশান্ত মহাসাগরে জাপান স্রোত, ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত, উঃ প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত এবং উঃ নিরক্ষীয় স্রোতের মিলনের ফলে এই অঞ্চলে শৈবাল সাগর সৃষ্টি হয়েছে ।
  • খ) আটলান্টিক মহাসাগরীয় শৈবাল সাগরঃ উঃ আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে ক্যানারি স্রোত, উপসাগরীয় স্রোত এবং উঃ নিরক্ষীয় স্রোতের মিলনের ফলে এই অঞ্চলে শৈবাল সাগর সৃষ্টি হয়েছে ।

উৎপত্তির কারণঃ আয়ন বায়ু ও পশ্চিমা বায়ুর সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে মৃদু বায়ুর প্রাদুর্ভাব ঘটে, যা এই অঞ্চলকে শান্ত করে তোলে । পাশাপাশি বিভিন্ন দিক থেকে এই অঞ্চলে আগত সমুদ্রস্রোতগুলি পরস্পর মিলিত হয়ে একটি চক্রাকার জলাবর্ত সৃষ্টি করে, যেখানে খুব সহজেই শৈবাল, আগাছা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ জন্মে এই অঞ্চলে শৈবাল সাগর উৎপত্তি হয় ।

বৈশিষ্ট্যঃ শৈবাল সাগর – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –

    • ক) আয়তনে এটি প্রায় কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার ।
    • খ) এর মধ্যাংশ স্রোতবিহীন ।
    • গ) আকৃতিতে কিছুটা ডিম্বাকার ।
    • ঘ) এটি নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে অসুবিধা সৃষ্টি করে ।
    • ঙ) এই অঞ্চলের উষ্ণতা ও লবণতা অপেক্ষাকৃত বেশী ।

Leave a Reply