পশ্চিম ভারতে বা ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে কার্পাস বয়ন শিল্পের একদেশীভবনের কারণগুলি লেখঃ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  • ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে যথা – মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, পুনে, নাগপুর অঞ্চলে এবং গুজরাটের আমেদাবাদ, সুরাট অঞ্চলে কার্পাস বয়ন শিল্পের একদেশীভবন ঘটেছে । এই কেন্দ্রীভবনের পিছনে দায়ী কারণগুলি হলো নিম্নরূপ –
  • প্রাকৃতিক কারণঃ
    • কাঁচামালের সহজলভ্যতাঃ মহারাষ্ট্রের কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চলে (খান্দেশ, বিদর্ভ ও মারাঠাওয়ারা) এবং গুজরাটের সমভূমিতে (আমেদাবাদ, সুরেন্দ্রনগর, ভারুচ) এই শিল্পের কাঁচামাল কার্পাস তুলা প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয় । তাই সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলগুলিতে অতি সহজেই ও কম খরচে কাঁচামাল আমদানি করা যায় ।
    • অনুকূল জলবায়ুঃ মুম্বাই আরবসাগরের উপকূলে এবং আমেদাবাদ খাম্বাত উপকূলের অনতি উত্তরে অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয় জলবায়ু আর্দ্র প্রকৃতির, যা কার্পাস বয়ন শিল্পের পক্ষে বিশেষভাবে উপযুক্ত ।
    • শক্তি সম্পদের প্রাচুর্যঃ শিল্পকেন্দ্রগুলি প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বালানি কয়লার সাহায্যে চালিত হতো এবং কম খরচে দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল ও ট্রান্সভাল প্রদেশ থেকে ডারবান বন্দরের সাহায্যে কয়লা জলপথে আমদানি করা হত । পরবর্তীকালে পশ্চিমঘাটে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি যেমন – খোপলি, লোনাভলা, লীলামূলা, ভীরা, ভিবপুরী প্রভৃতি এবং ট্রম্বে, নাসিক প্রভৃতি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি স্থাপিত হওয়ার পর এখান থেকেই সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চল গুলিতে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করা হয় । এই শিল্পে শক্তি সরবরাহকারী অপর একটি উৎস হলো ধুবরানের গ্যাসভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ।
  • অর্থনৈতিক কারণঃ
    • বন্দরের প্রাচুর্যঃ এই অঞ্চলে মুম্বাই, কান্ডালা, ওখা, পোরবন্দর, সুরাট প্রভৃতি উন্নত ও আধুনিক বন্দরের মাধ্যমে কম খরচে ইজিপ্ট (UAE), সুদান থেকে দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলা এবং ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য থেকে উন্নতমানের বয়ন শিল্পের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানি করতে সুবিধা হয় । পাশাপাশি উৎপাদিত কার্পাস বস্ত্র আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করতেও উল্লিখিত বন্দরগুলির ভূমিকা খুবই উল্লেখযোগ্য ।
    • মূলধনের প্রাচুর্যঃ কার্পাস বয়ন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন মহারাষ্ট্রের স্থানীয় পার্শি, ভাটিয়া প্রভৃতি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং গুজরাটের স্থানীয় গুজরাটি ও সিন্ধ্রী শিল্পপতিরাই বিনিয়োগ করেন । এই সকল শিল্পপতিদের ব্যবসা পরিচালনার জ্ঞান ও পারিবারিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এই শিল্পের উন্নতির অন্যতম কারণ ।
    • বিশাল বাজারঃ মহারাষ্ট্রের রাজধানী হলো মুম্বাই এবং আমেদাবাদ হলো গুজরাটের প্রাক্তন রাজধানী । এই দুই শহরের ঘন জনবসতিসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিবিড় জনঘনত্ব স্থানীয়ভাবেই বৃহৎ বাজারের সৃষ্টি করেছে । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই অঞ্চলের উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ুর ফলে কার্পাস বস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে ।
    • রাসায়নিক দ্রব্যের সরবরাহঃ সুতো পরিষ্কার ও রং পাকা করার জন্য এই শিল্পে কস্টিক সোডা, ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি রাসায়নিক দ্রব্যের প্রয়োজন হয় । মুম্বাই, ভাদোদরা, মিঠাপুর প্রভৃতি স্থা্নের রাসায়নিক শিল্পকেন্দ্র থেকে সহজেই এইসব কাঁচামাল সংগৃহীত হয় ।
    • উন্নত পরিবহনঃ মুম্বাই ও আমেদাবাদ – এই দুটি শহরই রেলপথ ও সড়কপথ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাঁচামাল উৎপাদক অঞ্চল ও বিভিন্ন বাজারের সাথে যুক্ত । পাশাপাশি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুবই উন্নতমানের । যে কারণে এই শিল্পের প্রসারে পরিবহন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ।
    • বানিজ্য কেন্দ্রঃ মুম্বাই হলো ভারতের বানিজ্যিক রাজধানী । ব্যাংকসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থার মূল কার্যালয় এখানে অবস্থিত হওয়ার ফলে শিল্পসংক্রান্ত ঋণ ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা এই অঞ্চলে সর্বাপেক্ষা বেশী, যা এই অঞ্চলে কার্পাস বয়ন শিল্পের প্রভূত উন্নতিসাধন করেছে ।
    • সুলভ শ্রমিকঃ কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চলে তুলা চাষ ব্যতীত অন্যান্য কৃষিকার্যজনিত সুযোগসুবিধা কম থাকার ফলে নিকটবর্তী কঙ্কন, সাতারা, শোলাপুর অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যায় সুলভ ও সস্তা শ্রমিক পাওয়া যায় ।এছাড়াও, গুজরাটের সুরাট অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশ দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের সাথে যুক্ত আছে; যে কারণে এই অঞ্চলে কার্পাস বয়ন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক সুলভ ও দক্ষ ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *