মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic Movement):

  • বুৎপত্তিগত অর্থঃ গ্রীক শব্দ ‘Epeiros’ যার অর্থ মহাদেশ এবং ‘Genesis’ যার অর্থ সৃষ্টি ; এই দুটি গ্রীক শব্দের সমন্বয়ে “Epeirogenic” অর্থাৎ মহীভাবক শব্দটি এসেছে ।
  • সংজ্ঞাঃ যে আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে উল্লম্বভাবে ক্রিয়া করে ভূত্বকের উত্থান বা অবনমন ঘটায়, তাকে মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic Movement) বলে ।
মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic Movement)
  • ব্যাখাঃ মহীভাবক আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে উল্লম্বভাবে অর্থাৎ, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর ভূ-কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠ অভিমুখে ক্রিয়াশীল হয় । এই আলোড়নে ভূত্বকের অংশবিশেষ উল্লম্বভাবে উপরে উঠে যায় বা নিচে বসে যায়; যার ফলস্বরূপ সমুদ্রবক্ষ উত্থিত হয়ে মহাদেশের অংশভাগ এবং মহাদেশ অবনমিত হয়ে সমুদ্রভাগ রূপে অবস্থান করে । এই আলোড়নের ফলে ভূত্বকের কোন অংশ উত্থিত হলে তার পার্শ্ববর্তী অপর অংশ স্বাভাবিকভাবেই অবনমিত হয় । সুতরাং, এই আলোড়ন ভূত্বকের উত্থান ও অবনমন একইসাথে ঘটায় ।
  • উদাহরণঃ মহীভাবক আলোড়নের ফলে উত্তর সাগরের নিম্ন উপকূলবর্তী অঞ্চল ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হচ্ছে এবং এর পার্শ্ববর্তী জলমগ্ন অঞ্চল ক্রমশ উত্থিত হচ্ছে ।
  • বৈশিষ্ট্যঃ মহীভাবক আলোড়ন – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
    • এটি ভূ-অভ্যন্তরে উল্লম্বভাবে অর্থাৎ, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর কাজ করে ।
    • এটি ভূত্বকে স্থানীয়ভাবে বা আঞ্চলিকভাবে ক্রিয়াশীল হয় ।
    • এই আলোড়নের প্রভাবে মহাদেশ গঠিত হয় ।
    • এই আলোড়ন শিলায় চ্যুতি, ফাটল-দারণ প্রভৃতির সৃষ্টি করে ।
    • এই আলোড়ন ভূত্বকের কোথাও উত্থান, আবার কোথাও অবনমনের সৃষ্টি করে ।
    • এই আলোড়ন শিলাস্তরের প্রসারণ অথবা সংকোচন ঘটায় না ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s