প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anti-Cyclone):

☻সংজ্ঞাঃ কোনো স্থানে উষ্ণতা হ্রাসের ফলে শীতলতার কারণে প্রবল উচ্চচাপ সৃষ্টি হলে ঐ উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে বাইরের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে কুন্ডলাকারে বর্হিগামী বায়ুপ্রবাহ প্রবাহিত হয় । একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anti-Cyclone) বলে ।

অবস্থান: মূলত: হিমমন্ডল ও নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে সৃষ্টি হলেও আঞ্চলিক বৈশিষ্টাবলীর অনুকূল পরিবর্তন ঘটলে পৃথিবীতে যে কোনো অঞ্চলে এর সৃষ্টি হতে পারে । প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য শীতকালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাংশ ও কানাডার বরফাবৃত অঞ্চলে প্রতীপ ঘূর্ণবাত সৃষ্টি হয় ।

বৈশিষ্টাবলী: প্রতীপ ঘূর্ণবাত – এর বৈশিষ্টাবলী হলো নিম্নরূপ –
ক) বায়ুচাপ: প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ অবস্থান করে ।
খ) প্রবাহের অভিমুখ: এটি উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয় ।
গ) বায়ুপ্রবাহ: এর বায়ুপ্রবাহ শীতল, বহির্মুখী ও নিম্নগামী হয় ।
ঘ) উৎপত্তির সময়কাল: এর উৎপত্তির প্রকৃত সময়কাল হলো শীতকাল ।
ঙ) স্থায়িত্ব: এটি একপ্রকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ুমন্ডলীয় অবস্থা ।
চ) বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ: প্রতীপ ঘূর্ণবাতের বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ৩০ – ৫০ কিলোমিটার / ঘন্টা অর্থাৎ, অপেক্ষাকৃত কম।
ছ) আবহাওয়া: এটি প্রভাবাধীন অঞ্চলে শান্ত মেঘমুক্ত আবহাওয়া বিরাজ করে । আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় বৃষ্টিপাত না হলেও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে মাঝেমাঝে তুষারপাত হতে পারে ।

3 thoughts on “প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anti-Cyclone):

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: