সাহসী পশ্চিমা বায়ু (Brave West Wind) – গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties), ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ (Howling Fifties) ও তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট (Screaming Sixties):

পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩৫° – ৬০° অক্ষাংশে পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে স্থলভাগে রকি, আল্পস, আলতাই, সায়ান, তিয়েনসান প্রভৃতি উঁচু পর্বতের অবস্থানের ফলে পশ্চিমা বায়ু বাধাপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে না । কিন্তু এই পশ্চিমা বায়ুই দক্ষিণ গোলার্ধে ৩৫° – ৬০° অক্ষাংশে প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের সুবিশাল উন্মুক্ত জলভাগের উপর দিয়ে বাধাহীনভাবে প্রবলবেগে প্রবাহিত হয় । এছাড়াও, দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের আধিক্যের কারণে শীত – গ্রীষ্মের তারতম্যও কম হয় । ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ুর দিক অপরিবর্তনশীল হয়ে থাকে এবং গতিবেগও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫-৫০ কিমি/ঘন্টায় গিয়ে দাঁড়ায়, যে কারণে একে সাহসী পশ্চিমা বায়ু (Brave West Wind) বলা হয় ।
                                    দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবাহিত প্রবল গতিশীল এই সাহসী পশ্চিমা বায়ুকে তাই ৩৫° – ৬০° অক্ষাংশের মধ্যে বিভিন্ন অক্ষাংশগত অবস্থানে বৈশিষ্ট্যভেদে বিভিন্ন নামকরণ করা হয়েছে । যথা –
১. গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties): ৪০° দক্ষিণ অক্ষরেখায় প্রবলবেগে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে জলঘূর্ণি ও গর্জনসহকারে উৎক্ষিপ্ত হয় বলে ঐ নির্দিষ্ট আঞ্চলিক অবস্থান বরাবর একে গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties) বলে ।
অবস্থানঃ দক্ষিণ গোলার্ধে ভারত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে ৪০° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর প্রবাহিত হয়ে থাকে ।
২. ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ (Howling Fifties): ৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখায় এই সাহসী পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ আরও প্রবলভাবে বৃদ্ধি (৪৫-৫০ কিমি/ঘন্টা) পায় বলে একে ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ (Howling Fifties) বলে ।
অবস্থানঃ দক্ষিণ গোলার্ধে ভারত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে ৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর প্রবাহিত হয়ে থাকে ।

৩. তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট (Screaming Sixties): ৬০° দক্ষিণ অক্ষরেখায় সাহসী পশ্চিমা বায়ু তীক্ষ্ণ শব্দে প্রবাহিত হয় বলে ঐ নির্দিষ্ট আঞ্চলিক অবস্থান বরাবর একে তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট (Screaming Sixties) বলে ।
অবস্থানঃ দক্ষিণ গোলার্ধে ভারত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে ৬০° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর প্রবাহিত হয়ে থাকে ।