বজ্রঝড় (Thunderstorm):

সংজ্ঞাঃ আর্দ্রতা ও শক্তির দ্রুত সঞ্চালন ও শক্তিশালী বায়ু-আবর্ত (Vortex) গঠনের মধ্য দিয়ে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে যে ভয়াবহ ঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকে বজ্রঝড় (Thunderstorm) বলে ।

বন্টনঃ সারা পৃথিবীতে প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় ৪৪,০০০ বজ্রঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে । এদের মধ্যে অধিকাংশই নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলে সংঘটিত হয়ে থাকে । বায়ুর অধিক আর্দ্রতা, প্লবতা, অভিসরণ ও পূবালী তরঙ্গের প্রভাবে প্রায় সারা বছর ধরেই এই অঞ্চলে বজ্রঝড় সংঘটনের জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে । নিরক্ষীয় অঞ্চলের প্রসারিত অংশে বছরে ১০০ – ১৮০ দিন, আবার কোথাও কোথাও ২০০ দিনেরও বেশী বজ্রঝড় হয়ে থাকে । নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে বজ্রঝড়ের সংখ্যা ক্রমশঃ কমতে থাকে । তবে দক্ষিণ গোলার্ধের তুলনায় উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ বেশী বলে নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অনেক বেশী সংখ্যক বজ্রঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে । কিন্তু এরপর থেকে উচ্চ অক্ষাংশের দিকে বায়ুর তাপমাত্রা কমতে থাকে বলে বজ্রঝড়ের সংখ্যাও কমতে থাকে । উভয় গোলার্ধেই ৬০° অক্ষাংশের পর থেকে বজ্রঝড় একপ্রকার হয় না বললেই চলে । সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণের সাথে সাথে বজ্রঝড় সংঘটনের অঞ্চলও যথাক্রমে উত্তর ও দক্ষিণদিকে স্থান পরিবর্তন করে । প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, উপক্রান্তীয় অঞ্চলের মরুভূমিগুলিতে বছরে কোথাও গড়ে ৫-২০ দিন, আবার কোথাও কোথাও ৫ দিনেরও কম বজ্রঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে ।

বৈশিষ্ট্যঃ বজ্রঝড় – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ –
ক) বিস্তারঃ বজ্রঝড়ের বিস্তার সাধারণত ১-২ কিলোমিটারের মত কম অঞ্চল জুড়ে হলেও বিষয়ান্তরে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী বজ্রঝ্রড়ের বিস্তার ৮-১০ কিলোমিটারেরও বেশী অঞ্চল জুড়ে হতে পারে ।
খ) গতিবেগঃ বজ্রঝ্রড়ের বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ মূলতঃ ঘন্টায় ৮০ – ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে হলেও অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী বজ্রঝড়ের দমকা বায়ুপ্রবাহ অনেকসময় ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশী গতিবেগে প্রবাহিত পারে ।
গ) স্থায়ীত্বঃ বজ্রঝড় ১৫-৩০ মিনিটের মত স্বল্পস্থায়ী হয়, কিন্তু অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী বজ্রঝড়ের স্থায়িত্ব অনেকক্ষেত্রেই দু ঘণ্টারও বেশী স্থায়ী হতে পারে ।
ঘ) বৃষ্টিপাতঃ বজ্রঝড় স্বল্পস্থায়ী হলেও ঐ অল্প সময়ের মধ্যেই তা প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় । বজ্রঝড় থেকে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নির্ভর করে বজ্রঝড়ের ঝড়কোষের অবস্থা, আকার ও সংখ্যার উপর । ছোট ঝড়কোষ থেকে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতের স্থায়িত্ব সাধারণত ১৫-২০ মিনিট ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১-৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে । আবার, অতিকায় ঝড়কোষ (Super Cell) বা বহুঝড়কোষ বিশিষ্ট বজ্রঝড় থেকে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতের স্থায়িত্ব ১-২ ঘণ্টা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০-২০ সেন্টিমিটার, এমনকি বিশেষ অবস্থানুযায়ী তা ৪০ সেন্টিমিটার অবধিও হতে পারে ।
ঙ) শিলাবৃষ্টিঃ বজ্রঝড়ের ঝড়োপুঞ্জ মেঘের উপরিভাগ হিমরেখার অনেক উপরে থাকে বলে ঐ অংশে কঠিন ঘনীভবন হয়, যা শিলাবৃষ্টিরূপে নিচে অধঃক্ষেপিত হয়ে থাকে । এদের ব্যাস সাধারণত ০.৫-১ সেন্টিমিটার হলেও বিশেষ অবস্থানুযায়ী তা ৭ সেন্টিমিটার অবধিও হতে পারে ।
চ) বজ্রপাত ও বৈদ্যুতিক চার্জের সমতাঃ বজ্রঝড়ের ঝড়োপুঞ্জ মেঘে বিদ্যুৎপাতের ফলে ২৮,০০০°C-৩০,০০০°C উষ্ণতার সমপরিমাণ উত্তাপের সৃষ্টি হয় । এর ফলে বায়ুতে যে কম্পন বা তরঙ্গের সৃষ্টি হয় তা বজ্রের আকারে ৩০০ মিটার / সেকেন্ড বেগে প্রবাহিত হয় ও কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই তার শব্দ কানে পৌছায় । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বজ্রঝড়ে এই বিদ্যুৎ – এর সৃষ্টি হয় ভূ-পৃষ্ঠ ও আয়নোস্ফিয়ারের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জ বিনিময়ের মাধ্যমে । স্বাভাবিক আবহাওয়ায় আয়নোস্ফিয়ার থেকে ধনাত্মক বৈদ্যুতিক চার্জ পৃথিবীতে আসতে থাকে । এভাবে কেবল ধনাত্মক বৈদ্যুতিক চার্জ পৃথিবীর দিকে একটানা আসতে থাকলে পৃথিবীর ঋণাত্মক বৈদ্যুতিক চার্জ মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতো । কিন্তু বজ্রঝড়ের সময় মেঘের ঋণাত্মক বৈদ্যুতিক চার্জ পৃথিবীর দিকে এসে সেই ঘাটতি পূরণ করে পৃথিবীর ঋণাত্মক চার্জের শক্তি অটুট রাখে । প্রতি মুহুর্তে সারা পৃথিবীতে এক সঙ্গে প্রায় ১৮০০ বজ্রঝড় বিদ্যুৎ চমকের মাধ্যমে পৃথিবীর ঋণাত্মক বৈদ্যুতিক চার্জ বজায় রাখে ।
ছ) সারিবদ্ধ বজ্রঝড়ঃ বজ্রঝড় মূলত এককভাবে সংঘটিত হলেও কখনও কখনও বসন্তকালের শেষে বা গ্রীষ্মকালের প্রথমে কয়েকশত কিলোমিটার দীর্ঘ বজ্রঝড়ের সারি সৃষ্টি হয় । এরা মূলত উত্তর-দক্ষিণে বা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বিস্তার লাভ করে । একক বজ্রঝড়ের তুলনায় সারিবদ্ধ বজ্রঝড়ের প্রচন্ডতা বেশী হয় । সারিবদ্ধ বজ্রঝড় উপস্থিত হওয়ার কিছু সময় আগে থেকেই অবিরাম বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে ও সেইসাথে প্রবল বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে । সারিবদ্ধ বজ্রঝড়ের স্থায়িত্ব ৬-১৮ ঘণ্টা ও বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ১৫০ কিলোমিটার / ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে ।

শ্রেণীবিভাগঃ  উষ্ণ-আর্দ্র বায়ুর উত্থান ও উৎপত্তিগত  দিক দিয়ে বজ্রঝড় মূলত দুই প্রকার । যথা – ১. বায়ুপুঞ্জস্থ বজ্রঝড়২. সীমান্ত বজ্রঝড়
নীচে এদের সম্পর্কে আলোচনা করা হল –

১. বায়ুপুঞ্জস্থ বজ্রঝড়ঃ  উষ্ণমণ্ডলে এরূপ বজ্রঝড় সৃষ্টি হয়ে থাকে । বায়ুর উষ্ণতা ও আর্দ্রতা মোটামুটি একই ধরনের হয় বলে এইসব অঞ্চলে কেবল একপ্রকারের বায়ুপুঞ্জের মধ্যে বিভিন্ন অংশে তাপীয় পার্থক্যের ফলে এই বায়ুপুঞ্জস্থ বজ্রঝড় সৃষ্টি হয় ।
বায়ুপুঞ্জস্থ বজ্রঝড়কে আবার তিনভাগে বিভক্ত করা হয় । যথা –
ক) স্থানীয় বায়ুপুঞ্জস্থ বজ্রঝড়ঃ ক্রান্তীয় অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড উত্তাপের কারণে স্থানীয়ভাবে বায়ুতে পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয় । এর ফলে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ঊর্দ্ধে উঠে স্থানীয় বায়ুপুঞ্জস্থ বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হয় । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ক্রান্তীয় অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে এটি কালবৈশাখী নামে পরিচিত ।
খ) শৈলোৎক্ষেপজনিত বজ্রঝড়ঃ প্লবনশীল জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু তার গতিপথে উচ্চভূমি দ্বারা বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে উপরে উঠে গেলে তা প্রসারিত ও শীতল হয় । এর ফলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে স্থানীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতসহ শৈলোৎক্ষেপজনিত বজ্রঝড় সংঘটিত হয় ।
এবং
গ) উঁচু আকাশের বজ্রঝড়ঃ উঁচু অক্ষাংশ থেকে উষ্ণ বায়ুপ্রবাহের নিম্নগমন ও নিম্ন উচ্চতা থেকে শীতল বায়ুপ্রবাহের উপরে ওঠার পরে উচ্চতাভেদে উষ্ণতার পতনের হার বৃদ্ধি পায় । ফলে বৃষ্টিপাতসহ বজ্রঝড় সৃষ্টি হয় ।
২. সীমান্তজনিত বজ্রঝড়ঃ উষ্ণ ও আর্দ্র হালকা বায়ুপ্রবাহ কোনও শুষ্ক ভারী ও শীতল বায়ুপ্রবাহের উপরে উঠলে সেই উষ্ণ ও শীতল সীমান্ত বরাবর বৃষ্টিপাতসহ এইপ্রকার বজ্রঝড় সৃষ্টি হয় ।
বায়ুপুঞ্জস্থ বজ্রঝড়কে আবার তিনভাগে বিভক্ত করা হয় । যথা –
ক) শীতল সীমান্তজনিত বজ্রঝড়ঃ নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের শীতল সীমান্ত বরাবর বায়ুপ্রবাহ দ্রুতবেগে ধাবমান হলে এর সীমান্ত বরাবর বায়ুমন্ডলে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়ে অনতিবিলম্বে শক্তিশালী বজ্রঝড় গঠিত হয় ।
খ) উষ্ণ সীমান্তজনিত বজ্রঝড়ঃ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উষ্ণ সীমান্ত বরাবর শীতল বায়ুর উপরে ক্রমশ উঠতে থাকলে হালকা বৃষ্টিপাতসহ বজ্রঝড় সৃষ্টি হয় । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এইপ্রকার বজ্রঝড়  শীতল সীমান্তজনিত বজ্রঝড় অপেক্ষা মৃদু প্রকৃতির হয় ।
এবং
গ) প্রাক-সীমান্ত বজ্রঝড়ঃ অনেক সময় শীতল সীমান্তের কয়েক কিলোমিটার পূর্বে একটি সংকীর্ণ বলয় দেখা যায় । এই বলয়ে অবস্থিত বজ্রঝড় কোষগুলির সমন্বয়ী রেখা বরাবর ঊর্দ্ধগামী উষ্ণ বায়ু পরিচলন স্রোতের আকারে উপরে উঠে বৃষ্টিপাতসহ শক্তিশালী বজ্রঝড় সৃষ্টি হয়, যার বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ১৫০-২০০ কিলোমিটার অবধি হয়ে থাকে ।

অনুকূল পরিবেশের শর্তাবলীঃ বজ্রঝড় সৃষ্টির জন্য উপযোগী অনুকূল পরিবেশের শর্তাবলী হল নিম্নরূপ –
ক) বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতাঃ বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড উষ্ণতাজনিত কারণে আর্দ্র বায়ু উষ্ণ হয়ে ঊর্দ্ধগামী হয় এবং নিম্ন বায়ুমন্ডলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, যা বজ্রঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে ।
খ) উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সরবরাহঃ বজ্রঝড় সৃষ্টির জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সরবরাহ খুব  আবশ্যক । নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড উত্তাপ ও বিশাল জলভাগের অবস্থানের কারণে প্রচুর পরিমানে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পরিচলন স্রোতের প্রভাবে উপরে উঠলে বিকালের দিকে প্রায়শই বজ্রঝড় সৃষ্টি হয় ।
গ) মেঘের গভীরতাঃ বজ্রঝড় সৃষ্টির জন্য কিউমুলোনিম্বাস মেঘের গভীরতা ঘনীভবন তল থেকে হিমায়ন তল পর্যন্ত হলে বজ্রঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয় । পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল অপেক্ষা ক্রান্তীয় অঞ্চলে মেঘের গভীরতা বেশী হওয়ার কারণে এই অঞ্চলে বজ্রঝড় সংঘটনের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশী হয় ।
ঘ) অস্থির বাতাসের উত্থানঃ উষ্ণ ও আর্দ্র জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো উচ্চভূমি দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বা বিশেষ অবস্থায় তা শীতল বায়ুর উপরে উত্থিত হলে বজ্রঝড় সৃষ্টির অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি হয় । মধ্য অক্ষাংশে শীতকালে বহু সীমান্তজনিত বজ্রঝড় সৃষ্টি হয় ।

জীবনচক্রঃ বজ্রঝড় – এর জীবনচক্র মূলত তিনটি স্তরে বিভক্ত । যথা –
ক) প্রাথমিক স্তর (Initial Stage Or, Cumulas Stage): এটি বজ্রঝড় সৃষ্টির প্রথম পর্যায় । পাশাপাশি ভূমি বেশ উত্তপ্ত হওয়ার কারণে ভূমির উপরস্থ বায়ুতে পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয় । এই বায়ুতে যদি প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকে তাহলে তা উপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে একটি পুঞ্জমেঘ (Cumulas Cloud) সৃষ্টি হয় । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই স্তরে কেবল ঊর্দ্ধমুখী বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয়, যার গতিবেগ ১৫-৩০ কিমি/ঘন্টা পর্যন্ত হতে পারে । এই স্তরে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না ।
খ) পরিণত স্তর (Mature Stage): এই স্তরে পুঞ্জমেঘে ঘনীভবনের ফলে যে লীনতাপ সংযুক্ত হয়, তার ফলে পরিচলনের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায় ।  এর ফলে ঊর্দ্ধমুখী বায়ুপ্রবাহের গতিবেগও বেড়ে গিয়ে ১০০-১২৫ কিমি/ঘন্টা পর্যন্ত হতে পারে । জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু অতি দ্রুত উপরে উঠতে থাকে বলে ঘনীভবনের প্রক্রিয়ার হারও বৃদ্ধি পেয়ে পুঞ্জমেঘটি দ্রুত ঝড়োপুঞ্জ মেঘে রূপান্তরিত  হয় । এই ঝড়োপুঞ্জ মেঘ উপরের দিকে ১২-১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর হতে পারে । ট্রপোপজের কাছাকাছি উচ্চতায় বায়ু পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয় বলে ঝড়োপুঞ্জ মেঘের উপরিভাগ পূর্বদিকে প্রসারিত হয়ে কামারের নেহাই – এর মত আকৃতি নেয় । পরিণত স্তরে বজ্রঝড় কোষের ব্যাস সাধারণত ১-২ কিলোমিটার হয়ে থাকে, তবে অতিকায় বজ্রঝড় কোষ সুপার সেলের (Super Cell) ব্যাস কখনও কখনও ৮-১০ কিলোমিটারও হতে পারে । এই স্তরে মেঘের প্রতিবাত পার্শ্ববরাবর প্রবল ঊর্দ্ধমুখী বায়ুপ্রবাহ এবং অনুবাত পার্শ্ববরাবর প্রবল নিম্নমুখী বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয় । এই স্তরে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতসহ মুষলধারে প্রবল বৃষ্টিপাত হয় এবং কখনও কখনও এর সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে ।
এবং
গ) বিস্তরণ স্তর (Dissipation Stage): এটি হল বজ্রঝড়ের জীবনচক্রের শেষ পর্যায় । এই স্তরে সারা মেঘে নিম্নমুখী প্রবাহ দেখা যায় এবং সারা মেঘ থেকেই বৃষ্টিপাত হতে থাকে । এই অবস্থায় ঊর্দ্ধমুখী বায়ুপ্রবাহের পরিমাণ ক্রমশ কমতে কমতে একসময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে মেঘে জলীয় বাষ্পের সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায় । যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণও কমতে কমতে একসময় সম্পূর্ণ থেমে গিয়ে বজ্রঝড়ের জীবনচক্রের পরিসমাপ্তি ঘটে ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.